বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৫ September ২০২৩

”খুব কষ্টের জীবন আমার, নিজের বলতে আমার একটা ঘরও নেই”


কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের কারীগঞ্জে বিশেষ চাহিদা সম্পূর্ণ ২৭ ইঞ্চি উচ্চতার সাক্ষী খাতুনের একমাত্র কন্যা সন্তান মরিয়মের বয়স এখন মাত্র ১১ মাস। মা বিশেষ চাহিদা সম্পূর্ণ হলেও শিশু মরিয়ম সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে জন্মগ্রহন করেছে। বছর না পেরোতেই শিশু কন্যা মরিয়ম উচ্চতায় ছুয়ে ফেলেছে তার  মাকে। একটি একটি করে দিন যাচ্ছে মরিয়ম বড় হচ্ছে, অপরদিকে সাক্ষী খাতুনের কপালে চিন্তার ভাঁজ  বাড়তে থাকছে।

শারীরিক প্রতিবদ্ধকতার থাকা সত্ত্বেও শিশু কন্যা মরিয়মকে পরম মমতায় লালিত পালিত করছেন মা সাক্ষী খাতুন। মেয়ে বড় হওয়ার সাথে সাথে মায়ের দুশ্চিন্তাও যেনো  পাহাড় সমান হয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য মায়ের মতো সাক্ষী খাতুনও স্বপ্ন দেখেন মেয়ে মরিয়মকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। সময়মত তাকে সুপাত্রস্থ  করবেন।এই স্বপ্ন তার জীবনে কতখানি সহজ হয়ে  ধরা দেবে তা তিনি জানেন না।  

সাক্ষী খাতুন জানান, ”খুব কষ্টের জীবন আমার। নিজের বলতে আমার একটা ঘরও নেই। মেয়েকে নিয়ে  এখন আমার যত ভাবনা। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও নিজে কিছু করতে চাই। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি আমার পাশে এসে দাড়ায় তাহলে হয়তো মেয়েকে সাথে নিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে চলতে পারবো।”

ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দরিদ্র পিতা-মাতার ঘরে দুই পা বিহীন  প্রতিবন্ধী সাক্ষী খাতুনের জন্ম হয়। সে উপজেলার জামাল ইউনিয়নের উল্লা গ্রামের নুর ইসলাম এর সাত ছেলে ময়ের মধ্যে সবার বড়। জন্মের পর থেকেই হতদরিদ্র পিতার সংসারে প্রতিবন্ধী সাক্ষী খাতুন অবহেলা অনাদর ও নানা সংকটে বড় হতে থাকে। জীবনের এক পর্যায়ে এসে একই উপজেলার তেলকুপ গ্রামের কাঠমিস্ত্রি আলম হোসেনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে তার জীবনের আরেকটি সূচনা হয়। সংসার  জীবনেও সাক্ষী খাতুনের কপালে জোটেনি সুখের সন্ধান এবং ভাত কাপড়ের নিশ্চয়তা । যে কারণে স্বামীর সংসার ছেড়ে আবারো ফিরতে হয় দরিদ্র পিতার সংসারে। জীবনের এ পর্যায়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন সাক্ষী খাতুনের দিন চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল ঐ সময় সে উপলব্ধি করলো নিজের মধ্যে আরেকটি প্রানের অস্বিত্ব। সময় পেরিয়ে স্বাক্ষীর কোলজুড়ে ভুমিষ্ট হলো ফুটফুটে সুস্থ  এক কন্যা সন্তান।

মা সাক্ষী খাতুনের নিজের জীবন জীবিকা ঠিকঠাকভাবে  চলে না তার উপর একমত্র শিশু সন্তানকে লালন পালন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। কেননা স্বামীর সাথে সম্পর্ক ইতি না টানলেও তিনি বউ বাচ্চার কোনো খোজ খবর রাখেন না বলে জানান স্বাক্ষী।

সাক্ষী খাতুনের বাবা নুর ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ”আমার অভাবের সংসারে প্রতিবন্ধি মেয়ে ও নাতনীকে নিয়ে আমার যত চিন্তা। সরকারি সাহায্য সহযোগিতার যৎসামান্য পেলেও তা খুব বেশি কাজে লাগেনা।সাক্ষীর যদি একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেত তাহলে  বোধ হয়ওর জীবনটা ভালো চলতো। ”

উল্লা গ্রামের বাসিন্দা মমিন হোসেন বলেন, ”ছোটবেলা থেকেই সাক্ষী খাতুনকে দেখছি।খুব অসহায় সে।  সমাজের সামর্থ্যবান ও দায়িত্বশীল লোকেরা যদি একটু সুদৃষ্টি দিতেন তাহলে হয়তো মা ও মেয়ে ভালো থাকতে পারত।”

ইউপি সদস্য ফশিয়ার রহমান বিশ্বাস বলেন, ”সাক্ষী খাতুনকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা  দেওয়া হয়। কর্মসংস্থান মূলক কিছু করে দেওয়া গেলে  তার জন্য ভালো হতো। তবে এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন,  সাক্ষী খাতুনকে সমাজসেবা  থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। ভবিষ্যতেও নিয়ম অনুযায়ী এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১