আপডেট : ০৬ July ২০২৪
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় ৬টি পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়ে নারী শিশু বৃদ্ধদের নিয়ে ঝড় বৃষ্টির এই বৈরী আবহাওয়ায় নিজেদের বসত ভিটের পাশে গাছের বাগানে খোলা আকাশের নিচে পলিথিনেরে চালায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিল । বর্তমানে তারা অন্য মানুষের ঘরবাড়িতে আশ্রয় নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। এখন পর্যন্ত সমাজের কোন বিত্তবান মানুষ এসে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। গত ৩০ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে উচ্ছেদ হওয়া সর্বস্ব হারানো ৬ পরিবারের নিদারুণ দৈন্যদশার একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর মুক্তাগাছার আলেমসমাজ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকদের একটি অংশের যৌথ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন সহায়তার উদ্দেশ্যে একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ নিয়ে তারা বিভিন্ন মহলের সাথে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ঘটনা সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছা শহরের পাড়া টঙ্গী এলাকার মৃত ছোরাব আলীর পুত্র ছালাম মাস্টার, ছামাদ আলী, মৃত রুস্তম আলীর পুত্র রতন একই গোষ্ঠীর চাচাতো ভাই, ভাতিজা সুরুজ আলীর মালিকানাধীন সম্পত্তির মালিক নিজেদের দাবি করে মুক্তাগাছা পৌরসভার অদূরে আলুর মোড়, মাঠ পাড় এলাকা নামে পরিচিত মুজাটি মৌজায় ৯৬ শতাংশ ভূমি আহমদ এর পুত্র মফি, তৈয়ব আলীর পুত্র লেবু খলিফা, তোফাজ্জল হোসেন (পঙ্গু তোফাজ্জল), সুমন ড্রাইভার, হাসিদার গং দের নিকট বাজার মূল্যে নগদ টাকা গ্রহণ করে খোলাসা সাফকাওলা রেজিস্ট্রি দলিল মূলে বিক্রি করে। এবং দখল বুঝিয়ে দেয় বর্তমানে উচ্ছেদ হওয়া ৬ পরিবার সহ অন্যান্য ক্রেতাদের মাঝে। এরপর থেকে উক্ত ভূমির নতুন মালিকগণ ঘরবাড়ি নির্মাণ ও গাছপালা রোপন করে বিগত ১৪ বছর যাবত শান্তিতে বসবাস করে আসছে। হঠাৎ কিছুদিন আগে জমির প্রকৃত মালিক সুরুজ আলী এই জমি অবৈধ মালিক মৃত ছোরাব আলীর ওয়ারিশগণের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করলে বিরোধপূর্ণ ভূমির প্রকৃত মালিক সুরুজ আলীর পক্ষে আদালতের রায় আসে। পরবর্তীতে সুরুজ আলীর উচ্ছেদ মামলার প্রেক্ষিতে উক্ত ভূমি হইতে সকল ধরনের স্থাপনা সহ অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের এক আদেশ দেয় আদালত। আদালতের নির্দেশে গত ২৭ জুন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের লোকজন উচ্ছেদ কাজে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও বিভিন্ন পেশার লোকজন সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। যার ফলে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যের সম্পদের ক্ষতির শিকার হয় উচ্ছেদ হওয়ার সহজ-সরল নিরীহ প্রকৃতির মানুষগুলো। এ ব্যাপারে এই প্রতিবেদক ভূমি বিক্রেতাদের একজন মৃত রুস্তম আলীর পুত্র রতনের ব্যবহৃত মুঠু ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে এক পর্যায়ে কথা হলে রতন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। রতন এ ব্যাপারে আরো বলেন, যে জমি বিক্রির সময় চাচার কথায় তিনি জমির মালিক দাবী করে জমি বিক্রি করেছেন । এছাড়া তিনি আর কিছু জানেন না। তবে জমির দলিল হওয়ার পর চাচারা তাকে টাকার ভাগ দিয়েছে। এই প্রতিবেদকের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জমি বিক্রির সময় ওরা তো কাগজ পাতি দেখেই কিনেছে তখন সব ঠিক ছিল। এখন হঠাৎ করেই সমস্যা হয়ে গেছে আমি কি করব। আমরা তো ওদের জায়গা বিক্রির পর বুঝিয়ে দিয়েছি।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেখান থেকেও বাগান মালিকের নিষেধে ভিটেমাটি সহ ঘরবাড়ি হারানো, হত -দরিদ্র, এই মানুষগুলোকে সরে যেতে হল।
উক্ত অভিযানে আহমদ এর পুত্র মফি, তৈয়ব আলীর পুত্র লেবু খলিফা, তোফাজ্জল হোসেন (পঙ্গু তোফাজ্জল), সুমন ড্রাইভার ও হাসিদার বাড়িসহ মোট ৬টি পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর সুরুজ আলীর জমির সীমানা নির্ধারণ করে চারদিকে লাল নিশান টাঙিয়ে ঢুল বাঁজিয়ে আশপাশের লোকজনকে অবগত করে অভিযান সমাপ্তি করে।
এ ব্যাপারে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অসহায় লোকজন দীর্ঘ শ্বাস ফেলে এই প্রতিবেদক কে কেঁদে কেঁদে বলেন , "আমরা শরীরের ঘাম জড়ানো পরিশ্রমের টাকা দিয়ে জমি কিনে নিজেদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ হয়ে গেলাম। আমাদের তো আর এক শতাংশ জমি নেই এই দেশে। আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো এখন? কে আমাদের আশ্রয় দেবে? আমরা যাদের জমি কিনে প্রতারণার শিকার হয়ে আজ সব হারিয়েছি তাদের জন্য কি কোন আইন নেই এ দেশে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১