আপডেট : ৩১ July ২০২৪
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি: সাভারে মৃত এক বিএনপি নেতাকে নাশকতা মামলার আসামি করা হয়েছে। তাঁর নাম আজগর আলী (৫৮)। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় তাঁর নাম এসেছে। অথচ তিনি দেড় বছর আগে মারা যান। পুলিশের দাবি, কম্পিউটারে টাইপিংয়ে ভুলের কারণে এমনটি হতে পারে। পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে চারটি বাস ও একটি ট্রাক পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর পরিবহনের একটি বাস ছিল। গত ২৪ জুলাই সাভার মডেল থানায় ওই বাসের সুপারভাইজার আলমগীর ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে আজগর আলীকে। তাঁর বাবার নাম মৃত আফছার উদ্দিন। ঠিকানা ‘সাভার পৌর এলাকার বি/১১৮ জালেশ্বর’ দেখানো হয়েছে। তবে মামলায় দেখানো ঠিকানায় খোঁজ করে আজগর আলী নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির মালিক মফিজ উদ্দিন জানান, এ বাসায় আজগর আলী নামে কেউ থাকেন না। আগেও কখনও এই নামে কেউ ছিলেন না। আসামির স্ত্রী সোহেলি সুলতানা জানান, ‘আমার স্বামীর নাম আজগর আলী নয়, আজগর হোসেন। তাঁর বাবার নাম আফছার উদ্দিন। ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি মারা যান। তাঁকে আসামি করা হয়েছে জেনে বিস্মিত হয়েছি। আমার স্বামী আশুলিয়া থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পাথালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলেন। বিধবা সোহেলি আক্ষেপ করে বলেন ‘বুঝলাম বিএনপি করার কারণে মরেও শান্তি নেই! উক্ত মামলার আসামির সংখ্যা ৫৩, তাদের অধিকাংশই বিএনপি-জামায়াতের পদধারী নেতাকর্মী। এ প্রসঙ্গে মমলার বাদী আলমগীর বলেন, ‘আমার বাড়ি রাজশাহী থাকি নাটোর। আমি কাউকে চিনি না। কার নামে মামলা দেব। থানা থেকে বলেছে, মামলা না করলে পোড়া গাড়ি পাওয়া যাবে না। পরে বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।’ ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ হিল কাফী জানান, আসামি ও মৃত বিএনপি নেতা আলাদা ব্যক্তি হতে পারেন। হয়তো কম্পিউটারে টাইপিংয়ে ভুলের কারণে এমনটি হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সংশোধন করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। কেবল যে মৃত বিএনপি নেতা মামলার আসামি হয়েছেন তা নয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় পাইকারি হারে আসামি হয়েছেন অনেকেই। সাভার থানায় করা মামলার এজাহারে নানান ভুল ও অসঙ্গতি এসব মানুষের পারিবারিক জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। এ সব মামলায় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এমন ৩০জন কে আসামি করা হয়েছে। এসব দায়ের কৃত মামলার আসামি জানে না তাদের নামে মামলা হয়েছে। অনেকে বলেন ঘটনার দিনতো আমি ওই এলাকাতে যাইনি,,তবুও আসামি হয়ে গেলাম।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১