বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২০ June ২০২২

আখাউড়ায় তলিয়ে গেছে ১০০ হেক্টর ফসলি জমি


ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও হাওড়া বাধ ভেঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ১৫টি গ্রাম গত ৪ দিন ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। বানের পানিতে তলিয়ে গেছে ওইসব গ্রামের ফসলি জমি, সবজি ক্ষেত ও ছোট বড় অসংখ্য পুকুর। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্থানীয় অসংখ্য কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।

উপজেলা কৃষি ও মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্যমতে জানা গেছে, পৌর শহরসহ উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২শ হেক্টর জমিতে আউস ধান আবাদ করা হয়। অব্যাহত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ২টি ইউনিয়নে ৫০ হেক্টর আউশ জমি, ৫০ হেক্টর সবজি জমি সম্পন্ন তলিয়ে যায়। সেইসাথে ১০৯টি পুকুর ও বানের বানিতে ভেসে যায়। ওইসব পুকুর ভেসে গেছে ৮০ মে.টন মাছ যার মধ্যে ৪লাখ মাছের পোনা ও রয়েছে। মৎস্য খাতে প্রায় ১কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে কর্মকর্তারা প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন। তবে সবজি ও ধান আবাদে কি পরিমাণ কৃষিতে ক্ষতি হয়েছে, তার সঠিক পরিমাণ নিরুপন করতে দু’একদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের দুপাশের কালিকাপুর, বীরচন্দ্রপুর, আবদুল্লাহপুর, বঙ্গেরচর, রহিমপুর , সাহেবনগর ও হাওড়া বাধ ভেঙ্গে কর্নেল বাজার, ইটনা, আইড়ল, বড়লৌহঘরসহ ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে করে কৃষকের রোপা ফসলি জমি ও সবজি ক্ষেত মৎস্য পুকুর, বানের পানিতে ভেসে যায়।

এ অবস্থার ফলে মৎস্য চাষি ও স্থানীয় কৃষকরা এক প্রকার শঙ্কায় পড়েছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানায় পুনরায় কৃষিতে আবাদে তাদের কয়েকগুন খরচ বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে বাধ ভেঙ্গে আইড়ল, ইটনা, খারকোট ও লক্ষীপুরসহ ৪ গ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আছে। ওইসব গ্রামে শতাধিক পরিবার এখনো এক প্রকার পানি বন্দী হয়ে পড়ে আছে। উপজেলার কর্ণেল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আসতে পারছে না। বিদ্যালয় খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই বলে চলে। কৃষক মো. আব্বাস মিয়া বলেন, কিছুদিন আগে নানা প্রকারের সবজি বিক্রি শেষ করে নতুন ১ বিঘা জমিতে নানা প্রকার সবজি আবাদ করা হয়। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে এসব সবজির শেকড় পচে গেছে।

মাছ চাষি মো. রুস্তম মিয়া বলেন, এ বছর তিনি ৫টি পুকুর ইজারা নিয়ে নানা প্রজাতির মাছ চাষ করেছেন। পুকুর ইজারা, মাছের পোনা খাবারসহ তার প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু বাধ ভেঙ্গে তার ৪টি পুকুর পানিতে তলিয়ে সব মাছ ভেসে যায়। এতে তার ১৫ লক্ষ টাকার উপর ক্ষতি হয়েছে।

আলিয়া বেগম বলেন, পানির কারণে তিনি গত ৩ দিন ধরে একটি বিদ্যালয়ের গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। জানি না কত দিন আশ্রয় কেন্দ্রে থাকতে হবে। বাড়িতে পানি উঠায় তিনি খুবই চিন্তিত বলে জানায়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হচ্ছে বলে জানান। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপন চক্রবর্তী জানান, বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে উপজেলার ১৮২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরমধ্যে দক্ষিণ ইউনিয়নে ১৪২টি ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নে ৪০টি পরিবার রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ২টি ইউনিয়নে ১শ হেক্টর সবজি ও ধান জমি সম্পন্ন তলিয়ে যায়। আর যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে পানি কমে আসবে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। প্রণোদনা আসলে তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা বলেন ইতিমধ্যে ঢলের পানি কমতে শুরু করায় পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তত রয়েছে।

 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১