আপডেট : ০২ September ২০২৩
মো.সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড়: নব কুমার দাস অদম্য এক দরিদ্র মেধাবী ছাত্রের নাম । পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বোদা পৌর শহরের থানাপাড়ার মেধাবী দরিদ্র ছাত্র তিনি। পড়াশুনার পাশাপাশি কাজ করতেন বাবার ফলের দোকানে। দরিদ্রতা বা ফলের দোকানে কাজ কোনোটাই তাকে পড়াশুনা থেকে দূরে রাখতে পারেনি। সব প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে প্রথম শ্রেণিতে করেছেন এমএ পাস সে বোদা পৌর শহরের নিউ মার্কেটের সামনে ফুটপাতে ফল বিক্রি করে সংসার ও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে শত প্রতিকুলতায় যুদ্ধ করে পড়াশোনা করে ভাল কিছু করতে চায় নব কুমার। এ ব্যাপারে নব কুমার বলেন, ”সততা ও ন্যায়- নৈতিকতা ধরে রেখে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। দরিদ্রতা আমার অহংকার, কষ্ট করে পড়াশুনা করে বড় হতে চাই এবং দরিদ্র সমাজে আলো ছড়াতে চাই। এই সাফল্য আমার একার নয়। পরিবার, শিক্ষক, শুভানুধ্যায়ীদের, যারা আমাকে সবসময় উৎসাহ যুগিয়েছেন, দিক-নির্দেশনা দিয়ে পাশে থেকেছেন। আমি তাদের কাছে ঋণী হয়ে থাকলাম। আমি সবার কাছে দোয়া চাই। সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ভাল কিছু করতে চাই।” সে সম্প্রতি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঠাকুরগাঁও সরকারী কলেজ থেকে ইতিহাস বিভাগে প্রথম শ্রেণি পেয়ে মাষ্টার্স পাস করেছে। নব কুমার ২০১৯ সালে জিপিএ-৩.২৮ পেয়ে অনার্স পাস করেন। ২০১৩ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৪.১৯ ও ২০১৫ সালে ৩.৫০ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। এখন তার লক্ষ্য বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ভাল একটি সরকারী চাকুরী পাওয়ার। দরিদ্র পরিবারের ৩ ভাই বোনের মধ্যে দ্বিতীয় নবকুমার। তাঁর বাবা একজন দিন মুজুর। টানাপোড়নে বাবার এই সামান্য আয়ে সংসার চলে না। লেখাপড়ার খরচ জোগানো বাবার জন্য কষ্টকর। এজন্য সে নিজের অদম্য প্রতিভা নিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে এবং বাবা ও ভাই বোনদের আর্থিকভাবে সাহায্য করতে একটি ফলের দোকান শুরু করে। নব কুমারের লেখাপড়ার রেজাল্ট শুনে তার বাবা দেবেন দাস খুবই খুশি হয়েছেন। নব কুমারের বাবা জানান, ”তার ছেলে নিজে দোকান করে পড়াশোনা চালাচ্ছে পাশাপাশি নিজের চেষ্টা ও অন্যের সহায়তা করে এতদুর আসতে পেরেছে। সারাদিন ফলের দোকান করে গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করত। ”
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১