বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৯ May ২০২৪

উপকূলে রেমালের ক্ষত


ঘূর্ণিঝড় রেমাল চলে গেলেও ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রেখে গেছে উপকূলীয় জেলাগুলোতে। প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ। রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উপকূলীয় জেলা বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা এবং চটগ্রামে। বৃষ্টি ও ঝড়ের দাপটে বাঁধ ভেঙে নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩৫ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৯ শত ঘরবাড়ি। মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৬৯৫ কোটি টাকারও বেশি। এছাড়াও প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকারও বেশি। সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩০টি হরিণের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বন অধিদপ্তর সূত্র এসব তথ্য জানা গেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩৫ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৯ শত ঘরবাড়ি। ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে খুলনা, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালী জেলাসহ উপকূলীয় ১৯ জেলার ১০৭ উপজেলার ৯১৪ ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনও সকল ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের ১৩টি জেলায় মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে ৬৯৫ কোটি টাকা। এছাড়াও দেশের প্রাণিসম্পদের ৮০টি খামার ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতি হয়ে ১ কোটি ৪১ লাখ ১২ হাজার ৮০০ টাকা।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, তাদের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাথমিকভাবে ক্ষয় ক্ষতির একটি তথ্য পাওয়া গেছে। এটি চূড়ান্ত নয়। প্রাথমিক হিসাবে দেখা দেখে, দেশের ১৩টি জেলায় ক্ষতি হয়েছে ৬৯৫ কোটি টাকা। ২৬ হাজার ৩৫৪টি পুকুর, ঘের ৪০ হাজার ৮০৪টি, কাকড়া ও কুচিয়াখামার ৪ হাজার ৮২টি, ২৫ হাজার ৪৭৪ মেট্রিকটন মাছ চলে গেছে এবং এরমধ্যে মাছ ১৮,৩৭৯ মে. টনে ক্ষতি হয়েছে ২৬৮ কোটি টাকা, চিংড়ি ৬হাজার ৯৬০ মে.টনে ক্ষতি হয়েছে ২৮৭ কোটি ৪৮ লাখ, কাকড়া ও কুচিয়া ১৩৫ মে. টনে ক্ষতি ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা, পোনা-৮ কোটি ২৬ লাখ যার বাণিজ্যিক মূল্য ৯৪ কোটি টাকা, পিএল (রেণু) ৪ কোটি ১৪ লাখ যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, রেমালের আঘাতে ৫৪১টি জেলে নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময়ে ১১৭ জন জেলে আহত হয়েছেন। জাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৪৭টি যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

অপরদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, রেমালের আঘাতে ৯টি জেলার ৫০টি গবাদি পশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৮টি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার ক্ষটি প্রায় ১৫ লাখ টাকা। হাস মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩০টির ক্ষতি হয়েছে সাড়ে ১০ লাখ টাকা। দানাদার খাবার নষ্ট হয়েছে ১.৫ মে.টন যার মূল্য প্রায় ৮৫ হাজার টাকা, ৮২ হাজার ৭২০ টন খড় নষ্ট হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৯৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, ঘাস নষ্ট হয়েছে ৮৩ টন যার মূল্য প্রায় ১৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। মৃত্যু গবাদি পশুর দাম ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা। এ নিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ১২ হাজার ৮০০ টাকা।

খুলনা বনাঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে সুন্দরবনের শুধু কটকা অভয়ারণ্য থেকে ৩০টি মৃত হরিণ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। এখনও বন জুড়ে তল্লাশি চলছে। এতে মৃত হরিণের সংখ্যা আরও বাড়বে। এছাড়া ঝড়ে বনের অভ্যন্তরে ২৫টি টহল ফাঁড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বনের ভিতরে লবণ পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে অন্তত ৮০টি মিষ্টি পানির পুকুরও। মৃত বন্যপ্রাণীর সন্ধানে বন জুড়ে বনরক্ষীদের তল্লাশি চলছে।

তিনি আরো বলেন, বনের গাছপালারও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে বনবিভাগের বিভিন্ন অফিসসহ টহলবোট, টিনের চালা, জানালা-দরজা, সোলার প্যানেল ও অবকাঠামোর। এ ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে কটকা অভয়াণ্যের অফিস ঘাটের জেটি ও পুকুর বঙ্গোপসাগরের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুবলা, কটকা, কচিখালি, বগি ও বিভিন্ন অফিসসহ ২৫টি টহলফাঁড়ির রান্নাঘরসহ অবকাঠামোর টিনের চালা উড়ে গেছে।

তবে পুরো সুন্দরবনের গাছপালাসহ কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিশ্চিত করে এখনই বলা সম্ভব নয়।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে পটুয়াখালীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ২৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এখনো পানিবন্দি রয়েছে হাজার হাজার পরিবার। উপকূলের অনেক স্থানে এখনো ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যমতে, জেলায় ৯১০৫টি পুকুর, ৭৬৫টি মাছের ঘের এবং ১২০টি কাঁকড়া ঘের প্লাবিত হয়েছে। এতে মৎস্য চাষিদের ১৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জেলায় ৩৫০০ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা।

প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) জানিয়েছে, সারা দেশে মোট ৫৮ হাজার ২৯৮টি মোবাইল অপারেটরের টাওয়ারের মধ্যে ৩২ হাজার ৯০৬টি টাওয়ার অচল হয়ে আছে। যা শতকরা হিসাবে ৫৬ শতাংশ। বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় সবক্ষেত্রেই সাইট অচল হয়ে যাওয়ার কারণ হলো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা। মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব জেলায় আইএসপি অপারেটরদের ৩২০টি পপের মধ্যে ২৫০টি অকার্যকর রয়েছে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে সে সব জেলায় বিভিন্ন আইএসপি পপ পোর্টেবল জেনারেটর দিয়ে সেবা প্রধানের চেষ্টা করছে। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) ১৯টি, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেডের ২৯৬টি, ফাইবার এট হোমের ২৪টি সাইট অচল আছে।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবায় গ্রাহকের চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়ালেও মানহীন সেবা গ্রাহক ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। আর এজন্য দায়ী অপর্যাপ্ত টাওয়ার, মানহীন মাইক্রোওয়েভ, মানহীন ব্যাটারি, ওভার হেড ফাইবার ও জেনারেটর না থাকা।

তিনি বলেন, দেশে সক্রিয় সিমধারী গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি ২৬ লাখ অথচ এর বিপরীতে যেখানে টাওয়ার থাকার কথা প্রায় লক্ষাধিক সেখানে আছে ৪৫ হাজার ২৩১টি। এরমধ্যে রবির দুই হাজার দুইশ ৯৬, গ্রামীণফোনের ১২ হাজার পাঁচশ ২৬, বাংলালিংকের চার হাজার ছয়টি, টেলিটকের ছয়শ ২১ এবং এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের আটশ ৬০, ইডটকো লিমিটেডের ১৬ হাজার ছয়শ ৮৩, সামিট চার হাজার তিনশ ৮৮ ও কীর্তনখোলা ছয়শ ২১ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলের পাঁচশ ১৪টি।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে উপকূলীয় এলাকাসহ সারাদেশে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ঝড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকা। ভেঙে পড়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি, দেয়াল ও গাছপালা। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে জোয়ারের পানি।

পটুয়াখালী : ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে পটুয়াখালীতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ মে) দুপুরের পর কলাপাড়ায় ফুফু ও বোনকে নিরাপদ স্থানে আনতে যাওয়ার পথে জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে মো. শরীফ (২৭) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। ধূলাসর ইউনিয়নের কাউয়ার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত শরীফ অনন্তপাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নগরীর বায়েজিদ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে সাইফুল ইসলাম হৃদয় (২৬) নামের এক যুবক মারা গেছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বায়েজিদের চন্দ্রনগর কলাবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি নির্মাণাধীন ভবনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ধসে পড়া দেয়ালে চাপা পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঢাকা : ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে দেশের অন্যান্য জেলার মতো রাজধানী ঢাকাতেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এই বৃষ্টির মধ্যেই টিনের বেড়া, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে স্পর্শ, বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ মে) রাতে রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও, উত্তর বাড্ডায় ও যাত্রাবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের আলাদা চারটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। মৃতরা হলেনÑ মরিয়ম বেগম (৪৫), লিজা আক্তার (১৫), মো. রাকিব (২৫) ও আলামিন (২২)।

ভোলা : ভোলার তিন উপজেলায় শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে লালমোহন উপজেলার পশ্চিম উমেদপুরে ঘর চাপা পড়ে আব্দুল কাদেরের স্ত্রী মনেজা খাতুন (৫৫), দৌলতখান পৌরসভার মনির হোসেনের চার বছরের মেয়ে মাইশা ও বোরহান উদ্দিন উপজেলার সাজড়া ইউনিয়নে গাছের ডাল পড়ে জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০) মারা গেছেন। ভোলার জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বরিশাল : বরিশালে রেমালের প্রভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নগরের রুপাতলী এলাকায় সোমবার ভোর ৪টার দিকে একটি ভবনের ছাদের ওপরের নির্মাণাধীন দেয়াল ধসে পাশের খাবারের হোটেলের ওপর পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন হোটেলের মালিক লোকমান হোসেন ও কর্মী মোকসেদুর রহমান। এ ঘটনায় শাকিব নামে এক হোটেলকর্মী আহত হয়েছেন। তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া বাকেরগঞ্জ উপজেলার চর দাড়িয়ালের বাসিন্দা জালাল সিকদার (৫৫) গাছের ডাল পড়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

লালমনিরহাট : জেলার আদিতমারী উপজেলায় ঝড়ে গাছচাপায় রেজিয়া বেগম (৭২) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের মহিষতুলি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের তাহের উদ্দিন মুন্সির স্ত্রী।

ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জমসের আলী জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর বৃষ্টির সঙ্গে ঝড় শুরু হয়। পরে ভুট্টার শুকনো মোচা আনার জন্য ঘরের বাইরে বের হন বৃদ্ধা রেজিয়া বেগম। এ সময় একটি সুপারিগাছ ভেঙে বৃদ্ধার শরীরে পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খুলনা : খুলনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে তীব্র বাতাস ও বৃষ্টিতে গাছ উপড়ে ঘরের ওপর পড়লে লালচাঁদ মোড়ল (৩৬) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গাওঘরা গরিয়ারডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নাজমুল হুসেইন খান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের নাপিতখালী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে শওকাত মোড়ল (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মৃত শওকাত মোড়ল গাবুরা ইউনিয়নের নাপিতখালী গ্রামের বাসিন্দা। গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কুমিল্লা : কুমিল্লা নগরীতে নির্মাণাধীন একটি ভবনের দেওয়াল ধসে সাইফুল ইসলাম সাগর (১২) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর শাকতলা এলাকায় নূর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। সাগর শাকতলা এলাকার অলী আহমেদের ছেলে। সে ওই প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) খাদেমুল বাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুষ্টিয়া : ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে কুষ্টিয়ার মিরপুরে টিনের চালার নিচে পড়ে বাদশা মল্লিক (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাদশা মল্লিক চিথলিয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা। চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বাবলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বরগুনা : বরগুনা জেলার সদর উপজেলায় ঘরের ওপর পড়া গাছ সরাতে গিয়ে আব্দুর রহমান বয়াতি (৫৬) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুয়া গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পটুয়ালাখী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে টানা দুই দিনে লণ্ডভণ্ড উপকূলীয় এলাকার বেশিরভাগ জায়গা। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া। ঝড়ের তাণ্ডবে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে কুয়াকাটা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের আশি ঘর কলোনি নামে পরিচিতি জেলে পল্লীটি। এই পল্লীর শতভাগ ঘরগুলো ঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। অচল হয়ে পড়েছে প্রায় ২০০ মানুষের জনজীবন। আশি ঘর কলোনির বাসিন্দা বৃদ্ধ খলিল হওলাদার বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি সব ভেঙে গেছে। ঘরের চাল উড়িয়ে কোথায় নিয়ে গেছে সেটার কোনো খোঁজ পাইনি এখনো। রাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমানোর মতো অবস্থাও নেই। ঘরের মধ্যে সব কাদা হয়ে গেছে।

এই পল্লীর অপর এক বাসিন্দা সেলিম বলেন, আমাদের ৮০ ঘরের মধ্যে প্রায় ৭০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। কেবল মাত্র আমাদের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কিছু শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন। সরকারের কাছে আমরা আবেদন করছি খুব দ্রুত আমাদের সাহায্য করুন।

এ বিষয় কুয়াকাটা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান শরীফ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি আমার সাধ্যমতো তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ৮০ ঘর কলোনির বেশিরভাগ ঘরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তারা খুবই অসহায় জীবন যাপন করছে। তবে সরকারি কোনো সহযোগিতা পেলে আমরা তাদের দুয়ারে পৌঁছে দেব।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, উপজেলার সব চেয়ারম্যানদের খাবার বরাদ্দ দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যাতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে দ্রুত খাবার পৌঁছে যায়। তবে আশি ঘর জেলে পল্লীর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আমি এখনো কোনো তথ্য পাইনি। খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানান তিনি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১