আপডেট : ২৫ May ২০২৪
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানাধীন লালদীঘির উত্তর পাড়ে টেরীবাজার এলাকায় শত বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী হাসান মঞ্জিল দখলে নিতে ভাংচুর-লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে । ভূমিদস্যু আহমদ হোসেন তার স্বতস্ত্রবাহিনী ও সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে রাতের আঁধারে পুলিশ পরিচয়ে ভবনে ঢুকে বেপরোয়া ভাবে মারধর, ভাংচুর-লুটপাট করে ভবন দখলের অপচেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেফতার করে এবং আসামি নিজ মুখে ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করেন। লালদীঘির উত্তরপাড়ে টেরীবাজার এলাকার ভূমিদস্যু আহমদ হোসেনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এবং পার্শ্ববর্তী ভবন মালিক। এক সময় জামাত শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত আহমদ হোসেন এখন এলাকায় কিছু রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় গড়ে তোলে এক বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। তার রয়েছে একদল কিশোর গ্যাং। আহমদ হোসেন বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অসহায় হয়ে পড়েছে। তার এই সব অবৈধ দখলদারিত্ব ,মারধর, ভাংচুর-লুটপাট ব্যাপারে ভয়ে এলাকার কেউ এর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায় না। আর স্থানীয় থানা বা আদালতে কোনো মামলা হলেও নিরপেক্ষ সাক্ষীর অভাবে জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে হাসান মঞ্জিলের কেয়ারটেকার মুক্তার কাজী নামের এক ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়,চট্টগ্রামে গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে লালদীঘি পাড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হাসান মঞ্জিলের কেয়ারটেকার মুক্তার কাজী ও তার পরিবারের উপর হামলা করেন ভূমিদস্যু আহমদ হোসেন । গত ১৩ মে সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভূমিদস্যু আহামদ হোসাইন দলবল নিয়ে এ হামলা করেছে বলে জানান মুক্তার কাজী। এ ঘটনায় মুক্তার বাদী হয়ে আহামদ হোছাইনসহ ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫-৩০ জন আসামি করে নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হাসান মঞ্জিলের মালিক মহিউদ্দিন আব্দুল হাইয়ের কেয়ারটেকার হিসেবে ১৯৮১ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন মুক্তার কাজী। সেই সুবাদে হাসান মঞ্জিলের ভিতরে একটি সেমিপাকা ঘর তুলে পরিবারসহ তিনি বসবাস করছেন এবং মঞ্জিলের মূল ফটকের সামনে একটি দোকান নির্মাণ করে দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর যাবত ব্যবসা করছেন। গত ১৩ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আহামদ হোসাইন দলবল নিয়ে পুলিশ পরিচয় দিয়ে মুক্তারের ঘরে প্রবেশ করে এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়। মুক্তার ও তার স্ত্রী লুটপাটে বাধা দিলে আসামিরা তাদের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তাদের দুইজনকে মারাত্মকভাবে জখম করে। এসময় আসামিরা মুক্তার ও তার স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১০০ টাকার নন জুডিশিয়াল কয়েকটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং ঘর ও দোকান থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী মুক্তার কাজী বলেন, ভূমিদস্যু আহামদ হোছাইন গং দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হাসান মঞ্জিল থেকে উচ্ছেদ করে জায়গাটি দখল করার পাঁয়তারা করছিলো। এ উদ্দেশ্যেই সে দলবল নিয়ে আমার পরিবারের উপর হামলা ও লুটপাট করেছে। এছাড়াও রাতের আধারে আমাদের মালিকের আজিম সেন্টার ভবনের নিচতলায় গুন্ডাপান্ডা দিয়ে জোর করে ইট দিয়ে দেওয়াল তুলে দেয়। তবে এ বিষয়ে জানতে মামলার প্রধান আসামি আহামদ হোসেনকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম ওবায়েদুল হক জানান, কেয়ারটেকারকে হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় হাসান মঞ্জিল ভবনের মালিক পুত্র তারিন মহিউদ্দিন আজীম জানান,আমরা পরিবার নিয়ে অনত্রে বসবাস করি। এ ভবনে আমাদের ব্যাবসায়িক অফিস আছে ঘটনার খবর পেয়ে আমরা সকালে ছুটে আসি। এসে দেখি আমাদের আজিম সেন্টারেও ইট দিয়ে দেওয়াল তুলে প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মুক্তার কাজী আমাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার পাশাপাশি সে নিজেও একটা ব্যবসা করে। গভীর রাতে আমাদের অনুপস্থিতিতে তার উপর ন্যাকারজনক এমন ঘটনা দুঃখজনক তবে প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই,শুনলাম তারা একজনকে গ্রেফতার করেছে । বাকিদের কেও দ্রুত আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি কামনা করছি।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১