বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১১ April ২০২৩

চেয়ারম্যানের স্ত্রীর নামে গরীবের ভিডব্লিউবি’র কার্ড


আবু হাসান শেখ, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
দূর্বল নারীদের সুবিধায় (ভিডব্লিউবি), সবল নারীদের সুবিধা। এক জনপ্রতিনিধি নিজের স্ত্রীর নামে এ কর্মসূচির সুবিধা ভোগ করছে। মাসে তুলে নিচ্ছে ৩০ কেজি করে চাল। এছাড়াও ওই জনপ্রতিনিধি বহুতল বাড়ি নিমার্ণকৃত ছোট ভাইয়ের বউকেও অন্তর্ভূক্ত করেছে এ কর্মসূচিতে। প্রতি মাসে দূর্বলের চাল এভাবেই ভোগ করছে এ জনপ্রতিনিধিটি। এ ঘটনাটি করেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়াম্যান। ক্ষমতার অপব্যবহার করে দূর্বলদের সুবিধায় নিজের স্ত্রী ও ভাবীর নাম দিয়ে সুবিধা ভোগ করার ঘটনাটি জানাজানি হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ কর্মসূচিটি পূর্বে ছিল দুস্থ্য মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) নামে পরিচিতি। কিন্তু বর্তমান এ কর্মসূচির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি)। অর্থাৎ দূর্বল নারীদের সুবিধা (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচি। এতে অস্বচ্ছল, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, নিম্নআয় করা ব্যক্তিসহ দুস্থ্যদের অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তারা প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পায়। এর ফলে দেশের গ্রামীন দুঃস্থ মহিলাদের আর্থ—সামাজিক উন্নয়নে একটি বৃহত্তর সামাজিক নিরাপত্তামূলক জোরদার হবে। যা নারীদের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, পুষ্টিহীনতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা দূর করে আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই কর্মসূচিতে ওই ইউপি চেয়ারম্যান স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের বউয়ের নাম দিয়ে চাল উত্তোলন করে খাচ্ছে। তাই অনেকে বলছে— দূর্বল নারীদের সুবিধায়, সবলের সুবিধা।
সম্প্রতি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচি’র উপকারভোগী বাছাই করা হয়। তাদেরকে কার্ড ও তিন মাসের চালও দেয়া হয়। এ ইউনিয়নে কর্মসূচিটিতে উপকারভোগী রয়েছে ৩ শ’ ৫৫ জন। উপকারভোগীর তালিকায় মোছাঃ মনিফা বেগম (ক্রমিক নং—২৬), তার স্বামীর নাম রয়েছে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। অন্যদিকে একই তালিকার ২৮ নং ক্রমিকে নাম রয়েছে মোছাঃ আকতারা বেগম, স্বামীর নাম মোঃ আলমগীর আলী। এ নাম দু’টির সূত্র ধরে অনুসন্ধানে দেখা যায় মনিফা বেগম হচ্ছে স্বয়ং ওই ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের বউ। আর আকতারা বেগম হচ্ছে ওই প্যানেল চেয়ারম্যানের ছোট ভাইয়ের বউ। ইউনিয়ন পরিষদ আইনে বলা আছে জনপ্রতিনিধিরা তাদের পরিবারের কোন সদস্যকে কোন ধরণের সরকারি সুবিধা ভোগ করাতে পারবে না। এ জনপ্রতিনিধি আইনটি জেনেই, নাকি না জেনেই তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যকে দুস্থ্যদের সেবায় ভাগ বসিয়েছেন? নাকি আইনটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গরীবের মালামাল স্ত্রী ও ভাইয়ের বউয়ের নামে ভোগ করছে?
সোমবার অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে— ওই প্যানেল চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আলমগীর আলী তিনতলা বাসার ভিত্তি দিয়েছেন। যা ইতোমধ্যে একতলার কাজ শেষের দিকে। জমি—জমাও রয়েছে বেশ। এক কথায় মধ্যবিত্ত পরিবার। এ জনপ্রতিনিধি আইন ভেঙ্গে এ কাজ করায় ওই ইউপির অনেক সদস্য বিরুপ মন্তব্য করাসহ তার প্রতি ক্ষোভ ও অসন্তোষটি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। কেউ কেউ রক্ষককে ভক্ষক বলছে।
অন্যদিকে ওই ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সাদাসিধাভাবে এ প্রতিবেদককে বলেন— কাত্তির্ক মাসে এ তালিকা করা হয়েছে, আর আমিতো কয়দিন হলো দায়িত্ব নিলাম। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার আগেই তালিকা হয়েছে। কিভাবে তাদের নাম তালিকায় আছে জানি না। আমি কি চেয়ারম্যান—মেম্বার হয়ে ভুল করলাম নাকি ? আমি ইউএনও স্যারের (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) কাছে আমার স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের বউয়ের নাম থাকার কথা স্বীকার করেছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য বলেন— ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান হাফি মারা যাওয়ার পর প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব নেন। প্যানেল চেয়ারম্যান সাহেব ক্ষমতা পেয়েছেন, তাই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের বউয়ের নাম দিয়েছে তালিকায়।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসাম্মৎ সাবিকুন্নাহার জানা—, উপজেলায় ৩ হাজার ৪'শ ৪৭ জন এ সুবিধা ভোগ করছে। ইউনিয়ন কমিটি থেকে তালিকা আসার পর উপজেলা কমিটি সেটি দেখে অনুমোদ দেয়। প্যানেল চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও ভাইয়ের স্ত্রী উপকারভোগী হলে লিখিত অভিযোগ দেন। আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়টি শুনেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর—ই—আলম সিদ্দিকী নাম দু’টি তালিকা থেকে বাতিলকরণ ও প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১