বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৮ July ২০২৪

বন্যার্তদের বসতবিটা রক্ষায়, সীমান্তের মরা বালুই ভরসা


 

শামছুল আলম আখঞ্জী, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার নিন্মাঞ্চলের বসতিরা দুর্যোগ বন্যার সাথে যুদ্ধ করে শতাব্দী থেকে শতাব্দী পর্যন্ত ঠিকে আছে। আফাল ঢেউয়ের তান্ডবে, বসতবিটায় ক্ষয়ক্ষতি হলে,বন- মাটি না থাকায় "ভরসাই,, সীমান্তের মরা বালু, তা দিয়েই করে ক্ষত স্থানের সমাধান। এর বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মরা,এভাবে চলবে চিরকাল,এমনটা জানিয়েছেন স্থানীয়জন।

জানা যায়, হাওর পাড়ের বসতিরা ছয় মাস স্থলে, আর ছয় মাস জলের মধ্যে চলে তাদের বসবাস। হেমন্তে মুক্ত বিহঙ্গে চলাচল, এক ফসলি বোরোধান চাষবাসে মেতে উঠে। সোনালী ফসল ঘরে উঠার পরে, বসতি বাড়ি মেরামত করতে, জমি থেকে মাটি আনে,খুব তারাতাড়ি, দৌড়াদৌড়ি করে কাজ সাড়ে । না হয়, জলের নিচে যাবে মাটি-বন। এ কারণে, চিন্তায় বিভোর হয়ে পড়ে বসতিজন। কোনো মতে,চালা, প্লাস্টিকের বস্তুায় মাটি ভরাট করে,বাঁশ গেঁড়ে কোনো রকমে বাঁধে ইড়। জ্যৈষ্টের বেশি খড়ায় ফেটে যায় বস্তুা। এ ফলে আষাঢ়ের ভাটা পানি,উজানের ঢল,বন্যার আফাল ঢেউয়ের ছোঁয়াতেই, চোখের সামনেই ভাঙতে থাকে ইড়ের সকল কল।ধুয়ে ছুয়ে নিয়ে যায়, বসতবাড়ির মাটি।বড় বড় গর্ত হয়। বসবাসের অনুপযোগী। এ কারণে, শিশু, বৃদ্ধসহ পরিবারের লোকজন, গৃহে চলাচলের ক্ষেত্রেও দুর্ঘটনার সম্মুখীন।এসব রোধে, মাটি কিংবা বালু। বাধ্য হয়ে ঋন- দফা করে, আনতে হয় সীমান্তের মরা বালু। বন্যার্ত মানুষের 'ভরসাই, সীমান্তের মরা বালু।

স্থানীয় ও এলাকাবাসীদের তথ্য মতে জানা যায়, টাংগুয়ার ,পালই মাটিয়ান, সংসার, এরাল্লাকোনা, গইন্নাকুড়িসহ বিভিন্ন হাওরের পাদদেশে, আগের মত চাইল্লা, বৌল্লা ইগড়া নলখাগড়া, বিন্নারমুড়াসহ, এরাইল্লাবন নেই। যে কারণে হাওর পাড়ের বসতিরা বসতবিটা রক্ষায়, ইড় বাঁধায় পড়ে যান বিপাকে। বাপ দাদার আমলে, হাওরে যে পরিমাণে বন ছিল। তা দিয়ে মুড়ি মেড়ে ইড় বাঁধতেন তারা। বন্যার আফাল ঢেউ থেকে অতি সহজেই রক্ষা পেত বাড়ির বসত বিটা। আজ আর সেই বন নেই। বাধ্য- অবাধ্য হয়েই, দুর্যোগ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান, মেরামত জন্য প্রয়োজন সীমান্তে মরা বালু।

বন্যার সাথে যুদ্ধ করতে,,উল্লেখযোগ্য ছিল হাওরের এরাইল্লাবন,আষাঢ় মাসের ভাসা জল, আসার সাথে সাথে, হাওরের ডুবন্ত জমির মধ্যে ইরাইল্লা বন ভরে যেত। আর এসব বন দিয়ে দুর্যোগ বন্যা সাথে যুদ্ধ করার হাতিয়ার তৈরি হত। আফাল ঢেউয়ের আঘাতে ভেঙে যাওয়া স্থানে, নৌকা ভরে এনে মেরামত করা হত। ইরাইল্লা বনেই, তখন যথেষ্ট ছিল। আজ আর সেই বনের দৃশ্য বিলীন হওয়ার পথে। সীমান্তের মরা বালু দিয়েই, ঠিকছে আজ জনবসতি।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের বাগলী, নয়াছড়া সুন্দর বন, লালঘাট, কলাগাওঁ, জঙ্গল বাড়ি, চারাগাওঁ, বাঁশতলা, লাকমা ছড়ার মরা বালুর উপরেই বন্যার্তদের নির্ভরশীল।

দরিদ্র বসতিরা স্বল্প মূল্যে মরা বালু ক্রয় সার্ধে, বস্তুা ভরে ইড় বাঁধে।প্রকৃতি অনুকূল থাকলে,এ বছর বসত বিটা রক্ষা হয়। অন্যথায় আফাল ঢেউয়ের আঘাত হানলে, চোখের সামনেই জন্মবিটা ভেঙে ছুড়ে পড়ে, অপলক দৃষ্টিতে দেখতে দেখতে সময় চলে । কিছুটা অস্থিতিশীল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হলে স্বাভাবিক চলাচল সুযোগ ঘটে। আর এবছর (প্রায়) এক মাস বন্যার জল,হাটে, ঘাটে, রাস্তা আছে জলের নিচে। কেদাজলে সেঁতসেঁতে যোগাযোগ অনুপযোগী হয়ে ওঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বন্যার সময় সীমান্তের মরা বালু আনার জন্য উম্মুক্ত ভাবে সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন । অন্যথায়, নিন্মাঞ্চলের বসতবাড়ি রক্ষায়, প্রতিটি গ্রামে, ওয়াল প্রোডাকশনের আওতায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে । কৃষক প্রধান দেশে, কৃষি চালিকা শক্তি বৃদ্ধির চলমান রাখতে হলে,হাওর পাড়ের জনগোষ্টীকে হাওর পাড়ে বসবাসের জন্য সময় উপযোগী ব্যবস্তা করা হউক।
শ্রমিক মোশাররফ মিয়া বলেন,বাড়ির ইড় বাঁন্দি,বস্থা তটস্থা দিয়ে, আগের মত বন চন নাই আওর,আগে কত বন আছিন,মুড়ি গুঁড়াই বানদিলে,টেউয়ের বাপে ও সাধ নাই ভাংবার। এখন ত কোনোতে বাদ দেই, বছর বালা হইলে, ভাংঙ্গে না। হইলে ত উপায় নাই। তখন একমাত্র ভরসা, চারাগাও কলাগাও, সুন্দর বনে বালু, এটি আইনা বস্তুা বইরা দিয়ে টেউডা বাঁচে। এই সব বন্ধ হইলে, আমরা যাওনগা লাগবো এই খানতাইক্কা।

বন্যার আফাল ঢেউয়ের আঘাতে, ক্ষয়ক্ষতি হইলে, সীমান্তের এই মরা বালু উপর (প্রায়) অর্ধ শতাধিক গ্রামের মানুষ নির্ভরশীল। সীমান্তবর্তী হাওরাঞ্চলের গ্রামগুলো হলো,তরং শিবরামপুর বেতাগড়, মাটিয়ান, কদমতলী, খালা শ্রীপুর, কুঁড়ের পাড়, শ্রীপুর, উজ্জ্বল পুর, খালাগাওঁ, নয়া বন্দ, দলইগাও,তেলীগাও বালিয়াঘাট,বানিয়াগাও, গোলকপুর, অমৃত পুর খইশাজুড়ি, কামারকান্দি চতুর্ভুজ, বড়দল, মদনপুর নবাব পুর,ভোরাঘাট,জামালপুর দুধের আউটা, ছিলানী তাহিরপুর, জয়পুর গোলাবাড়ি সহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ক্ষতি গ্রস্ত স্থান মেরামত করেন বসতিরা। স্থানীয় ও এলাকার তথ্য মতে জানা যায়, সীমান্তের এই বালু, পূর্ব কাল থেকেই ইজারা মক্ত, তাই এখানকার মানুষ জানেন, বাড়ি বাঁধার বালু হিসাবে ব্যবহার করে থাকেন তাঁরা। বালু আনতে কাউকে চাঁদা দেওয়া হয় না।

তরং গ্রামের বসতি ইমরান হোসেন (৬০) উর্ধ তিনি বলেন, এই বারের বইনার কথা কই,একে, একে দুই বার পানি আইছে,বাড়ির উপরে পানি উঠটিয়া ভাই ঙ্গি ছুইরা শেষ।থাকবার লাগি, ঋন কররিয়া দুই বোঝাই মরা বালু আইননিয়া কোনো মতে আছি বাড়িত। আর এই (সীমান্ত) বা বর্ডারে বালু আছে বইল্লাই আমরা হাওর পাড়ে বসবাস করতাছি। ভরসাই এই মরা বালু। না হয়, কত আগে বাড়ি পালাই যাওনগা লাগতো।

নিন্মাঞ্চলের বসতি মোস্তাকুল মিয়া বলেন, হাওর পাড়ে যারা বসবাস করে, তারাই শুধু জানে আফাল ঢেউয়ের আঘাতে ভেঙে ছুড়ে যাওয়ার যন্ত্রণা। অন্য কেউ তা বুজবেনা। আমি উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবী জানাই,, হাওর পাড়ের বসতি রক্ষায়, বন্যার সময় ,সীমান্তের মরা বালু আনার সুযোগ দেওয়ার জন্য, মাননীয় এমপি এড রনজিত চন্দ্র সরকার মহোদয় ও মন্ত্রী মহোদয়সহ সকল দায়িত্ব শীল ব্যক্তিবর্গ ও উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবী জানাই। অন্যথায়, বন্যার আফাল ঢেউয়ের তান্ডব থেকে রক্ষার জন্য,প্রতিটা গ্রামে ওয়াল প্রোডাকশন নির্মাণ করতে হবে। না হয় ছাড়তে হবে,, বাপ দাদার বসতবাড়ি।

হাওর পাড়ের শতাধিক দরিদ্র লোকজন জানান, বন্যার আফাল ঢেউয়ের আঘাতে,যখন বসতবাড়ি ভেঙে যায়,তখন সীমান্তের মরা বালু এনে কোনো মতে বসবাসের উপযোগী করে বসবাস করি।এছাড়া গ্রামের রাস্তা ঘাটেতো, কেদা জলে সেঁতসেঁতে পরিনত হয়। এসব সাড়তে হলে, মাটি না থাকায়, বালুই ভরসা। তাই এসব বালু বন্ধ করে দেওয়া হলে। হাওরাঞ্চলের প্রতিটি গ্রামে ওয়াল প্রোডাকশন নির্মাণ করতে হবে। অন্য থায় হাওর পাড়ে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে ওঠবে। এখন বছরে একাধিকবার বন্যার হানা। অন্য দিকে সীমান্ত মরা বালু আনতে নিষেধ দিচ্ছেন, সীমান্তের দায়িত্ব শীল কতৃপক্ষ। আমরা এখন কোথায় যাবো? খবরে শোনা যায়, জলবায়ুর পরিবর্তন হয়েছে, এসবের কারণে বন্যা হচ্ছে। এসব তো আর একদিনে যাবে না। সরকার বাহাদুর বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে?নিরুপায় হয়ে,ছেড়ে যেতে হবে এর জন্মস্থান।
এব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, বন্যার্তূদের বসতবিটা রক্ষায়, প্রয়োজনে উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে গিয়ে হলেও, ক্ষতি গ্রস্ত মানুষদের জন্য, সীমান্তের মরা বালু আনার ব্যবস্থা করবো। আমি দেখেছি, পূর্ব পুরুষরাও সীমান্ত এলাকা থেকে বালু পাথর এনে, দুর্যোগ মোকাবিলা করেছেন। আমি, বন্যার্তদের পাশে আছি এবং থাকবো।

 

 

 

 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১