আপডেট : ২২ May ২০২৩
তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী প্রতিনিধি:
বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ, তাই কতৃপক্ষের নির্দেশে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় সাত মাস ধরে পরিত্যক্ত ভবনের সাথে ছোট একটি টিনের একচালা ঝুঁপড়ি ঘরের বারান্দায় দীর্ঘদিন থেকে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। সেখানে নেই দরজা—জানালা, নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ঘরের মেঝেতে রয়েছে অসংখ্য ধুলা বালু। শিক্ষকদের বসার জায়গাও নেই। নেই পয়নিস্কাশনের সুব্যবস্থা।
এটি নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নাউতারা গ্রামের কৈপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সুত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। আর চার শ্রেণী কক্ষের একটি ভবন নির্মিত হয় ১৯৯৩ সালে। সাত মাস আগে উপজেলা প্রকৌশল ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। বিদ্যালয় ভবনের তিনটি শ্রেণিকক্ষে ক্লাস না হলেও শিক্ষকরা পরিত্যক্ত ভবনের লাইব্রেরি বা অফিস কক্ষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ ও অভিমান করে বলেন, বৈশাখের প্রখর রোদে ক্লাস করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বৃষ্টি আসলে জামা, কাপড় ও বই খাতা ভিজে যায়, ব্যাহত হয় পাঠদান। দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি একেবারে কমে গেছে। নতুন ভবন দ্রুত র্নির্মাণ করা না হলে শিক্ষা কার্যক্রম থেমে যেতে পারে। এসব দেখার কেউ নেই। ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মারিয়াম জানান, সামনে বর্ষা কি যে হবে আল্লাহই জানে।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আকতার বলেন, ভবন না থাকায় আমাদের অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া (পাঠগ্রহণ) করতে হচ্ছে। প্রচন্ড রোদের কারণে টিনের চালা খুবই গরম হয়, প্রখর তাপে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শ্রেণী কক্ষে (ক্লাসে) কমেছে উপস্থিতি। একটু বৃষ্টি হলেই টিনের ফুটা দিয়ে পানি পরে বই খাতা সব ভিজে যায়,পড়াশুনা করতে খুব অসুবিধা হয়। এ সমস্যার কথা স্যারদের বার বার বলেও কোন কাজ হচ্ছে না।
ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরা শারমিন বলেন, ভবন না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গরমের মধ্যে ক্লাস করতে শিশুদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা পাঠদানের সময় অমনোযোগী হয়। শ্রেণী কক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও দিন দিন কমে যাচ্ছে।
অভিভাবক আব্দুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়টি উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশল অফিস অনেক আগেই পরিত্যাক্ত ঘোষনা করেছেন। বিদ্যালয়ের শ্রেনীকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ। শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে টিনের একটি একচালা ঝুঁপড়ি ঘরের বারান্দায় অতিকষ্টের মধ্যে পড়ালেখা করছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার পরিবেশ ও শ্রেণীকক্ষ না থাকায় বাচ্চারা স্কুলে যেতে চায় না। সরকার যদি অতিদ্রুত নতুন ভবনের ব্যবস্থা না করে তাহলে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী থাকবে না। অন্য বিদ্যালয়ে চলে যেতে বাদ্য হবে।
এ ব্যাপারে, কৈ—পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজা সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে অনেক কষ্ট করে ১৫০জন শিক্ষার্থীর পাঠদান কোন রকমে চালিয়ে আসছি। শ্রেণী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্ত কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূর মোহাম্মদ জানান, ভবনটি অনেক পুরনো (৩০ বছর) ও জরাজীর্ণ হওয়ায় তা পরিত্যাক্ত ঘোষনা করেছেন উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশল। কিন্ত শিশুদের লেখাপড়া যেন ব্যাঘাত না ঘটে সে জন্য টিনের চালা ঘরে আপাতত পাঠদান করা হচ্ছে। আশা করি, সরকারী বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত ভবনটি নির্মাণ করা হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকার বলেন, বিদ্যালয়টির জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা খুবই জরুরী। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেছি। আশা করি বরাদ্দ পেলে দ্রুত ভবন নির্মাণ করা হবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১