আপডেট : ২৩ April ২০২৪
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে ধান চাষে এ ডব্লিউ ডি প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ হচ্ছে। তেমনি সেচ মালিকদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচও সাশ্রয় হচ্ছে। বাড়ছে ধানের ফলন। কমছে রোগ বালাই। এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে জেলাজুড়ে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় ভূ-গর্ভস্থ্য পানির। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এক কেজি ধান উৎপাদন করতে জমিতে ৩৫শ'থেকে ৪ হাজার লিটার পানির সেচ দিতে হয়। যার পুরোটাই গভীর-অগভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগবস্থ্য থেকে তোলা হয়। এ কারণে মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পানির স্তর অনেকটা নিচে নেমে যায়। ফলে জমিতে পর্যাপ্ত সেচ দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতোদিন কৃষকরা সচেতনতার অভাবে নিজেদের ইচ্ছেমতো ধানের জমিতে পর্যাপ্ত সেচ দিতেন। চাহিদার অতিরিক্ত পানি ধরে রাখতেন। এতে ধানের চারা বেশি গজাতে পারতো না। মাটিতে শ্যাওলা পড়তো। ধানের গোঁড়ায় পঁচন ধরতো। পোঁকা মাঁকড়ের আক্রমণ সহ ফলন বিপর্যয় দেখা দিতো। অপরদিকে ভূগবস্থ্য পানির অপচয়ে সংকটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগ পানির এই অপচয় রোধে পরিবর্তিত শুকনা ভেজা (এ ডব্লিউ ডি) নামে প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় গত দুই বছর ধরে এ পদ্ধতির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়েছে। ফলে ইরি-বোরো মৌসুমে পানির অপচয় রোধ এ প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে অবদান রাখছে। উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার রুয়াপাড়া, চড়িয়া উজির গ্রামের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়,এখানকার কৃষকরা তাদের জমিতে ডব্লিউডি প্রযুক্তি স্থাপন করেছেন। রুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন, আব্দুর রশিদ, আব্দুল আলিম, মালেক, ঠান্ডু মিয়া জানান, আমাদের জমিতে কৃষি অফিস থেকে দেয়া এ ডব্লিউ ডি স্থাপন করেছি। কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের পানি পরীক্ষা সহ এ প্রযুক্তির বিভিন্ন কৌশল শিখিয়ে দিয়েছেন। সেভাবে আমরা জমিতে সেচ দিচ্ছি। আবার প্রয়োজন মতো শুকাচ্ছি। এটা খুব সহজ। আমরা এতোদিন বুঝতাম না। গত বছর থেকে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা ধানের ভাল ফলন পাচ্ছি। এ এলাকায় আমাদের দেখাদেখি এবার সব কৃষক এর ব্যবহার শুরু করেছেন। এ পদ্ধতিতে ১২ ইঞ্চি একটি প্লাস্টিক পাইপের ৯ ইঞ্চি চারদিকে একাধিক ছিদ্র করা হয়। এরপর সেই পাইপ ধানের জমিতে নির্দিষ্ট যে কোন স্থানে বসানো হচ্ছে। ৯ ইঞ্চি মাটির নিচে পুঁতে ৩ ইঞ্চি উপরে রাখা হচ্ছে। এরপর পাইপের ভিতরের মাটি বের করে ফাঁকা রাখা হয়। মাটিতে পোতা পাইপের ছিদ্র দিয়ে পানি প্রবেশ করে। নিচে সেই পানির উপস্থিতি দেখে প্রয়োজন মতো জমিতে সেচ দেয়া হয়। পানির উপস্থিতি বেশি থাকলে আবার নিয়ম কওে সেই জমি শুকানো হচ্ছে। এই পদ্ধতি অবলম্বন করায় জমিতে ধানের চারা বেশি গজাচ্ছে। রোগ বালাইয়ের আক্রমণ কম হচ্ছে। সেচ মালিকদেরও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ অনেক কমে এসেছে। চড়িয়া উজির এলাকার নলকূপ মালিক চাঁদ আলী দেওয়ান বলেন, এ পদ্ধতি আসায় অনেক বেঁচে গেছি। কৃষকরা এডব্লিউডি দেখে এখন পরিমাণ মতো সেচ চায়। আগে না বুঝে জমিভর্তি করে সেচ দেয়া লাগতো। আমার অনেক বেশি বিদ্যুৎ বিল আসতো। কিন্তু এখন তা লাগছে না। আমি নিজে যেমন সাশ্রয় করছি। কৃষকরাও বেশি ফলন পাচ্ছে। এটা আমাদের সবার জন্য উপকার হয়েছে। শুধু সেচ মালিক আর কৃষকদের উপকার হচ্ছে না। এ পদ্ধতি আসায় ইরি-বোরো মৌসুমে বিপুল পরিমাণ ভূগবস্থ মিঠা পানির অপচয় রোধ হচ্ছে। যা আগামীতে ফসল উৎপাদনে বড় অবদান রাখবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের উপর চাম কমছে। বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমনাদির অর্থও সাশ্রয় হচ্ছে। উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ সুর্বণা ইয়াসমিন সুমি জানান, ভ-ূগর্ভস্থ্য মিঠা পানির অযাচিত ব্যবহার রোধ করতে হবে। নইলে আগামীর কৃষি উৎপাদন চরম হুমকির মুখে পড়বে। এ জন্য এ উপজেলার কৃষকদের সচেতন করতে আমি নিজে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতাদের নিয়ে উঠান বৈঠক সহ সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি। ইতোমধ্যে আমরা প্রায় প্রতিটি এলাকায় কম বেশি এ পদ্ধতি কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পেরেছি। এতে পানির অপচয় রোধ সহ কৃষখরা ভাল ফলনে লাভবান হবেন। সিরাজগঞ্জ কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, সারা দেশে ব্যাপকভাবে এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দেয়া গেলে কৃষকরা যেমন লাভবান হবে। তেমন ভুগবস্থ্য পানির অপচয় রোধ করা যাবে। পাশাপাশি অতিমাত্রায় কিটনাশকের ব্যবহার কমে আসবে। এতে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১