আপডেট : ৩১ August ২০২৪
ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল ফিকাহ্ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আল-মুকাদ্দাস ও আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ ওয়ালিউল্লাহ ঢাকার সাভারের নবীনগর এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় গত ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী। তাদেরকে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী হানিফ পরিবহন নামের একবাস থেকে র্যাব ও ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় বলে জানা যায়। নিখোঁজের ১২ বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। তবে ওই ২ শিক্ষার্থীর সন্ধান এখনও মেলেনি। তারা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন তা অজানাই রয়ে গেছে। জানা যায়, এঘটনার ২ দিন পর ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ মুকাদ্দাসের চাচা আবদুল হাই রাজধানীর দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং নিখোঁজ ওয়ালিউল্লাহর বড় ভাই খালেদ সাইফুল্লাহ ৮ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া থানায় একটি জিডি করেন। নির্ধারিত ৩ সপ্তাহ সময়ের পর ওই ৯ কর্মকর্তা আদালতকে জানান, তারা দুই ছাত্রের কোনো সন্ধান পাননি। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ মে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি সৈয়দ মাহাবুব হোসেন হাইকোর্টের তলবের আদেশ স্থগিত করে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করতে নির্দেশ দেন। লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে রিট পিটিশনটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর বিচারপতি বজলুর রহমান ও বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কয়েকটি পর্যবেক্ষণসহ রিটটি খারিজ করে দেন। এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া গুমের শিকার ৭৬ জনের তালিকায় তাদের নাম ছিল বলে তথ্য আছে। ছাত্র-জনতার তোপের মুখে সম্প্রতি সরকার পতনের পর নিখোঁজ ২ শিক্ষার্থীর নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের সন্ধান করার দাবি জানাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। এছাড়াও তাদের পরিবার এখনও তাদের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। তারাও একই দাবির কথা বলছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল রহমান বলেন, সরকার পতনের পর ওয়ালিউল্লাহ ও মোকাদ্দেস নামে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ২জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার কথা জেনেছি। এটা ১২ বছর আগের ঘটনা। বর্তমান সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ তাদের সন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। নিখোঁজ মুকাদ্দাসের বাবা আব্দুল হালিম জানান, আমার ছেলে কোথাও বন্দী আছে না কি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে তা আমরা এখনো জানতে পারিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের ঘটনার তদন্তে কমিশন গঠন করেছে সরকার। আশা করি কমিশনের তদন্তের মাধ্যমে আমার ছেলের ব্যাপারে তথ্য পাব।
এছাড়াও নিখোঁজ ২ ছাত্রের পরিবার পুলিশ ও র্যাবসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে ঘুরে তাদের সন্ধান না পেয়ে হাইকোর্টে দুটি রিট পিটিশন করেন। ওই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রিটের শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারপতি আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাদের কেন আদালতে সশরীর হাজির করা হবে না জানতে চেয়ে সরকারের প্রতি রুল জারি করেন। এছাড়াও স্বরাষ্ট্রসচিব ও আইজিপিসহ ৯ কর্মকর্তাকে ৩সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১