আপডেট : ১২ June ২০২৪
এস এম হালিম মন্টু, নড়াইল: নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের মাষ্টাররোলে কর্মরত অফিস সহায়ক মোহাম্মদ উল্লাহ কর্তৃক নড়াইল পৌরসভার ধোপাখোলায় পাকা একতলা বাড়ি ভাঙচুর করে জবরদখলের চেষ্টা করে। ভুক্তভোগীরা প্রতিকারের জন্য বহুবার আইনের আশ্রয় নিতে চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে তা পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। অবশেষে ব্যাপকভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা প্রশাসক মোহম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরি, নড়াইল পুলিশ সুপার মোঃ মেহেদী হাসান এবং নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা ক্ষতিগ্রস্তের বাড়ি যান এবং বিচার পাওয়ার আশ্বাস ভূমিদস্যু মোহাম্মদ উল্লাহ কিছুটা শান্ত হয়েছেন। ভূমিদস্যুর শাস্তির দাবি ও ক্ষতিগ্রস্তদের উপর জুলুমের প্রতিবাদে জানিয়েছেন ভূক্তভোগির পরিবার। মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুরে আদালত চত্ত্বরে মানববন্ধন করেন। এ এ মানববন্ধননে স্থানীয় এলাকাবাসি ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে ছিলেন। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য জমির মালিক আব্দুল মান্নানের স্ত্রী নাছিমা বেগম ও তার ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন। এ ঘটনায় তারা নড়াইল-২ আসনের এমপি জাতীয় সংসদের হুইপ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জানা গেছে, ২০০৮ সালে আব্দুল মান্নান ধোপাখোলায় ১৫ শতাংশ জমি কিনে নামপত্তন ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। গত ৫ বছর আগে জমিতে একতলা পাকা ঘর করে বসবাস শুরু করেন। গত অক্টোবর মাসে তিনি অসুস্থ হয়ে সপরিবারে ঢাকায় ছিলেন। এই সুযোগে মোহাম্মদ উল্লাহ কয়েক সন্ত্রাসী নিয়ে ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে। নাসিমা বেগমের ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, যখন মোহাম্মদ উল্লাহসহ কয়েক সন্ত্রাসী বাড়ি ভাঙচুর করে তখন আমরা এর প্রতিবাদ করলে তারা বলেছিল আমরা মাশরাফির লোক। আমরা বিভিন্ন সময় থানায় অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। তিনি আরো বলেন, জমির ওপর আদালতের স্থিতাবস্থা থাকলেও ভূমিদস্যুরা তার বাড়ির ৪টি কক্ষ, একটি রান্না ঘর ও একটি গোয়াল ঘর ভেঙ্গে ফেলেছে। প্রায় ৬লাখ টাকার মালামাল, জানালা ও দরজা লুট করে নিয়ে গেছে। বাড়ির প্রায় ১০টি গাছপালা কেটে ফেলেছে। আমরা এই ভূমিদস্যূর উপযুক্ত বিচার চাই গত ২৫মে বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও গাছ কাটার ঘটনায় সিআইডতে সিআর মামলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি খবর (৭ জুন) টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত হলে বিষয়টি এমপি মাশরাফীর ব্যক্তিগত সহকারী মোঃ জাহিদুর রহমানের চোখে পড়লে তিনি ওই রাতেই মাশরাফির নাম ভাঙিয়ে বাড়ি ভাঙচুর ও গাছ কাটার ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি শহরের ধোপাখোলায় নাসিমা বেগম নামে এক মহিলার বাড়ি ভাঙচুর ও গাছ কাটার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয় ও অপরাধীদের সম্পর্কে এমপি অবগত নন। যারা তাঁর নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম করছে তাদের আইনের আওতায় আনতে বলা হয়েছে। এ অভিযোগের পরপরই মোহাম্মদ উল্লাহকে সদর থানা পুলিশ ১৫১ ধারায় গ্রেফতার করলেও পরের দিন সে আদালত থেকে জামিন পায়। এ বিষয়ে নড়াইল পৌর মেয়র আঞ্জমান আরা বলেন, একটি টিভি চ্যানেলে এ নিয়ে নিউজ প্রকাশিত হলে বিষয়টি জানতে পেরে নাসিমার বাড়িতে যাই। তার মাথাগোজার ঠাঁই হিসেবে ওই জমির ওপর একটি টিনের ঘর তৈরি করে দেয়া হবে এ ছাড়া নাসিমার পরিবার যাতে সঠিক বিচায় পায় সেজন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবো। মামলার বিষয়ে নড়াইল সিআইডির ইন্মপেক্টর মলয় কুমার সাহা বলেন, এটি একটি সিআর মামলা। সিআইডি মামলাটির তদন্ত শুরু করেছে। দ্রুতই তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে। তিনি কাওকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১