আপডেট : ১৮ May ২০২৩
সাইফুল ইসলাম, সিংগাইর:
ঢাকার অতি সন্নিকটে মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর) আসন। সংসদীয় আসন নম্বর ১৬৯। ১৯৯০ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। এ আসনটি বিএনপির দূর্গ হলেও বর্তমানে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে। এ আসন থেকে নির্বাচিত দুবারের সংসদ সদস্য দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম আবারও এ আসনে মনোয়নে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে তার অনুসারীরা দাবি করেন। তবে আসনটিতে আওয়ামী লীগের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী মাঠে সরব থাকায় তিনি খুব চাপের মধ্যে রয়েছেন।
এদিকে ,ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মধ্যে কোন্দল, একাধিক প্রার্থী, উপজেলা পরিয়দ ও জেলা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচেনে সিংগাইরে দলীয় প্রভাবশালী প্রাথীর ভরাডুবি ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে এমপির সম্পূর্কের দূরত্ব, পূর্ণাংগ কমিটি না হওয়া , ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ত্যাগী নেতা কর্মী বাদ পড়া, পরাতন নীতি বর্জন এসব বিশৃঙ্খলা হওয়ার সুযোগ কে কাজে লাগাতে চান বিএনপি । বিএনপি মাঠের রাজনৈতিতে নিরব থাকলেও গোপনে গোপনে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এআসনে বিএনপির দুইজন প্রার্থী রয়েছেন শান্ত ও রিতা খানম। বিএনপির দুইজন প্রার্থীই প্রভাবশালী। ইজ্ঞিঃ মঈনুল ইসলামখান শান্ত প্রয়াত পিতা সামছুল ইসলাম খান নয়া মিয়া (সাবেক) এমপি পদাংক অনুসরণ করেই তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আরেক জন বিএনেির হেভিয়েট প্রার্থী শিল্প পতি সাবেক মন্ত্রী মুন্ন মিয়ার কন্যা আফরোজা খানম রিতা । সে দলের দূর্দিনে অর্থও সাহস দিয়ে সবসময়ই দলের জন্য কাজ করেছেন। সেই কারণে বিএনপির৷ টিকেট তিনি লুফে নিতে পারেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থীরও রয়েছে মহাজোট এ্যাকশন প্লানিং যে কারনে আগামী নির্বাচনে আসনটিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জাপার দুজন প্রার্থীর মধ্য আছেন গোলাম সারোয়ার মিলন অপরজন সাবেক এমপি সৈয়দআব্দুল মান্নান । তিনি মিলনের চেয়ে অর্থে এগিয়ে থাকলেও শিক্ষায় তিনি পিছিয়ে।
সিংগাইর—হরিরামপুর উপজেলা ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে মোট ২৪টি ইউনিয়নের নারী—পুরুষ মিলে চার লাখ ৪১ হাজার ৬২৪ ভোটার নিয়ে এ আসন টি গঠিত। । এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। এবারো আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট হলে জাতীয় পার্টি এ আসনটি জাতীয় পার্টির জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত হতে পারে। ।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্লিন ইমেজ সম্পূর্ণ প্রাথীরা মাঠে সরব থাকায় বর্তমান এমপি বেশ চাপের মধ্য আছেন। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে মমতাজ বেগম এমপির হটলাইন আছে এ আসনটি তাকে ছাড়া আর কেউ পাবে না তার অনুসারীদের ভাষ্য মতে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী জয়লাভ করলেও শোচনীয় পরাজয় হয় এই উপজেলায়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর এই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় আসনটিতে এবার বেশ চাপে রয়েছে আওয়ামী লীগ।
তবে চাপে থাকলেও বিগত বছরের রাজনৈতিক কর্ম কান্ড ও মনোনয়নের অভিজ্ঞতা হতে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এমপি মমতাজ বেগম তার দিক থেকে রয়েছেন শক্ত অবস্থানে । এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল ক্লিন ইমেজ সম্পূর্ণ , সৎ সজ্জন শীল সংগঠক তৃণমূল নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষের নিকট রয়েছে তার ব্যাপক গ্রহণ যোগ্যতা। আর তিনি সর্বদাই মাঠ চুষে বেড়াচ্ছেন। তবে তৃণমূলের ত্যাগী নেতা কর্মী, ধর্মভিরু মানুষের ভোটের আওয়াজ তার দিকে ঝুঁকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই আসনে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম ছাড়াও শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক তারকা ফুটবলার দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল। আরো মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং দু’বারের হরিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার সালাম চৌধুরী।
সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম সাংবাদিক দের জানান , তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এখন ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী তার সঙ্গে আছেন। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনেপরপর দুইবার নৌকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন । প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক ইচ্ছায় এআসনে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, যা গত ৪০ বছরেও হয়নি। তার বিশ্বাস আগামী নির্বাচনেও জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দিবেন । একসময়ে খেলার ও রাজনৈতিক মাঠ কাঁপানো
মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল বলেন, বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত আসনটি বর্তমানে আওয়ামী লীগের যে শক্ত অবস্থান, সেটা আমার হাত ধরেই হয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকেই সিংগাইর হরিরামপুরসহ সারা মানিকগঞ্জে সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনের গতি ফিরে আসে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েও জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেই। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। মহান আল্লাহ তায়ালা সহায় থাকলে অবশ্যই সফলকাম হবো ইনশাআল্লাহ।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১