আপডেট : ২৫ April ২০২৪
জাহিদ হাসান, নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার হাওরে এবার বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ও বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় খুশি চাষীরা। ৮ লাখ ২ হাজার ৪৪৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নিয়ে হাওড়ের ধান ধান দ্রুত কাটা ও মাড়াই করার জন্যে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন কৃষকদের খুব সহায়ক হয়েছে। ফলে অল্প দিনে প্রায় ১৫ ভাগ ধান উঠে এসেছে। আগামী ২০ দিনের মধ্যে হাওড় এলাকার সব ধান উত্তোলন সম্ভব হবে। কৃষি বিভাগ বলছে, খাদ্য সংকট মোকাবেলায় লক্ষমাত্রা অর্জনে কৃষকদের পাশে থেকে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারসহ সব ধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে প্রায় ১৫ ভাগ ধান উত্তোলন হয়ে গেছে। আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যেই উঠে আসবে হাওরের সকল জমির সব ধান। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে দেশের খাদ্য চাহিদার শতকরা ২.৫ ভাগ চাল উৎপাদন হয় এই জেলার হাওরাঞ্চল থেকে। সম্পূর্ণ ফসল তোলে আনতে সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারী অব্যাহত রাখছে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। ধান তুলে আনতে এবার প্রায় ৮শত ৫০টি আধুনিক কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১৫ ভাগ ধান উত্তোলন হয়ে গেছে। আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যেই উঠে আসবে হাওরের সকল জমির সব ধান। জেলায় এ বছর মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩ শত ২০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। হাওরাঞ্চলে মোট ৪১ হাজার ৭০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড জাতের ধান মোট ১৯ হাজার ১৮০ হেক্টর, উফশী ২১ হাজার ৭৫০ হেক্টর এবং ১৪০ হেক্টর স্থানীয় জাত রয়েছে। উফশী জাত ব্রি ধান৮৮, ব্রি ধান৮৯ এবং ব্রি ধান৯২ জাতের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভালো ফলন ও ন্যায্য বাজার দরে খুশি কৃষক। গোবিন্দ শ্রী গ্রামের কৃষক মান্না মিয়া (৬৫) বলেন, গত বছর ব্রি ধান ২৮ রোপন করে মার খেয়েছি এইবার কৃষি অফিসের পরামর্শে ব্রি ধান ৮৯, ৯২ চাষ করেছি কাটা ( ১০শতক) প্রতি ধান পাইছি ৮-৯ মণ, দাম ৮- ১ হাজার টাকা বিক্রি করছি ॥ মাঠে অনেক ধান কাটার মেশিন আছে। ফলে আতঙ্ক ছাড়াই কাটা হচ্ছ্। এখন দিগন্ত জোড়া মাঠে সোনালী ফসলের ঢেউ। এরি মধ্যে অনেকেই আগাম জাতের ধান কর্তন শুরু করেছেন । তবে আর এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কর্তন শুরু হবে। ফলন ও বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় প্রতিমণ ধান ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। মদন উপজেলার বাড্ডা গ্রামের কৃষক হায়দুল (৫০) বলেন, এইবার হাওরের কৃষকের দিকে আল্লাহ মুখ তোলে তাকায়ছে, হাওরে এ বছরের মতো ধান আগে কখনো দেখিনি, ফলন বাম্পার হয়ছে,দামও ভালো। পোলাপান নিয়ে সুখে থাকবো ইনশাআল্লাহ। মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আলম মিয়া কথা হলে তিনি বলেন ,সরকার কর্তৃক ভতুর্কি মূল্যে বিতরণকৃত কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দ্রুত ধান কর্তন ও মাড়াই করতে পারায় কৃষকদের খুব সহায়ক হয়েছে। একটি মেশিন প্রতিদিন প্রায় ১০০ শ্রমিকের কাজ করতে পারায় এবার শ্রমিক সংকটে ভুগতে হয়নি তাদের। এই যন্ত্রের মাধ্যমে ধান কাটলে ধানে কোনো চিটা বা ময়লা থাকে না। ফলে বাজারে এই ধানের মূল্য বিগত যে কোন বছরের চাইতে বেশি পাচ্ছে তারা। মদন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবিব বাংলাদেশের খবরকে জানান,মদন উপজেলায় এ বছর ১৭ হাজার ৬শত ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে । আবহাওয়া অনক’লেথাকায় কৃষি অফিসের নিবির তত্ত্বাবদানে পোকামাকড় কম হওয়ায় ফলন হয়েছে বাম্পার । এবার উৎপাদন লক্ষমাত্রা ১১৯০০ মেট্রিক টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নেত্রকোণার উপ-পরিচালক মো : নূরুজ্জামন বলেন, দেশের খাদ্য চাহিদার শতকরা ২.৫ ভাগ চাল উৎপাদন হয় এই জেলা থেকে। জেলায় এ বছর মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩ শত ২০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। হাওরাঞ্চলে মোট ৪১ হাজার ৭০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড জাতের ধান মোট ১৯ হাজার ১৮০ হেক্টর, উফশী ২১ হাজার ৭৫০ হেক্টর এবং ১৪০ হেক্টর স্থানীয় জাত রয়েছে। উফশী জাত ব্রি ধান ৮৮, ভ্রি ধান- ৮৯ এবং ব্রি ধান- ৯২ জাতের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভালো ফলন ও ন্যায্য বাজার দরে খুশি কৃষক। দ্রুত ও কম খরচে বোরোধান কর্তন ও মাড়াই করার জন্যে এ জেলায় ৮শত ৫০টি আধুনিক কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১৫ ভাগ ধান উত্তোলন হয়ে গেছে। আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যেই উঠে আসবে হাওরের সকল জমির সব ধান। জেলার এবার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩ শত ২০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয় বোরো ধান। গত বছরের চেয়ে ৫ শত ৮৫ হেক্টর বেশি আবাদ হয়েছে এবার। হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরী, মদন, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা, কেন্দুয়া ও আটপাড়া উপজেলায় এবার ৪১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয় বোরো ধান। নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ জানান, খাদ্য চাহিদা মোকাবেলায় হাওরের সবটুকু ধান তোলে আনতে সরকারীভাবে কৃষকদের সব ধরণের সহযোগিতার কথা জানায় জেলা প্রশাসন। নেত্রকোণা মদনের চারিয়ার হাওরে ও গোবিন্দ শ্রী ইউনিযন পরিষদ মাঠে অনুষ্টিত হয়েছে মদন উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মদন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বোরো ধান কর্তন ও কৃষদের সমন্বয়ে মাঠ দিবস। কৃষি ক্ষেত্রে সরকারের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরাঞ্চলে দ্রুত ধান কর্তন সম্ভব হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে হাওরাঞ্চলের পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও গবেষণালব্ধ কৃষি উপকরণ ও প্রযুক্তি ব্যবহার সুনিশ্চিত হলে কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১