বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৮ December ২০২৩

নীলফামারী-২ আসনে ভোটের মাঠে লড়াই হবে ত্রিমুখি


নীলফামারী প্রতিনিধি:

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের আমেজ আর নৌকার জয়গানে নীলফামারী সদর-২ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের ভোটের আমেজ অনেকটা কোনঠাশা।

ভোট প্রার্থনা করতে প্রার্থীরা বিভিন্ন গ্রামে গঞ্জে ভোটারদের কাছে তাদের উন্নয়নের কথা তুলে ধরছেন। দিন রাত জোড় কদমে এগিয়ে চলছে নৌকা মার্কার প্রার্থী আসাদুজ্জামান নূর এবং সতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন ও জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী শাহাজান আলী চৌধুরী। তবে এই আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখি।

এই আসনে আরো একজন প্রার্থী থাকলেও তাঁর প্রচার প্রচারনা একেবারেই নগন্য। তিনি হলেন, বাংলাদেশ কংগ্রেস এর দলীয় প্রার্থী মো. মোছালিন ইসলাম (ডাব) প্রতীক।  তিনি এখনো নিরব ভূমিকা পালন করছেন।

এদিকে, পিছিয়ে নেই সতন্ত্র প্রার্থী সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন (ট্রাক)। তিনি সদর উপজেলার পরিষদের ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালিন এলাকায় মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, স্কুল, কলেজ ও গ্রামে গঞ্জে রাস্তা ঘাট করে দিয়েছেন প্রচুর। একারনে এলাকায় যতেষ্ট আবদান রয়েছে তাঁর। এছাড়াও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভোটের মাঠে পাকা পোক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতি করে মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। দূর্ণিনিতি ও মাদক মুক্ত নীলফামারী গড়তে চাই। সেই লক্ষে জেলাবাসির জন্য সারাজীবন ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীর অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ট। আশা করি, জনগন আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সুষ্টু সুন্দুর ও নিরাপক্ষ ভোট হলে আমি শতভাগ জিতে যাব ইনশাল্লাহ্।

এরপরেই আছেন মহাজোটের জাতীয় পার্টির প্রার্থী, সদরের কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও একাধারে  ৩০ বছরের বাস মালিক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক (৮ বছর সাধারণ সম্পাদক) পদে বহাল আছেন শাহাজান আলী চৌধুরী (লাঙ্গল)।

জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, এই আসনটি জাতীয় পার্টির ভোট ব্যাংক। এবারে লাঙ্গলের সমর্থক ও নেতাকর্মীর সংখ্যাও বেড়েছে। তারা বলেন, আমরা সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই শক্তিশালী এবং তৃণমুল পর্যায়ে আমাদের প্রার্থী সদরের কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহাজান আলী চৌধুরীর লাঙ্গল প্রতীকের গণজোয়ার তৈরী হয়েছে। এলাকায় সুনামসহ তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। ভোট সচ্ছ হলে এই আসনে আমরা শতভাগ বিজয় লাভ করব ইনশাল্লাহ।

সরেজমিনে, জেলা সদরের ১৫ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে। উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের ২ নং ওয়াডের ভোটার ব্রজেন্দ্র নাথ রায় বলেন, পাড়া মহল্লায় দেখা যাচ্ছে নৌকার পোস্টার, ব্যানার। পাশাপাশি এই গ্রামে হঠাৎ দু একটা পোস্টার চোখে পড়ে লাঙ্গল ও ট্রাকের।

ভোটের মাঠে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের গত ১৫ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. মমতাজুল হক। শেখ হাসিনার সরকারের অসামপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে ও চলমান উন্নয়নকে ধরে রাখতে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন তারা। আগামীর উন্নত নীলফামারী গড়তে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহব্বান জানানো হয়।

তিনি বলেন, নূরের আমলে, উত্তরা ইপিজেড, যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষন কেন্দ্র, কারিগরি প্রশিক্ষন কেন্দ্র, নাসিং ইনস্টিউট, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, ডায়াবেটিক হাসপাতাল, দারোয়ানী সুতাকল, সৈয়দপুর টু নীলফামারী রাস্তা সম্প্রসারন। নীলফামারী সরকারী কলেজে অর্নাস ও মাষ্টার র্কোস চালু করণ। এছাড়াও মডেল মসজিদ, নীলসাগর মিউজিয়াম (যাদুঘর) আর্ন্তজাতিক মানের শেখ কামাল স্টেডিয়ামসহ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

অপরদিকে, ২০১৩-১৪ সালের অগ্নি সন্ত্রাসের ফলে এই আসনের ভোটাররা ভীত সন্ত্রস্ত। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকার দিকে ভোটের তীর ছুঁড়েন ভোটাররা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর আসনের কচুকাটা ইউনিয়নের একজন সাধারণ ভোটার বলেন, ২০১৩ সালের পেট্রোল বোমার আঘাতে নিরহ মানুষ জীবন দিতে বাদ্য হয়েছে। রাস্তা ঘাট পুল কালর্ভাট, গাছ কাটা, রেল লাইন উপুড়ে ফেলে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করে।  আর তাই নৌকায় জনগনের সমার্থন আছে বলে আমার মনে হয়।

উল্লেখ্য, নীলফামারী সদরে ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনটি। এখানে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭১৮ জন ও নারী ভোটার রয়েছে, ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩ জন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১