আপডেট : ০৬ February ২০২৪
গাইবান্ধা প্রতিনিধি: চলতি মৌসুমে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এর গাফিলতি আর উদাসিনতার কারণে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ২৫০ বিঘা জমি বোরো চাষ ব্যাহত হচ্ছে। জানা যায়, উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে নলকূপের সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিকল সেচযন্ত্র মেরামত অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এর গভীর নলকূপ ও নদীতে স্থাপিত এলএলপি নলকূপের অপারেটর ও ম্যানেজারদের অভিযোগ, বিএমডিএ গাইবান্ধা রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আর্থিক লেনদেন ছাড়া সেবা কোনো সেচ সেবা দিচ্ছেন না তিনি। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের সবদিকে ধান লাগানো প্রায় শেষ হলেও সেচ সংযোগের অভাবে রামনগর মৌজায় বিএমডিএ’র দুটি নলকূপে আওতায় কোনো জমিতে এখনো বোরো রোপন শুরু করতে পারেনি কৃষক। ফলে ব্যহত হচ্ছে ২৫০ বিঘা জমির বোরো ধান চাষ। গত আমন মৌসুমে সেচ সংযোগ অভাবে ২৫০ বিঘা জমির ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এই এলাকার কৃষকের। সাঘাটা উপজেলার রামনগর গ্রামের কৃষক আনছার আলী বলেন, ‘আমি নিজেই বরেন্দ্র এলএলপি অপারেটর। গত তিন মাস ধরে ট্রান্সফরমান বৈদ্যুতিক খুঁটিতে তোলার জন্য বরেন্দ্র অফিসে যোগাযোগ করি। কিন্তু বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম কোনো কর্ণপাত করেননি। ফলে আমার এই বরেন্দ্র সেচ পাম্পটি বন্ধ থাকায় আমার লাখ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও আমার আশেপাশে দুটি সেচ পাম্পের আওতায় দুই শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ রামনগর গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, ‘সেচ সংযোগ না থাকায় আমি আমন মৌসুমে জমিতে পানি দিতে পারিনি। ফলে আমার ১০ বিঘা জমির আমন ধানের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায় এবং আমি বারবার যোগাযোগ করেও বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ আমার ক্ষেতে পানির ব্যবস্থা করেনি।’ রামনগর বরেন্দ্র সেচ পাম্প ম্যানেজার সাহাদত হোসেন বলেন, ‘আমার ১০ বিঘা জমির জন্য বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করি। শুধু পানি দিতে না পারায় আমার এই বীজতলা শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। আমার সেচ সংযোগটি না দেয়ার ফলে আমার স্কিমের প্রায় ১'শ বিঘা জমিতে গত আমন মৌসুমে ১৫ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এবারও পানি সেচের অভাবে ২৫০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।' এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছু সমস্যা আছে, সমস্যাগুলোর সমাধান করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে। গাইবান্ধা রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম আর্থিক লেনদেনের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার সঙ্গে সেচের আওতাভুক্ত কৃষকের কোনো কাজ নেই। সাঘাটা উপজেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান ওই এলাকার দায়িত্বে আছেন। মূলত চুরি হওয়ার কারণে মৌসুম শেষে ট্রান্সমিটার খুলে রাখা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেচপাম্প সচল করা হবে। সাঘাটা উপজেলা কৃষি কমকর্তা কৃষিবিদ মো. সাদেকুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর দ্রুত পরিদর্শন করে সেচযন্ত্র চালুর করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেচকার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১