বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০১ July ২০২২

কোরবানিকে ঘিরে ব্যস্ত কুমিল্লার খামারীরা


কোরবানীর ঈদকে কেন্দ্র করে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কুমিল্লার খামারিরা। খামারিরা বলছেন, এবার জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পশু রয়েছে, তাই প্রতিবেশি দেশ ভারত হতে গরু প্রবেশ করলে ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগও বলছে, এবার কুমিল্লাতেই পশু রয়েছে চাহিদার চেয়ে বেশি।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এবার দুই লাখ আটচল্লিশ হাজার পশু কোরবানীর চাহিদা আছে। তার বিপরীতে এবার পশু রয়েছে দুই লাখ ৫৮ হাজার ৪৩২টি। প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় কোরবানীর জন্য যে পরিমাণ পশু রয়েছর তাতে চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ১০ হাজারের অধিক পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

খামারিরা দাবি করছেন, কোনো রাসায়নিক ওষুধ বা হরমোনজাতীয় ইনজেকশন প্রয়োগ না করে প্রতি বছরের মতো এবারও সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু, মহিষ, ছাগল মোটাতাজা করা হচ্ছে। জেলার সদর উপজেলার খামারি জাহিদ বলেন, আমরা গরুকে কোনো প্রকারের রাসায়নিক খাদ্য দিচিছ না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক দানাদার খাবার, ঘাস এসবই খাওয়ানো হচ্ছে। জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতির আরেকজন খামারী সোহাগ বলেন, আমার খামারে এই মুহূর্তে দেশী, শাহীওয়াল, ফিজিয়ান, ফিজিয়ান ক্রস জাতের গরু রয়েছে। আমার এখানে ৪০০ থেকে ১১০০ কেজি ওজনের পর্যন্ত গরু রয়েছে।

জেলার সদর উপজেলার উত্তর দূর্গাপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের খামারী নুর আলম জানান, আমার খামারে ১০০ এর অধিক বিক্রি উপযোগী গরু রয়েছে, যা আমি এবারের ঈদে বিক্রি করবো, ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা মূল্য পর্যন্ত গরু রয়েছে। শেষ মুহুর্তে বাজারে ভারতীয় গরু চলে আসলে আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না, লোকসানে পড়তে হবে আমাদের। তাই সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন থাকবে ভারতীয় গরু যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার।

তিনি আরো বলেন, এবার পশুর সঠিক দাম পেলে তাই আগামীতে গো-খামার আরো বাড়বে কিন্তু পশুর দাম না পেলে অনেক খামারী নিঃস্ব হয়ে পড়বে। খামারীরা আরো জানান, এবার জেলার অনেক গ্রাম অঞ্চলে বড় ষাড় পালন করছেন ছোট-বড় খামারীরা। চড়া দামের খর, খৈল, গমের ভাত, কাচা ঘাস, ভুষি ও নালী, খাবার দিয়ে এসব গরু মোটা-তাজা করাহচেছ। তাদের এসব গরু ঈদ হাটে বিক্রি করে তারা লাভবান হবেন।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে পশু কোরবানী নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগও নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর কুমিল্লার কর্মকর্তারা জানান, এবার সঠিক পদ্ধতিতে পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো সংরক্ষণ বিষয়ে ৪৪৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাজার গুলোতে রাখা হচেছ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম এছাড়াও মনিটরিং করা হচেছ গরু হৃষ্টপুষ্টকরণের সাথে জড়িত খামারীদেরও।

সার্বিক বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কোরবানীর ঈদকে ঘিরে এবছর আমাদের পর্যাপ্ত পশু মজুদ রয়েছে এবং উদ্বৃৃত্তও থাকবে। আমাদের এবার প্রায় ৮১ টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম বিভিন্ন উপজেলার হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাকে চাহিদমত সেবা দিবে। ভারত হতে এবার যাতে গরু না আসতে পারে সে ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আমরা কড়াকড়িভাবে বিষয়টি মনিটরিং করছি। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথেও এ বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১