বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৩ July ২০২৪

সাংসদ রনজিৎ সরকারের হস্তক্ষেপে নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ




তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার নৌপথে একাধিক স্থানে বেপরোয়া চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করলে, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এড.রনজিৎ সরকারের নজরে আসে, তখন তিনি জেলা সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত চাঁবাদাবাজী বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করায়। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে, বাধ্য হয় চাঁদাবাজরা। এ নিয়ে লোক মুখের প্রশংসায় ভাসছেন, সাংসদ এড.রনজিৎ চন্দ্র সরকার।

দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময় ধরে, সাবেক এমপি ও দুর্নীতির বরপুত্র রতনের পালিত বাহিনী নৌপথে চাঁদাবাজি করে আসছিলো।বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধ করায়, ব্যবসায়ী ও নৌযান শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বালি পাথর ও কয়লা-চুনাপাথর ব্যবসায়ী, নৌ শ্রমিকরা চাঁদাবাজি বন্ধে বারবার পুলিশ,ও জেলা - উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পরও কোনো বিহিত ব্যবস্থা না হওয়ায়,পরাধীনতার গ্লানিররশ্মি টেনেটেনে যখন ভুক্তভোগীরা ক্লান্ত। ঠিক এই মুহূর্তে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এড রনজিৎ চন্দ্র সরকার এর কাছে চাঁদাবাজি বন্ধে হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ব্যবসায়ী ও নৌ-পরিবহন শ্রমিকদের স্বার্থে, বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা করা হয়। এবং নৌ পথে চাঁদাবাজি বন্ধে, ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও জানা যায়, সাংসদ রনজিৎ সরকারের বিশেষ পদক্ষেপের কারণে,সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা, ঘাগড়া, লাউরেরগড়, ফাজিলপুর, ও ফতেপুর ইউনিয়নের রঙ্গিয়ারচর ঘাট, তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীর বিআইডব্লিউটিএ ও কোটগাড়ি নৌকা ঘাটগুলোতে অতিরিক্ত টোল ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে টোল আদায় করতে বাধ্য হচ্ছেন ইজারাদার ও উপজেলা প্রশাসন।এর ফলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ী ও নৌ শ্রমিকরা লাভবান হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারও পাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। গত কয়েক বছর ধরে এই ঘাটগুলো থেকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের যোগসাজশে জোরপূর্বক প্রতিটি নৌকা থেকে ১৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে আসছিল চাঁদাবাজরা। নৌপথে চাঁদাবাজদের চাহিদামতো চাঁদা না দিলেই, নৌযান শ্রমিকদের উপর চলত নির্মম অত্যাচার।

উল্লেখ্য, টানা কয়েক বছর তাহিরপুরের পাটলাই নদীর ডাম্পের বাজার ও মন্দিয়াতা এলাকায় টোল ট্যাক্স আদায়ের নামে, চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে,বিগত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর অনির্দিষ্টকালের জন্য কয়লা চুনাপাথর বিক্রি এবং পরিবহণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাহিরপুরের সীমান্ত এলাকার তিনটি শুল্কস্টেশন বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলীর আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা, নৌ পরিবহণ শ্রমিকরা।

দুর্লভপুর নৌকা ঘাটের ইজারাদার মোহাম্মদ ওয়াহেদ আলী গণমাধ্যম কর্মীর কাছে জানান, আমি চলতি বছর দুর্লভপুর ঘাটটির ইজারা পেয়েছি। টাকা উত্তোলনের জন্য আমাকে জামালগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি চার্ট দেওয়া হয়েছে। চার্ট অনুযায়ী আমার লোকজন টাকা উত্তোলন করছে। আমাদের এই আসনের এমপি রনজিৎ চন্দ্র সরকার আমরা সব ইজারাদারদেরকে ডেকে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন চার্টের বাইরে যেন কোন ধরনের টাকা উত্তোলন না করি। আমরাও আমাদের লোকদেরকে বলে দিয়েছি চার্টের অতিরিক্ত কোনো টাকা না তুলতে।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মুশফিকুন নূর গণমাধ্যম কর্মীর কাছে জানান, জামালগঞ্জের ফাজিলপুর, দুর্লভপুর ঘাটগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী টোল ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা পারভীন জানান, ডাম্পের বাজার, শ্রীপুর, ঘাগড়া, লাউরেরগড় নৌকাঘাট মামলা সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এসব ঘাটে সরকারি বিধি বিধান অনুযায়ী প্রশাসনের লোকজন দিয়েই খাস কালেকশন করা হচ্ছে। এখানে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট নাই। মামলাগুলো নিষ্পত্তি হওয়ার পর ঘাটগুলো ইজারা দেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট রনজিৎ চন্দ্র সরকার বলেন, হাওরের জনপদ নিয়ে চারটি উপজেলা আমার নির্বাচনী এলাকা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যর লীলা ভূমিখ্যাত আমার এলাকাটি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। এই প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে টানা ১৫ বছর এই এলাকায় কয়েকটি সিন্ডিকেট মিলে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। রাতারাতি অনেকেই কালো টাকার পাহাড় গড়েছেন। ইতোমধ্যেই এসব সিন্ডিকেট আমি ভেঙ্গে দিতে সক্ষম হয়েছি। প্রশাসনসহ সকল হাট,বাজার ও নৌকাঘাটের ইজারাদারদেরকে, আমি নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি সকল ঘাটে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে টোল ট্যাক্স আদায় করতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত টাকা আদায় সহ্য করা হবে না। প্রতিটি ঘাটে টোল ট্যাক্স আদায়ের চার্ট টানিয়ে রাখতে হবে। আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের লুটপাট ও চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। কেবল নৌ-পথের চাঁদাবাজি নয় সকল ধরনের অনিয়ম রুখতে অচিরেই ৪টি উপজেলার প্রশাসনকে নিয়ে আলোচনায় বসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১