বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২০ March ২০২৪

ছয় উপজেলার দায়িত্বে ২ সাব-রেজিস্টার


কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:

সরকারি দপ্তর থেকে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে তার মধ্যে অন্যতম রেজিস্টারের অফিস থেকে। ঝিনাইদহ ৬ উপজেলায় মাত্র দু,জন সাব-রেজিস্টার কর্মরত রয়েছেন। অফিস গুলোয় দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে জমি রেজিস্ট্রি কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঝিনাইদহ সদর ও হরিনাকুন্ডু উপজেলায় দু,জন সাব-রেজিস্টার কর্মরত রয়েছেন, তারাই অপর ৪ উপজেলায় জমি রেজিষ্টির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

ঝিনাইদহ জেলার ছয় উপজেলা সাব-রেজিস্টারের মধ্যে ৪টি পদই শূন্য রয়েছে। এতে জমি রেজিস্ট্রি করতে জনসাধারণের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেকে না জেনে দূর থেকে এসে জমি রেজিস্ট্রি করতে না পেরে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। কালীগঞ্জ,কোটচাঁদপুর,মহেশপুর ও শৈলকূপায় এই ৪ উপজেলায় সাবরেজিষ্টার না থাকার কারণে জমি রেজিস্ট্রি কারিদের মারাত্মক ভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঝিনাইদহ জেলার ৪ উপজেলার কার্যালয়েই নেই সাব-রেজিস্টার।

এ অবস্থায় দু,জন অফিসার দিয়ে সামলাতে হচ্ছে চার উপজেলার ভূমি অফিসের কার্যক্রম। এতে জমি কেনাবেচাতে চলছে অচলাবস্থা। জমির ক্রেতা-বিক্রেতা,দলিল লেখকসহ সেবা প্রত্যাশী মানুষ পড়েছেন নানা রকমের হয়রানি ও বিড়ম্বনার মধ্যে। কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিন হলো এ পরিস্থিতি চললেও তা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। স্বাভাবিক ভাবেই চার উপজেলা অফিসের কাজ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ঝিনাইদহ সদর ও হরিনাকুন্ডুর এই দুই অফিসার। সে কারণেই ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

জেলার ৬ উপজেলায় প্রতি সপ্তায় ২ দিন করে জমি রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চলার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সাব-রেজিস্টার সংকটে কারণে দু,জনে চার উপজেলায় একদিন করে নির্ধারণ করে জমি রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অনেক সময় ২ সপ্তাহ পরে একদিন গিয়ে সকাল থেকে রাত ১০/১১ টা পর্যন্ত কাজ করেও অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে মহেশপুর উপজেলায় রাত ১০/১১ টা পর্যন্ত জমি রেজিস্ট্রির কার্যক্রম চলে থাকে। বর্তমানে প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে ৪টি উপজেলার কার্যক্রম।

মাঝে মধ্যে সাবরেজিষ্ট্রার চার উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তাদের পক্ষে কাজ চালিয়ে নেওয়া সবসময় সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে জেলার রেজিস্ট্রি কার্যালয় গুলোর কার্যক্রম একবারেই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সাব-রেজিস্টার সংকটের দোহাই দিয়ে রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে চলছে প্রকাশ্যে ডাকাতি। রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা বলে সাব-রেজিস্টারের নামে কিছু দলিল লেখক ও দালাল প্রতিদিন মানুষকে হয়রানি করে লাখ লাখ টাকা আদায় করেছে। সকাল থেকে রেজিস্ট্রির জন্য দলিল জমা নেওয়া হয়। টাকার বিনিময়ে দলির সরিয়ে অন্য দলিল রেজিস্ট্রি করার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে এসে সারাদিন বসে থেকেও জমি রেজিস্ট্রি করতে না পারায় ফিরে যেতে হচ্ছে মানুষকে।

এদিকে রমজান মাসে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত সরকারি অফিস চলার কথা থাকলেও সে নিয়ম মানেন না ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু সাব-রেজিস্টার মেহেদী আল ইসলাম। নিজের ইচ্ছেমত অফিসে যান আর চলেও আসেন নিজের খেয়াল খুশিমতো।

সাব-রেজিস্টার বদলি হওয়ার কারণে এই দুই জনকে একেক দিন একেক উপজেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার মহেশপুর উপজেলায় তার জমি রেজিস্ট্রির দায়িত্ব পড়ে। সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ সকাল ৯ টার সময় অফিস চালু হওয়ার কথা থাকলেও তিনি মহেশপুরে গেছেন সকাল ১১ টায়। সকাল থেকে ২ ঘণ্টা অফিস করেন তিনি। আবার বিকাল ৩ টা বাজার সাথে সাথে তিনি অফিস থেকে চলে গেছেন। অফিসের সামনে অন্তত দেড় শতাধিক দলিল ক্রেতা-বিক্রেতা অপেক্ষা করা অবস্থায় তিনি চলে গেছেন।

উপজেলার বাউলী গ্রামে হাসান আলী বলেন, আমি ৩ সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করছি। সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রি হয় বলে বুধবার আমাদের তারিখ দিয়েছে। সেই সকালে আসছি। সকালে এসে দেখি সাব-রেজিস্টার আসেনি, এখন বিকাল ৩ টা বাজে। আমার দলিল টা হওয়ার সময় তিনি রেজিস্ট্রি না করে চলে গেলেন। ষাটোর্ধ বৃদ্ধা কহিনুর খাতুন বলেন, আমি আজ ২ সপ্তাহ ধরে ঘুরছি। রোজা রেখে সকাল থেকে অপেক্ষা করছি। আর উনি দলিল টা রেজিস্ট্রি না করে দিয়ে চলে গেলেন।

হরিনাকুন্ডুর সাব রেজিস্ট্রির মেহেদী আল ইসলামের আচার ব্যবহার খুব খারাপ। তিনি তার ইচ্ছে মত অফিস করেন। যখন ইচ্ছে আসেন। যখন ইচ্ছে চলে যান।এ ব্যাপারে কথা বলছে বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় তার মোবাইলে কল দিলে তিনি তখনও অফিসে যান নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯ টায় অফিসে থাকার কথা থাকলেও সকাল সাড়ে ১০ টায়ও তিনি অফিসে পৌঁছান তিনি।

অভিযোগের ব্যাপারে মেহেদী আল ইসলাম বলেন, আমি রাত ১২ টা পর্যন্ত ওই অফিসে থাকলেও দলিল শেষ হবে না। শত শত মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তাতে আমার কি ?


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১