বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ৩১ August ২০২৩

নাগেশ্বরীতে ফের বেড়েছে নদ-নদীর পানি চরম দুর্ভোগে বানভাসীরা


হাফিজুর রহমান হৃদয়, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম): 

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর কয়েকদিনের ভাড়ি বৃষ্টিপাতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ফের বেড়েছে দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, সঙ্কোষ ও গঙ্গাধরসহ সবকটি নদ-নদীর পানি। প্লাবিত হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এসব এলাকার সহশ্রাধিক মানুষ। বেশকিছু এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বাইরে বের হতে পারছেন না তারা। ফলে দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বানভাসীরা। বন্যা কবলিতরা বলছেন বারবার পানিতে ভাসলেও নেই সরকারি কিংবা-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে চলতি বন্যায় বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন পানিবন্দী মানুষ। রান্নাঘরে পানি ওঠায় চুলোয় আগুন জ্বালাতে না পেরে একবেলা কিংবা আধাবেলা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। এদিকে রাস্তার উপর পানি থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে স্কুল-কলেজে যেতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। কাজে বের হতে পারছেন না খেটে খাওয়া মানুষ।

উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের কপিলের চরের আব্দুল হামিদ জানান, তার ছেলে ৫ম শ্রেণিতে পড়েন। একবুক পরিমাণ পানি পাড় হয়ে কিংবা সাঁতরে পানি পাড়ি দিতে হয়। তাই তার ছেলে এখন স্কুলে যায় না।

একই অবস্থা ওই এলাকার শুকুর আলীর মেয়ে আল্পনা খাতুনসহ অনেকের। তারা আরও জানান নৌকা কিংবা কলাগাছের ভেলায় চরে যেতে হয় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। ফলে ঘরের ভেতরেই দিন-রাত কাটে তাদের।

নুনখাওয়া ইউনিয়নের ব্যাপারীরচর এলাকার সাইফুল ইসলাম বাচ্চু মিয়া জানান, সামান্য পানি হলেই পানিবন্দী হতে হয় তাদের এলাকায় বেশ কিছু পরিবারকে। ফলে কাজে বের হতে পারেন না তারা।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ধনীটারী এলাকার আব্দুল মজিদ জানায় তাদের এলাকা দিয়ে নাগেশ্বরী পৌরসভা যাওয়ার রাস্তায় একটি কাঠের সাঁকো থাকলেও সেটিও ভেঙ্গে গেছে এক অংশ।
ফলে এক কোমর পানিতে ভিজে বাই সাইকেল ঘারে করে পারাপার হতে হয় তাদের। ছেলে-মেয়েরা স্কুল কলেজে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী নাগেশ্বরীর নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়লেও এখন কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার এবং দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা জাহান বলেন, এখনও নদ-নদীর পানি বিপদসীপার নিচে আছে। এরপরও আমাদের ইউপি চেয়ারম্যান যারা আছেন তাদেরকে বলা আছে। আমরাও খোঁজখবর রাখছি। আমাদের যথেষ্ঠ ত্রাণ মজুদ রয়েছে। তাই যেকোনো প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন বন্যা কবলিতদের পাশে থাকার জন্য প্রস্তুত।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১