আপডেট : ১৭ October ২০২৩
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ পায়ে শক্তি কম থাকায় ঠিকমতো হাঁটতে পারে না। কারো একটি হাত নেই। আবার কারো দুই হাত থাকলেও শক্তি নেই। কারো দৃষ্টিশক্তিও কম। তবুও ক্রিকেট ভালোবেসে মাঠে নেমেছেন। মারছেন চার - ছয়। মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাট সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। ওই মাঠে চলছে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক সিরিজ। আয়োজন করেছে লালমনিরহাট ইউনাইটেড গোল্ডেন সিটিজেন ফাউন্ডেশন। আয়োজকরা জানান, মাঠে যারা খেলছেন তাদের মধ্যে কারো এক হাত নেই, পায়ের সমস্যা থাকায় কেউ হাঁটেন খুঁড়িয়ে। কেউ জন্মগতভাবে শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এমন ক্রিকেটাররা খেলছেন মাঠে। তারা আগামী ১৮ অক্টোবর ফাইনাল খেলার মধ্যে দিয়ে তিনটি টি-২০ ম্যাচ শেষ করবেন। এ সিরিজকে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবির ডিজেবল ক্রিকেট কমিটি। সিরিজে বাংলাদেশ দলে সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটাররা অংশ নিয়েছেন। অপর দিকে ভারতের হায়দারাবাদ বোর্ড অব ক্রিকেট ডিজেবল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে দেশটির বিভিন্নস্থানের খেলোয়াড়রা এ সিরিজে অংশ নিয়েছেন। তাদের বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি শারিরীক প্রতিবন্ধকতা। মাঠে নেমে মারছে চার - ছয়। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট সিরিজে আনন্দ উপভোগ করছেন উভয় দেশের ক্রিকেটার, দর্শকসহ সংশ্লিষ্টরা। দর্শকরা জানান, অসচ্ছল শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও তারা যেভাবে মাঠে খেলাধুলা করছেন এতে নতুন প্রজন্মের এটি শিখনীয় বিষয়। খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা করলে মন ও শরীর দুটোই ভালো থাকে। এছাড়া তরুণ সমাজকে নষ্টের পথ থেকে ফিরে আনতে খেলাধুলা জরুরি। তাই আমাদের সন্তানদের খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়াতে হবে। লালমনিরহাট ইউনাইটেড গোল্ডেন সিটিজেন ফাউন্ডেশনের (অধিনায়ক) সিহাব মণ্ডল বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যদি আমাদের সুযোগ দিত তাহলে শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও যে দেশের সুনাম অর্জন করতে পারে তারা সেটা দেখিয়ে দিতে পারতো। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আমাদের দিকে লক্ষ্যই দিচ্ছে না। আমরা অনুরোধ করব তাদের সুদৃষ্টি আমাদের দিকে যেন থাকে। ভারতের ডিজেবল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (অধিনায়ক) জোতিরাম গুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ খুব অতিথি পরায়ণ। তাছাড়া তাদের দেশপ্রেমের কোনো সীমা নেই। শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও তারা দেশের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। সত্যি এটি অনেক বড় গর্ভের বিষয়। লালমনিরহাট ইউনাইটেড গোল্ডেন সিটিজেন ফাউন্ডেশন সভাপতি পৌর মেয়র রেজাউল করিম স্বপন বলেন, আগামী ১৮ অক্টোবর এই সিরিজ শেষ হবে। ফাইনাল ম্যাচ শেষে বুড়িমারী দিয়ে তারা ১৯ তারিখে ভারত চলে যাবে। রোববার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে খেলাটি উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান। উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ ধরনের একটি সিরিজ। এসময় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমঙ্গীর হোসেন, পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১