বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৪ April ২০২৪

মাস পেরোলেও হয়নি জবি শিক্ষার্থী অবন্তিকার তদন্ত!


জান্নাতুন নাইম, জবি প্রতিনিধি:

গত ১৫ মার্চ রাতে কুমিল্লার বাগিচাগাঁও ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন অবন্তিকা। মৃত্যুর আগে তার ফেইসবুক পোস্টে আত্মহত্যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকীকে দায়ী করেন। অবন্তিকার মায়ের দায়ের করা মামলায় এখন কুমিল্লায় কারাগারে আছেন তারা। এঘটনায় দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোন ফল আসেনি। তদন্ত কার্যক্রমের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতিও নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের একই গতি। তবে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি। এছাড়া তদন্তের স্বার্থে বেশ কিছু প্রক্রিয়াও প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান তারা।

তদন্ত কমিটি সূত্র জানায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনার তদন্তের প্রায় পঞ্চাশ জনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত অদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি জানিয়েছেন, গত এক মাসে নয়টি সভা করেছেন তারা, সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অবন্তিকার পরিবার ও কারাগারে থাকা দুই অভিযুক্তেরও। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্বার্থে পুলিশের কাছে চাওয়া হয়েছে কিছু ডিজিটাল এভিডেন্স ও পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট, যেগুলো হাতে পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন বলেন, আমরা তদন্তের জন্য আমাদের অ্যাক্সেসে থাকা সকল কিছুর ব্যবহার করেছি।অবন্তিকার পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকসহ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তির সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে। কারো কারো সাক্ষাৎকার একাধিকবার নেয়া হয়েছে। সেগুলোর রেকর্ডভুক্তির কাজ চলছে। তদন্ত কমিটি চায় পুরোপুরি ইমপার্শিয়াল একটি রিপোর্ট তৈরি করতে।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি অফিসিয়ালি নয়টি সভা করেছে। এর বাইরে আনঅফিসিয়ালিও কিছু সভা করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে তদন্ত কাজ এগিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আমাদের কিছু ডিজিটাল এভিডেন্স যেমন অবন্তিকার মোবাইলের কল লিস্ট, সর্বশেষ কল রেকর্ড, ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারের চ্যাটিং স্ক্রিনশট প্রয়োজন। এছাড়াও মোবাইলে যদি আরো গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য থাকে সেগুলো চেয়ে আমরা পুলিশের কাছে আবেদন করেছি। এগুলো হাতে পেলে বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা সম্ভব হবে।

ড. জাকির হোসেন আরো বলেন, আমাদের হাতে অবন্তিকার পোস্ট মর্টেম রিপোর্টও নেই। আমরা পুলিশের কাছে সেটাও চেয়েছি। সেটা পেলে আমরা সেখান থেকে অবন্তিকার মৃত্যুর সময়টা জানতে পারব। সেক্ষেত্রে মৃত্যুর সময় ও ফেসবুকে দেয়া পোস্টের মধ্যে যে অসামঞ্জস্যতার অভিযোগ সেটার সত্যতা বের হয়ে আসবে। আমাদের হাতে তো এসব ম্যাটেরিয়ালসের অ্যাক্সেস নেই, তাই পুলিশের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এগুলো দিবেন বলে তারা আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে কুমিল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর তাদের তদন্তও থমকে আছে। তদন্তের অবস্থা জানিয়ে থানার তদন্ত কর্মকর্তা শিবেন বিশ্বাস বলেন, তদন্ত কার্যক্রম চলছে, তদন্তে যদি আরো কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তবে তাকে আমরা ধরবো। আমরা মোবাইল ফরেনসিক করতে দিয়েছি রিপোর্টটা পেলে আমরা পরবর্তী কাজ করতে পারবো। এছাড়া পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা আমরা এখনো পাইনি। মেডিকেল কর্তৃপক্ষ বলছে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট করতে আরো সময় লাগবে। রিপোর্টের সাহায্যে আরো স্পষ্টভাবে জানতে পারবো। আমরা এই কার্যক্রম কবে শেষ করতে পারব তা পুরাপুরি নির্ভর করছে ফরেনসিক রিপোর্ট এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পাওয়ার উপর।

অবন্তিকার মা বলেন, আমার মেয়ের মৃত্যুর মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও কোন বিচার পাই নি। দুই জন কারাগারে আছে কিন্তু এর বাইরেও অনেকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে আছে। তাদের কেনো ধরা হচ্ছে না জানি না। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। শুধু আমি না দেশের মানুষ সবাই বিচার চাই।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১