বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১২ August ২০২৪

অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবীতে লক্ষ্মীপুরে ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের নানা হয়রানি, কলেজে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুল করিমের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। রোববার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে মিছিলটি কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে পুনরায় মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ মাহাবুবুল করিম নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কলেজের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। অধ্যক্ষের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি, আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ, তুচ্ছ কারণে কয়েকজন দরিদ্র কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের সঙ্গে অধ্যক্ষ যে সব অন্যায় অবিচার ও বিমাতাসুলভ আচরণ করেছেন তারও প্রতিবাদ জানান তারা। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করেন অধ্যক্ষ। যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন তাদের কলেজ থেকে বের করে দেয়াসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন তিনি।

একই অভিযোগে শিক্ষকরা কলেজের প্রধান সহকারী মোরশেদ আলমের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষের পদ থেকে মাহাবুবুল করিম পদত্যাগ না করলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ১০শে আগস্ট কলেজের শিক্ষক পরিষদের সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড. মো. আজিম উদ্দিন ও সম্পাদক ড. আবু সিনা ছৈয়দ তারেক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে তারা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে অধ্যক্ষ কলেজে আসছেন না। তার অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক কাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। শিক্ষকরা অধ্যক্ষের অপসারণ ও আর্থিক অনিয়মের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। অধ্যক্ষকে অপসারণ করে দ্রুত নতুন অধ্যক্ষ পদায়ন করে নিয়মতান্ত্রিক কলেজের পাঠদান ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি পেশ করেন।

এ ছাড়াও তারা কলেজের প্রধান সহকারী মোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে তার অপসারণ ও শাস্তি দাবি করেন। একই দাবি জানান কলেজের কর্মচারীরাও।

অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ অধ্যক্ষ মাহাবুবুল করিম বলেন, সরকার পরিবর্তন হয়েছে। আমাকেও বদলি করে দেবে। এখন অন্য শিক্ষকরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে আমাকে অপমানিত করতে চাচ্ছেন। হয়তো শিক্ষকদের মধ্যে কেউ অধ্যক্ষের চেয়ারে বসতে চান। এতে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। কিন্তু আমাকে অপমান করার জন্য তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছি না। আমাকে ছাড়া তারা কীভাবে সভা ডাকে তাও বোধগম্য হচ্ছে না। অনিয়মের ঘটনায় কয়েকজন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছি। এর মধ্যে কয়েকজনকে চাকরি ফিরিয়েও দিয়েছি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১