আপডেট : ১৬ May ২০২৩
ব.ম শামীম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
বর্ষাকে সামনে রেখে এখন খাল বিল, নদী নালায় নতুন পানি আসতে শুরু করেছে। নতুন পানির সাথে সাথে খাল, বিল, নদী নালায় আসবে নতুন মাছ। আর মাছ ধরতে চাঁই তৈরিতে ব্যস্ততা বাড়ছে কারিগরদের। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে চাই বুননে ব্যাস্ত সময় পার করছেন অর্ধশত কারিগর।
একদিকে নতুন পানি অন্যদিকে দেশীয় মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় খাল, বিল, নদী নালায় মাছের সংখ্যা বাড়ছে। দেশীয় মাছের স্বাদ নিতে গ্রামের খালে এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে চাই পেতে মাছ ধরছে গ্রামের মৎস্যজীবী, হতদরিদ্রসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।
তাই চাহিদার সামাল দিতে এবং মৌসুমী আয়ে চাঁই বুননে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। শুধু ঘরের কর্তা ব্যক্তি নয়, চাই বুনন কাজে সহযোগিতা করছে স্ত্রী, পুত্র, এমনকি পরিবারের বৃদ্ধ মা বাবারাও। তাদের সহযোগিতায় বুনন কাজে গতি পেয়েছে কারিগররা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, নয়াকান্দি গ্রামে অর্ধশত হিন্দু পরিবারের কেউ বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা ঘরের বারান্দায়, কেউবা আবার বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় বসে আপন মনে বাঁশ কাটছেন আবার কেউ বাশেঁর সলা তৈরি করছেন। সব মিলিয়ে চাঁই তৈরীতে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁই কারিগররা। এ কাজে বসে নেই কেউই।ধাপে ধাপে চাঁই তৈরীর কাজ শেষে সেগুলো থরে থরে সাজিয়ে রাখাসহ নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন তারা। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে পরিবারের সবাই হাত লাগিয়েছেন এসব কাজে। জানাযায়, নয়াকান্দি গ্রামের চাঁই কারিগররা বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আবার কেউ কেউ বড় ব্যবসায়ীদের কাছ খেকে দাদন নিয়ে বাঁশ কিনে চাঁই তৈরি করে থাকেন। এসব চাই বিক্রি করেই নয়াকান্দি গ্রামের অর্ধশত পরিবারের সংসার চলে।
চাই বুননের কারিগর উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র সরকার বলেন, প্রতি বছর মাঘ মাসে চোখের দৃষ্টিতে অনুমান করে ১৮০ থেকে ২০০ টাকার প্রতিটি বাঁশ কিনতে হয়। এরপর বাঁশ সাইজ মত কেটে পানিতে ভিজিয়ে রেখে শলা তৈরি করতে হয়। প্রতি সপ্তাহের ৩দিন বাঁশ থেকে শলা তৈরি করি ওই শলা তৈরির ফােঁক বাকি ৪দিন দিনমজুরি কাজ করে বর্তমানে সংসার চলাচ্ছি। সরকারি সহায়তায় সহজ শর্তে এবং বিনা সুদে ঋণ পেলে একটু ভালো ভাবে জীবন কাটাতে পারতাম।
চাই বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে প্রতিটি চাই গড়াসহ ( চাইয়ের দু—পাশের বেড়াসহ) ১২০/১২৫ টাকা বিক্রি করছি। গড়া ছাড়া বিক্রি হচ্চে ১০০ টাকায়। তিনি আরো বলেন, আমি নিজে চাই বানাই না। কারিগরদের কাছ থেকে কিনে এনে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করি। এ থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার ও ছেলে মেয়ের লেখা পড়ার খরচ চালানো দিন দিন কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ দেওয়ান বলেন, চাই তৈরি কুটির শিল্পের আওতায় পড়ে। আর্থিক সমস্যার কারণে জেগে উঠতে পারছে না এ শিল্প। সরকারি সহায়তা পেলে তারা আরো স্বচ্ছল হতে পারত।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১