বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২০ May ২০২৩

সিংগাইরে ইটভাটার দূষিত গ্যাসে ঝলসে গেছে কৃষকের প্রায় শত বিঘা ধান


সাইফুল ইসলাম, সিংগাইর প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের রিফাইতপুর চকে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ঝলসে গেছে কৃষকের প্রায়শত বিঘা জমির পাকা ধান। কৃষকের পাকা ধান ইটভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় নষ্ট হওয়ায় শতশত কৃষকরা দিশেহারা পাগলপায়। সারাবছর লক্ষ লক্ষ টাকার সার, বিষ, পানি দিয়ে এ ধান উৎপাদন করে থাকে কৃষকরা। ঠিক ধানপাকার সময়ে ভাটার দূষিত তাপে ধান ঝলসে যাওয়ায় কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় কৃষকদের পরিবারে চলছে হাহাকার। কয়েক বছর ধরে ইট ভাটায় কৃষকের স্বপ্নপাকা ধান পুড়ে শেষ হলেও তারা পাচ্ছে না কোন স্থায়ী প্রতিকার কিংবা ক্ষতিপূরুণ।
স্থানীয়রা সূত্র জানা গেছে উপজেলার উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের রিফাইতপুর মৌজার চান্দহর, চালিতাপাড়া, চকে ধানের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে ।এ এলাকার বেশির ভাগ মানুষ কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল । তাদের সারা বছরের খাদ্যের যোগান হয়ে থাকে এসব ফসলি জমি থেকে। একদিকে কৃষি জমি ধবংস হচ্ছে অবৈধ মাটি ব্যবসায়িদের ভেক্যুর তান্ডবে অন্যদিকে ইটভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় নষ্ট হচ্ছে কৃষকের হাড়ভাংগা খাটুনির সোনার ফসল পাকা ধান। এ যেন মারার ওপর খাড়ার ঘা।
স্থানীয় কৃষকদের বাধার মুখে রিফাইতপর তিন ফসলি জমিতে গড়ে তুলেছেন সার্ক ব্রিকসসহ ৫- ১০টি ইটভাটা। পরিবেশ অধিদফতরের গাফিলতির কারণে তিন ফসলি জমিকে একফসলি দেখিয়ে পরিবেশের ছাড়পত্রনিয়েই এসব ভাটায় দেদারচ্ছে পোড়ানো হচ্ছে ইট । হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক স্থানীয় প্রশাসন ফসলি জমিতে ইট ভাটা বন্ধে নড়চড়ে বসে। প্রথম দিকে কয়েক দফায় অভিযান চালান । কিন্তু কয়েক দিন যাইতে না যাইতেই হরদমে ইটভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে।
রিফাইতপুর গ্রামের কৃষক আক্কাস মেম্বার জানান, আমি এবছর ২৫ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছি। এতে খরচ পড়েছে প্রায় ১৫- ২০ হাজার টাকা। কিছুদিনের মধ্যে ধান ঘরে তোলা যেত। এরই মধ্যে ইটভাটার আগুনের তাপে পুড়ে গেছে। স্বপ্নের লালিত ফসল। কষ্টে অর্জিত ফসল ঘরে তোলার ঠিক মূহুর্তেই ধোয়ায় ধান ঝলসে চিটা হয়ে যাওয়ায় চিন্তায় পড়েছেন । ধান ঘরে না উঠলে পরিবার পরিজনের খাদ্যের যোগান নিয়েও শঙ্কায় আছেন তিনি।
একই গ্রামের কৃষক শাহজাহান, আলী মুদ্দিন, মজিবর, শাহজাহান, আয়নাল ও হাসিম জানান, ফসলি জমির ওপর এই ভাটাটি গড়ে ওঠার শুরু থেকে স্থানীয় কৃষকরা প্রতিবাদ করেও সুফল পাননি। অনেক বাধার পরেও অদৃশ্য কারণে এ ভাটায় ইট পোড়ানো হয়েছে। এরই মাঝে ওই ভাটার পাশে তাদের ফসলি প্রায় ৮০ বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। গত বছর তারা বিঘা প্রতি প্রায় ২৫ মণ হারে ধান পেয়েছিলেন। এ বছর উঠতি ধান চিটা হয়ে যাওয়ায় তাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। তারা প্রশাসনের নিকট উপযুক্ত ক্ষতিপূরণসহ ইটভাটা বন্ধের জোর দাবি জানান।
৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য কলিমুদ্দিন সিকদার জানান, সার্ক ব্রিকসের ইট পোড়ানোর আগুনের তাপে ভাটা এলাকার পাশের প্রায় ৮০ বিঘা ইরি ধান পুড়ে গেছে বলে কৃষকরা জানালে তিনি সরেজমিনে গিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং ভাটা মালিককে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে বলেন।
চান্দহর ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বাদল বলেন, ধান পুড়ার অভিযোগ পেয়েছি। ভাটা মালিক ফরিদ হোসেন-কে খবর দেওয়া হয়েছে, আগামী বরিবার (২১ মে) এ বিষয় বসা হবে। সুষ্ট সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়কে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেছি।
সিংগাইর উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তা দিপন দেবনাথ জানান, বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে শুনেছি, তবে কেউ কোন অীভযোগ করেনি। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১