বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১১ June ২০২৪

পরিবর্তনের আশায় ক্রেতা-বিক্রেতারা

পশুর হাটে নানা শঙ্কা


মো: বাবুল আক্তারঃ

ঈদুল আযহার বাকি আর মাত্র পাঁচ দিন। কিন্তু রাজধানীর পশুর হাট দেখে তা বোঝার উপায় নেই। এরই মধ্যে গবাদি পশুতে হাটগুলো প্রায় কানায় কানায় ভরে গেছে। কিন্তু ক্রেতাদের আনা গোনা খুবই কম। যাও কিছু ক্রেতা আসছেন, তারা বলছেন পশুর দাম তুলনা মূলক অনেক বেশি। তাই সাধ্যের মধ্যে পছন্দের গরু কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

অন্যদিকে বিক্রেতা ও খামারিরা বলছেন, এ গরম আবহাওয়ার মধ্যে পশুকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়েছে। তবে খরচ হিসাবে ভালো দাম পাচ্ছে না তারা। এ অবস্থায় সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পশু কিনতে পারবেন কি-না তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন ক্রেতারা। আর ক্রেতা সংকট এবং চাহিদা মতো দাম না পাওয়া, কোরবানির বাজারে লোকশানের আশঙ্কা করছেন দেশের খামারি ও পশু বিক্রেতারা। তবে ঈদের দুই-একদিন আগে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে আশায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের। সরেজমিন রাজধানীর কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে আগামী ১৩ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কুরবানির পশুর বেচা-বিক্রি শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই হাটগুলোতে হাজার হাজার পশু তোলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার শাহজাহানপুর, উত্তরা দিয়াবাড়ী, খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া, বসিলা, পোস্তগোলা ও রাজধানীর স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীতে সরেজমিনে দেখা গেছে, ইজারা হওয়া হাটের জায়গাগুলোতে কমবেশি গরু থাকলেও এখনও ইজারাদাররা শ্রমিকদের নিয়ে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ক্রেতাদের তেমন ভিড় নেই।

শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার কোরবানির পশু এসেছে। জামালপুর থেকে আসা ব্যাপারী বোরহান মিয়া বলেন, আমরা আগেই বাজারে গরু নিয়ে এসেছি। আমাদের সঙ্গে কয়েকশ গরু আছে। আমরা বাজারের ভালো জায়গা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখছি, বাকি গরু এলে সেগুলোও এখানে রাখা হবে। কিন্তু ক্রেতা খুবই কম। যাও দু-একজন আসছে তাদের দাম শুনে আমরা হতাশ হচ্ছি।

বাজারে ক্রেতা আসছে কিন্তু বিক্রি হয়েছে কি না জানতে চাইলে কুষ্টিয়া থেকে আসা গরু ব্যাপারী আমজাদ হোসেন বলেন, এখনও বিক্রি হয়নি। ক্রেতারা বাজার যাচাই করে দেখছেন।

মেরাদিয়া বাজারে মেহেরপুর থেকে গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারী মতিয়ার। তিনি বলেন, এবার গরুর দাম বেশি হবে। বছরের শুরু থেকেই গরুর খাবারের দাম বেশি। তাছাড়া আমাদের খরচ আছে, গরু আনার ভাড়া বেশি। সব মিলিয়ে দরদামের ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি চাইতে হবে। বিক্রি না হলেও আগেই বাজারে গরু আনার বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার ব্যাপারী শফিক বলেন, মূল বাজারে দুই দিন আগে থেকে যেতে পারবো। তবে বাজারের ভালো জায়গা যেখানে ক্রেতা বেশি আসবে সেটা ধরে রাখতেই কিছু গরু আগেই নিয়ে এসেছি। আমার এলাকা থেকে অন্যরাও আসবে, তাদের জন্য জায়গা রাখছি আমরা।

গাবতলি হাটে পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলা থেকে আসা খামারি আব্দুল কাদের বলেন, গত বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি প্রায় ২৬৮টি মোটাতাজাকরণ গরু বিক্রি করে ভালো লাভ করেন। তবে এ বছর মোটাতাজা গরুর চাহিদা কিছুটা কম থাকায় এবং পশু পালন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৫০টি গরু লালন করেন। এর মধ্যে ১০০টি গরু তিনি পাইকারি বিক্রি করছেন। এ হাটে ৫০টি গরু তিনি এনেছেন এর মধ্যে মাত্র ৪টি বিক্রি হয়েছে, তাও আশানুরুপ দাপ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

গাবতলি হাটের ক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, তিন থেকে সাড়ে তিন মণ ওজনের একটি গরু কিনতে হাটে যেয়ে রীতিমত হোঁচট খেতে হয়েছে তাকে। তিন মণের গরু এক লাখ টাকার ওপরে দাম চায়। এত দাম দিয়ে গরু কেনার বাজেট নেই তার, বাধ্য হয়েই গরু কেনার জন্য আরও কয়েকটি হাট ঘুরতে হবে তাকে।

ঢাকা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বাসনা আখতার বলেন, কোরবানির জন্য পশুকে মোটাতাজা করে আকর্ষণীয় করতে নিয়ম করে গরু-মহিষকে কাঁচা সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল, ফিডসহ অন্যান্য দামি খাবার খাওয়াতে হয়েছে খামারিকে। এরমধ্যে বর্তমান গরম আবহাওয়া স্বাস্থ্যবান গরুর জন্য ঝুঁকিপুর্ণ। দানাদার খাবার বেশি দিলে হজমে সমস্যা হতে পারে। হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই খুবই সতর্কতার সঙ্গে তরল ও আঁশজাতীয় খাবার দিতে হয়েছে। এ কারণে তুলনামূলক এ বছর পশুরু উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়ে গেছে।

এদিকে সীমান্ত পথে অবৈধভাবে ভারত থেকে গরু দেশের কোরবানির হাটে আসার শঙ্কায় রয়েছেন উত্তরের সীমান্তবর্তী এলাকার খামারিরা। অবৈধভাবে আসা ভারতীয় গরু কোরবানির হাটে প্রবেশ করলে তারা ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে জানান। কুমিল্লার খামারিরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ১০৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে সীমান্ত। প্রতিবছরই কোরবানির ঈদের সময় অবৈধভাবে কমবেশি গরু প্রবেশ করে। এবারও জেলার খামারিরা শঙ্কায় আছেন। গম, ভুসি, ভিটামিন, ভুট্টাসহ অন্যান্য খাবারের দাম যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে সঠিক মূল্য পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন খামারিরা। কোরবানীর পশু বিক্রির এসব ওয়েবসাইটে গেলে দেখা যায়, কোরবানি উপলক্ষে বিক্রির অপেক্ষায় থাকা বেশ কিছু গরুর ছবি, কোড নম্বর, দাম এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর ভিডিও। হাটে বিক্রির অপেক্ষায় থাকা কোরবানির গরুর দাম ৩৫ হাজার থেকে দেড় লাখ (১৫০ হাজার) টাকার মধ্যে। দাম ও সাইজ দেখে কেউ যদি কোনো পশু পছন্দ করেন তবে দিয়ে দিতে পারেন অনলাইনে বুকিং। এর পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ই-ক্যাশ, বি-ক্যাশ কিংবা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে পছন্দের পশু কিনতে পারবেন ক্রেতারা। ইচ্ছে করলে দেশের বাইরে থেকেও কেউ অর্ডার দিয়ে করতে পারবেন এই কেনাকাটা। ফলে অনলাইনে পশু বিক্রির প্রভাব পরেছে পশুর হাটগুলোতে।

খামার মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, এ বছর পশুপালন খরচ অনেক বেড়েছে। আমাদের এখানে গরুর যে জাতগুলো এখন আছে এগুলোকে কমপক্ষে ১৬ থেকে ১৮ কেজি দানাদার খাদ্য খাওয়ানোর পর গরুর মাংস এক কেজি বৃদ্ধি পায়। প্রতি কেজি দানাদার খাবার কমপক্ষে ৪৫ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি খামারের যাবতীয় খরচ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় একটি বড় গরু তৈরি করতে মণপ্রতি ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগছে। কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা মণ দরে বড় গরু বিক্রি করতে পারলে খামারিরা লাভের মুখ দেখতে পারবে। তবে বাজারে ২৬ থেকে ২৮ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে খামারিদের মূলধন হারানোর শঙ্কা রয়েছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১