আপডেট : ০১ April ২০২৩
আবু হাসান শেখ, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
প্রায় ৩ শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলা টটুয়া। যা টটুয়ার বারুণী নামে খ্যাত। এ মেলাটি প্রতি বছর সরকারিভাবে ইজারা দেয়া হলেও অদৃশ্য কারণে ৪ বছর থেকে ইজারা দেয়া হচ্ছে না। তবে থেমে ছিল না মেলাটি, ধুমধাম উৎসবমূখরেই হয়েছে। শুধু দেয়া হয়নি ইজারা। ইজারা দেয়া না হলেও কিছু লোক ঢাকঢোল পিটিয়ে চাঁদা তুলতে কার্পণ্য করেনি। হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা। সে টাকায় স্থানীয় একটি কমিটির ব্যক্তি পকেট ভরেছে, কিন্তু সরকার হয়েছে রাজস্ব বঞ্চিত । বছরে মেলাটি থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় আড়াই লক্ষ্য টাকা। এ ৪ বছরে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারিয়েছে সরকার । এ বছরও স্থানীয় এক কমিটির লোকজন চাদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে টটুয়ার মেলাটি এ রকম অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে— প্রায় ৩ শ’ বছরের ঐতিহ্যবাসী এ মেলাটি। নীলফামারীর জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের টটুয়া নামকস্থানে এ মেলাটি প্রতিবছর হয়ে থাকে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল ইজারা দেয়া হয়েছিল। ইজারা মূল্য ছিল ২ লক্ষ ৮ হাজার ৩ শ’ ৫০ টাকা। এরপর গত ৪ বছর মেলাটি ইজারা দেয়া হয়নি। কিন্তু ইজারা দেয়া না হলেও মেলাটি প্রতিবছরেই ধুমধাম করে হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসবাবপত্রসহ হরক রকম জিনিসপত্র নিয়ে মেলায় দোকান দিতে এসেছে লোকজন। ব্যবসাও করেছে। স্থানীয় পূজা মন্ডবের কমিটি দোকান প্রতি চাঁদাও তুলেছে। শুধু বঞ্চিত হয়েছে রাজস্ব থেকে সরকার।
ইজারা দেওয়ার সময়কালীন একদিন’র জন্য মেলাটি চললেও। এ বছর ইজারা দেয়া না হলেও সম্প্রীতি ৩ দিন ধরে চলেছে মেলাটি। মেলার প্রতিটি দোকানে রশিদ দিয়ে চাঁদা তোলার মহোৎসব দেখা গেছে। প্রশাসন থেকে চাঁদা উত্তোলন বন্ধে কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তাহলে কি কমিটি প্রশাসন কে ম্যানেজ করে এ মেলা চালাচ্ছে। কৌশলে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে সরকারকে।
প্রকাশ্যে যে চাঁদা তুলছে তার ভিডিও ফেসবুকে ঘুরে বেরাচ্ছে। ফেসবুকে দাপুটের সাথে ভিডিওটি ঘুরে বের বেড়ালেও চাঁদা তোলার ভিডিওটি কি কারো নজরে পরেনি? নাকি দেখেও না দেকার ভান করেছে? সচেতন মহল মনে করছে — কেউ যদি দেখেও না দেখার ভান করে, তাহলে তো কিছুই করার নেই। তবে রাজস্ব থেকে সরকারকে বঞ্চিত করে প্রকাশ্যে চাঁদা তোলায় সচেতন মহল হতাশ। মেলা বসিয়ে যারা প্রকাশ্যে চাঁদা তুলেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সচেতন মহল উর্দ্ধতন কতৃর্পক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর—ই—আলম সিদ্দিকীর সাথে কথা হলে তিনি জানান— কোভিড—১৯ জন্য গত ক’বছর মেলাটি ইজারা দেয়া হয়নি। এ বছর অন্তিম মূহুর্তে মেলার অনুমতি পাওয়া গেছে। সময় না থাকায় মেলাটি ইজারা দেয়া সম্ভব হয়নি। চাঁদা তোলার বিষয়টি শুনেছি ও নজরে এসেছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১