আপডেট : ০৪ May ২০২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক: ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে। দুই দলই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। দফায় দফায় নির্দেশনা দেওয়ার পরও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মানাতে তৃণমূলকে বাধ্য করতে পারেনি এই দুই দল। এমপি-মন্ত্রীর স্বজনদের উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে প্রথম ধাপে মন্ত্রী ও এমপিদের ১৬ জন নিকটাত্মীয় বা পরিবারের সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বিতীয় ধাপের ১৬০টি উপজেলার ভোটে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের ৩০ জন আত্মীয়স্বজন। তৃতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও সারাদেশে ২৫ জন এমপি-মন্ত্রীর স্বজনরা প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচন বয়কট ও ভোটের মাঠে থাকা প্রার্থীদের বহিষ্কার করেও সবাইকে ভোটের মাঠ থেকে দূরে রাখতে পারেনি বিএনপি। প্রথম দফায় উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় ৮০ নেতাকে বহিষ্কার করে দলটি। দ্বিতীয় ধাপের ভোটে অংশ নেওয়া ৬১ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিএনপি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা না দিলে দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হবে। জাতীয় নির্বাচনের পর সারাদেশে উপজেলা নির্বাচনে কৌশলী অবস্থান নিয়ে দলীয় প্রতীক দেয়নি আওয়ামী লীগ। এছাড়া দলীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের নিকটাত্মীয়দের নির্বাচনে প্রার্থী না হতেও দল থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব বলছে, নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতেই দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে বাস্তবতা হলো দলের সিদ্ধান্ত সবাই মানেননি। দলীয় সংসদ সদস্যদের নিকটাত্মীয়রা এখনো প্রার্থী রয়েছেন। কিছু জায়গায় এমপি-সমর্থিত প্রার্থীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহসই দেখায়নি কেউ। যে কারণে এবার উপজেলা নির্বাচনেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলায় সবগুলো পদেই প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই অবস্থায় স্বজনদের মধ্যে কে কে নিকটাত্মীয় তা পরিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বজন বলতে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে সন্তান ও স্ত্রীকে বুঝিয়েছেন। গতকাল রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আমি যেসব বক্তব্য রেখেছি, অনেকে ভেবেছিলেন আমি নিজেই নিজের নামে বলে বেড়াচ্ছি। কিন্তু গতকাল নেত্রী নিজেই এ নিয়ে খোলাসা করে বলেছেন। স্বজন বলতে তিনি দুটো শব্দ উল্লেখ করেছেন স্ত্রী ও সন্তান।’ প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সেখানে (উপজেলা নির্বাচনে) কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তার করা যাবে না। প্রশাসনকে প্রভাবিত করা যাবে না। নির্বাচনকে প্রভাবিত করা যাবে না। সে কথা তিনি (প্রধানমন্ত্রী) পরিষ্কারভাবে বলেছেন। তার (প্রধানমন্ত্রীর) গাইডলাইন অনুযায়ী আমরা আমাদের পার্টির কার্যক্রম পরিচালনা করব এবং উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারেও আমাদের নেত্রীর গাইডলাইনস অনুযায়ী আমাদের দায়িত্ব পালন করব।’ বহিষ্কারের মতো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েও বিএনপির নেতাদের উপজেলা নির্বাচন থেকে ফেরানো যাচ্ছে না। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, প্রথম ধাপে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্তত ৮০ জনকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। দ্বিতীয় ধাপের ভোটে অংশ নেওয়া ৬১ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিএনপি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা না দিলে দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হবে। প্রথম ধাপেও প্রার্থীদের বোঝানোর পর মাত্র ১৬ জন নেতা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। এর মধ্যে ১৫ জন চেয়ারম্যান পদে, ১ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। দ্বিতীয় ধাপে যে ১২ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন, তার মধ্যে ৮ জন চেয়ারম্যান পদে, ৪ জন ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপির মধ্যে অস্বস্তি আছে তবে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন এ সংখ্যা নগন্য এবং তৃণমূলের কোনো সমর্থনও পাবে না বহিষ্কৃতরা। বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তৃণমূলের কর্মীরা এই নির্বাচনে কেউ অংশগ্রহণ করবে না। ‘আমরা আমাদের স্থানীয় পর্যায়ে একমাসের অধিক সময় জরিপ করছি, কথা বলতেছি। সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তৃণমূলের কর্মীরা, আমাদের সমর্থকরা আমাদের চেয়ে অ্যাডভান্স চিন্তা-ভাবনায়। আমরা যতবার ভাবি ওরা এতবার ভাবে না। এক কথায় নাকচ করে দেয়। আমরা এই পালসটা যদি উপলব্ধি করতে না পারতাম তাহলে তো এই সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম না।’ বিএনপি কেন স্থানীয় নির্বাচন বয়কট করছে তার যুক্তি তুলে ধরে মি. রায় বলেন, ‘অনেকেই তো মেয়র হয়েছে সেটা তো আমাদের সমর্থনেই হয়েছে। আমরা তখন নির্বাচনে গেলাম। গাজীপুরের মেয়র বিপুল ভোটে জয়লাভ করছিল। মান্নান। তিনি কি একদিনও চেয়ারে বসতে পারছেন? রাজশাহীর মেয়রের কথা ভাবেন বুলবুল। তাকে কি চেয়ারে বসতে দিছে। পাঁচ বছরে সে মাত্র আড়াই মাস চেয়ারে বসতে পারছে।’ ‘যারা ইতিপূর্বে নির্বাচন করেছেন, চেয়ারম্যান ছিলেন তারা কিন্তু কেউ আগ্রহী না। এমনকি দল চাইলেও তারা যেত না। হয় সরকারের সঙ্গে চলতে হবে, নয় সাসপেন্ড হবে, মামলা হবে এটা হবে সেটা হবে। আর স্থানীয় সরকারের যে কাঠামোটা সেটা যদি সরকার সমর্থক না হয় তাহলে সে কাজ করতে পারে না।’ নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, এবার কমবেশি ৪৮০ উপজেলা পরিষদে ৪ ধাপে ভোট হবে। ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের ভোটে যাচাইবাছাই শেষে মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৮৬ জন। আগামী ৮ মে সারা দেশের ১৫০ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে। দ্বিতীয় ধাপে যাচাইবাছাই শেষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮২৮ জন, যাদের মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬০৫ জন। ভোট গ্রহণ ২১ মে। তৃতীয় ধাপে ১১২টি উপজেলায় ১ হাজার ৫৮৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ভোট গ্রহণ ২৯ মে । আগামী ৫ জুন চতুর্থ ধাপের নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে সব ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১