বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১২ July ২০২৪

সুনামগঞ্জের সীমান্তে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে ভারতীয় বন্য হাতির দল


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে বন্য হাতির দল সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় এসে লোকালয়ে এসে হানা দিচ্ছে। এই কারণে স্থানীয় কৃষকদের কষ্টে ফলানো তাদের কৃষি জমি,ঘরবাড়ি ও জান মালেরও ক্ষতি হচ্ছে। গত ১ মাস ধরে হাতির উপদ্রুত বেড়েছে। ভারত থেকে রাতে এসে ভোটের আলো ফোটার আগেই চলে যায়। কখনো দিনের বেলায় ও আসে। বনবিভাগের লোকজনকে জানানোর পরও কোনো সমাধান হবে না জানিয়েছেন সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় এক সময় ঘন বনজঙ্গল ছিল। যেখানে শুধু হাতিই নয় নানান ধরনের বন্যপ্রাণী নিরাপদে আশ্রয় নিলেও সেই আবাসস্থল দিনদিন উজাড় হচ্ছে। নতুন করে দখল ও স্থাপনার দেখা মিলছে,হাটবাজারও হচ্ছে জঙ্গল কেটে। বন্য প্রাণী বাস্তুসংস্থান হারানোয় এখন হাতির উপদ্রব বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান,২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বরে মেঘালয় রাজ্যের গুমাঘাট থেকে সীমান্ত নদী যাদুকাটা হয়ে ৭টি বন্যহাতি বাংলাদেশ সীমান্তে নেমে এসেছিল। হাতিগুলো উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বড়গোপ,মাহরাম,আনন্দপুর,কড়ইগড়া গ্রামের কৃষকদের বোরো জমিসহ জঙ্গলের গাছগাছালি নষ্ট করেছিল। হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে গ্রামবাসী ঘরের সামনে আগুন জ্বালিয়ে রাতে অবস্থান করেন। অনেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন। গত সপ্তাহ তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন লাউড়েরগড়,মুকশেদপুর শাহিদাবাদ এলাকায় বন্য হাতির ১০-১২ হাতি এসে আখ ক্ষেত, কাঁঠাল বাগান,বীজতলাসহ ফসলের ক্ষেত নষ্ট করছে।

কৃষক নজরুল ইসলাম জানান তার ৫ একর জমি নষ্ট করেছে বন্য হাতির দল। এই ফসলের আমার সংসার চালে। আমি কোনে ভাবেই আমার এই কষ্টে ফলানো ফসল রক্ষা করতে পারছি না।

সীমান্ত এলাকায় সচেতন মহল বলছেন,ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের উভয় দেশে হাতিদের বিচরণস্থল বন জঙ্গল বিলীন করে দেওয়ায় হাতির উপদ্রব বেড়েছে। এছাড়াও সুনামগঞ্জ বনবিভাগ তাদের মালিকানাধীন জায়গা ধরে রাখতে পারছে না আর নতুন বনায়নও করছে না। তাদের উদাসীনতায় বনজঙ্গল উজাড় হচ্ছে দিন দিন। তাই বন্যপ্রাণী বাস্তুচ্যুত হওয়ায় এখন মাঝে মধ্যে লোকালয়ে চলে আসছে।

সুনামগঞ্জ বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে জেলার তাহিরপুর,বিশ্বম্ভরপুর ছাতক,দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ সদর ও ধর্মপাশায় বনবিভাগের প্রায় ১৮ হাজার একর জঙ্গল রয়েছে। এর বাইরে কান্দা শ্রেণির কিছু প্রাকৃতিক জঙ্গল আছে বিভিন্ন এলাকায়। বিভিন্ন এলাকায় বনবিভাগের জায়গা অনেক প্রভাবশালীরা দখল করে গাছ কেটে গড়ছেন স্থাপনা। বাংলাদেশ সীমান্তের পাশাপাশি ভারত সীমান্তেও পাহাড় ও বন জঙ্গল কেটে রাস্তাঘাট ও স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে বন্য প্রাণীরা বাস্তুসংস্থান হারিয়ে জনপদে এসে হানা দিচ্ছে।

সীমান্ত এলাকায় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,যাদুকাটা নদীর পশ্চিমে বড়গোপটিলায়ও দখল করে তৈরি করছেন ঘর-বাড়ি,স্থাপনা তৈরি হচ্ছে,কাটা হচ্ছে বাগান। সরকারি জমিতে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিয়েছেন দখলকারীরা। বড়গোপ টিলা (বারেকটিলা) একসময় বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ছিল। কিন্তু দিনদিন বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল বন জঙ্গল কমছে। সরকার বনায়নের জন্য বনবিভাগকে নির্দেশনা দিলেও বন সৃজন করা ত দূরের কথা তাদের উদাসীনতায় স্থানীয় মানুষজন বন জঙ্গল কেটে নিলেও বনবিভাগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যার ফলে বন্যপ্রাণীরা বাস্তুসংস্থান হারিয়ে এখন ঘন ঘন উপদ্রব করছে।

লাউড়েরগড় সীমান্ত এলাকায় বাসিন্দা জামিল মিয়া জানান,মানুষ যেটাকে উপদ্রব বলছে সেটা আসলে উপদ্রব নয়,বরং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বিনষ্টের কারণ। শুধু বাংলাদেশ সীমান্তেই নয় ভারত সীমান্তেও উজাড় হচ্ছে বন জঙ্গল। তাই ভারত সীমান্তের কাটা তারের বেড়া অতিক্রম করে আসা বন্য হাতির আগমন বন্ধ করার বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা পারভিনের জানান,এই বিষয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সুনামগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদ উদ্দিন বলেন, তাহিরপুরের লাউড়েরগড়,দশঘর এলাকায় যে স্থানে পাহাড়ি হাতির উপদ্রব সে স্থান বনবিভাগেরই জায়গা। আমাদের লোকজন হাতি আসার খবর পেয়ে সরজমিনে গিয়ে স্থানীয়রা যাতে হাতির দলকে আক্রমণ না করতে নিষেধ দিয়েছে। তাদের মধ্যে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়াও বনবিভাগ বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল সুরক্ষার পাশাপাশি বনায়নের কাজ করছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১