আপডেট : ০৪ July ২০২২
করোনার কারণে গত বছর কোরবানির পশুর বাজার জমজমাট ছিল না। ব্যবসায় তেমন সুবিধা করতে পারেননি বেপারিরাও। এ বছর এই সময়ে করোনার প্রাদুর্ভাব আবার বাড়ছে, তেমনি আছে বৃষ্টির শংকাও। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির পশু আনতে যেমন সমস্যা, তেমনি হাটেও ক্রেতাদের সমাগম ও বেচাকেনা তুলনামূলক কম হওয়ার শংকায় আছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। একটু বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু পানি জমে যায়। দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে। কোরবানির বাকি আর মাত্র এক সপ্তাহ। এরই মধ্যে নগরের বিভিন্ন হাটে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন জাতের গরু। হাটগুলোতে বেচাকেনা তেমন শুরু হয়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দুই বছর করোনার কারণে ব্যবসা করতে পারিনি। মনে করেছিলাম এ বছর ভালো ব্যবসা হবে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে নগরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। যার কারণে হাটে মানুষ আসে না। বেচাকেনা কমে যায়। গরু থেকে যায়। শেষের কয়েকদিন অর্থাৎ ঈদের আগে সবাই গরু কিনতে আসে। তখন কম দামে গরু ছেড়ে দিতে হয়। আমাদের ব্যবসায় লোকসান হয়। গতকাল রোববার নগরের সাগরিকা বাজার, বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের হাট, কর্ণফুলী গরু বাজার, সল্টগোলা রেলক্রসিং সংলগ্ন হাট ও দক্ষিণ পতেঙ্গার বাটারফ্লাই পার্কসংলগ্ন খালি মাঠ ও পতেঙ্গা লিংক রোড সংলগ্ন খেজুর তলা মাঠের গরুর বাজারে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু আসতে শুরু করে। তবে বেচাকেনা এখনো তেমন জমে উঠেনি। সাগরিকা বাজারে প্রতিদিনই আসছে কুষ্টিয়ার গরু। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে গরুর গোসল, স্যালাইন, খড়, ভুষি খাইয়ে তরতাজা করার চেষ্টার অন্ত নেই বেপারীদের। বিবিরহাট গরুর বাজারের বেপারি আব্দুর রহিম বলেন, কয়েক বছরের লোকসান এ বছর কাটিয়ে ওঠার একটা সুযোগ ছিল। গরুও মজুত করেছি। কিন্তু বৃষ্টির ভয় কাজ করছে। বৃষ্টির কারণে গরুর দাম কমে যেতে পারে। ক্রেতারা চলে যেতে পারে খামারে। এদিকে রাজধানীতেও কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেনি এখনো। বিভিন্ন এলাকা থেকে এরই মধ্যে আসতে শুরু করেছে নানা ধরনের পশু। রাজধানীর ডেমরা আমুলিয়া মডেল টাউনের পশুর হাটে গরু নিয়ে আসা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আব্দুল কুদ্দুস বললেন, এখন তো গরু কেউ কিনবো না, খালি দাম হুনি চলে যাচ্ছে। আব্দুল কুদ্দুসের সুরে সুর মিলিয়ে একই কথা বললেন মেহেরপুরের গরু বিক্রেতা আলম। ১৪টি গরু নিয়ে গাংনী উপজেলা থেকে ঢাকার মেরাদিয়া পশুর হাটে আসা আলম বললেন, লোকজন আসছে দাম শুনে ছবি তুলে চলে যাচ্ছে। কোরবানির আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি এখনো জমে উঠেনি পশুর হাট। বিক্রেতারা বলছেন, গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম বেশি থাকবে। গতকাল রোববার রাজধানীর ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন ও মেরাদিয়া বাজার ঘুরে জানা যায়, গত দুইদিনে এই দুই হাটে কোনো পশু বিক্রি হয়নি। দুই হাট ঘুরে দেখা গেছে, গরুর সর্বনিম্ন দাম ৭৫ হাজার। আর গরুর সর্বোচ্চ দাম ৪ লাখ টাকা। আমুলিয়া মডেল টাউন হাটে যাওয়ার আগে চোখে পড়বে সু-সজ্জিত তোরণ। মাইকিং করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে সেখানে। তবে ক্রেতাশূন্য হাট। সবে পাঁচ শতাধিক গরু উঠেছে এ হাটে। সবে হাট বসছে বলে জানালেন কুষ্টিয়ার সাইদুল মন্ডল। তিনি বলে, ক্রেতারা আসে। আইসে চলে যায়। এত আগে লিয়ে পালবে না তো। মেহেরপুর থেকে গরু বিক্রির জন্য এসেছেন মিনারুল। ক্রেতারা যে দাম বলে তা তার প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম বলে জানালেন তিনি। বলেন, গরুর দাম তিন লাখ টাকা চাইলে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে। বাজার ভালো হবে না। গরুর খাবারের দাম বেশি। গরুর জন্য আগে ৩৫ কেজির বস্তা ভুষি কিনেছি ১৩০০ টাকায়। তা এখন দুই হাজার টাকায় কিনতে পারছি না। কুষ্টিয়া থেকে ১৮টি গরু নিয়ে এসেছেন আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কাস্টমার আসে দাম জিগায়। দাম বলি তাতে পড়তা হয় না। গ্রামের থেকে গরু কিনে নিয়ে আসছি। যে দাম বলে তাতে লাভ আসে না। গত বারের তুলনায় এবার দাম একটু বেশি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, গতবার যে গরু ১ লাখে বিক্রি হয়েছে সেটা এবার ১ লাখ ২০ হয়ে যাবে। কারণ গরুর খাদ্যের দাম বেশি। আমুলিয়া হাটের ইজারাদার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত মো. দিপু বলেন, পাঁচশ গরু উঠছে। এখনো হাট জমে উঠেনি। কোনো পশু বিক্রি হয়নি এখনো। এদিকে আমুলিয়া হাটের চেয়ে মেরাদিয়া হাটে পশুর সংখ্যা বেশি থাকলেও এখানে কোনো গরু বিক্রি হয়নি এখনো। কাস্টমার এখনো আসা শুরু করেনি বলে জানান নাটোর থেকে আসা গরু বিক্রেতা ইসমাইল ফকির। তিনি বলেন, তারাও কিনবানা এখন দেখবার আসছে। যাচাই করে আর কি?
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১