আপডেট : ১১ March ২০২৪
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: আজ মঙ্গলবার ১২ মার্চ পহেলা রমজান। এই রমজান মাসের সিয়াম সাধনার পর সন্ধ্যায় ধর্মপ্রান মুসলমানরা একত্রিত হয়ে পারিবারিক ভাবে ইফতার করে থাকেন। সেই ইফতারী সামগ্রীকের দাম এতটায় বৃদ্ধি পেয়েছে যা রোজাদারদের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছ। সোমবার সকালে কুষ্টিয়ার পাইকারী ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনাকালে তারা বলেন, এবছর ইফতারী সামগ্রীর দাম এত টা বেশী যা অতীতে হয়নি। মজমপুর গেটের সানজিদ ফল ভান্ডের মালিক কালু মিয়া বলেন, খেজুর, আপেল, আংগুর, বেদানা, মালটাসহ সব ধরনের ফলের দাম গত বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুন কোন কোন ক্ষেত্রে তিন গুন। দিন মজুর গরীব শ্রেনীর মানুষ গুলো এ বার এই সব ফলদিয়ে ইফতার করতে পারবে না। তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় কিভাবে এত বেশী দামে ফল কিনে ইফতার করবে। ঢাকার বড় বড় ফল ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সব ধরণের ফলের দাম দ্বিগুন তিনগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা যে দামে কিনছি তার উপর ২/৩ টাকা লাভে বিক্রি করছি। ওই ফল ব্যবসায় জানান, এ বছর রমজানে কালমি প্রিমিয়ার খেজুর ৫ কেজীর বক্স ৪ হাজার ৫শ’ টাকা, খালাস খেজুর ১০ কেজীর বক্স ৩ হাজার ৭০০ টাকা, আমিরা গোল্ড ৩ হাজার ৪০০ টাকা, জামজামি মিটজল ৫ কেজী ৬ হাজার ৭০০ টাকা, মাসরুক ৫ কেজী ৩ হাজার ২০০শ টাকা, ভিআইপি কালমি ৫ কেজী ৪ হাজার ২০০ টাকা, নাগাল ১০ কেজী ৪ হাজার ১০০ টাকা, রেজিস ১০ কেজী ৪ হাজার ২০০ টাকা, আল জেরিয়া কাঁচাপাকা ৫ কেজী ২ হাজার ৫০০ টাকা। আঙ্গুর ২০ কেজীর ঝুড়ি ৫ হাজার ৩০০ টাকা, আপেল ২০ কেজীর বক্স ৪ হাজার টাকা, বেদানা প্রতি কেজী ৩২০ থেকে ৩৪০ পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তাতে করে গত বছরের চেয়ে এ বছর ২ থেকে ৩ গুন দাম চড়া। কুষ্টিয়া শহরের বড় বাজারের ব্যবসায়ী কিরণ ষ্টোরের মালিক কামরুজ্জামান কিরণ বলেন, আমরা খুচরা ও পাইকারী দরে ফল বিক্রি করে থাকি। বর্তমানে প্রতি কেজী জিহাদী খেজুর ৩০০ টাকা, মাসরুম ৬০০ টাকা, বরই খেজুর ৫২০ টাকা, দাবাস ৪৫০ টাকা, মরিয়ম ১,০২০ টাকা আজুয়া ১,২০০ টাকা, কালমি ১,০০০ টাকা, তিউনিসিয়া ৭০০ টাকা, মিডজল ১,৪০০ টাকা, রিয়াল ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। গরীবের খেজুর নামে খ্যাত বস্তা বা লুজ খেজুর ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজা শুর হলেই আরো দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খুচরা বাজারে এই সব ফল আরো বেশী দামে বিক্রি করা হলেও বাজার মনিটরিং হচ্ছেনা। কুষ্টিয়ায় হাতে গোনা ১২ থেকে ১৫ জন ফল ব্যবসায়ী পাইকারী ফল বিক্রি করছে। এদের কাছে কুষ্টিয়া জেলার অন্যান্য ফল ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা জিম্মি হয়ে পড়েছে। এদের বিরুদ্ধে বেশী দামে ফল বিক্রির অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে বাজার নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে বলে ভোক্তারা জানায়। ভোক্তারা বলেন, রমজান মাস আসলেই বিশ্বের মুসলিম দেশ গুলো রমজানের পন্যের মূল্য কমিয়ে দেয়। অথচ আমাদের দেশে ২ থেকে ৩ গুন বৃদ্ধি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা মোনাফা করলেও সরকারের এ ব্যাপারে কোন নজর নেই।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১