বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৫ September ২০২৪

শৃঙ্খলা ফেরানোই চ্যালেঞ্জ


এম এ বাবর:

রাজনীতিতে একজন গৃহবধূ থেকে বেগম খালেদা জিয়া পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠার আখ্যান ছিল বিস্ময়কর। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বয়স ৫৩ আর বিএনপির বয়স ৪৬। এ সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি টেকসই হতে পেরেছে তাঁরই হাত ধরে। কিন্তু হাসিনা শাসনামলে মামলা জটিলতায় দলের সাংগঠনিক কাজকর্মে তাঁর দীর্ঘ দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এ কারণে বিগত দেড় দশকে দলের শৃঙ্খলা অনেকটা তলানিতে পৌঁছে গেছে।

এদিকে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দক্ষ নেতৃত্বের অভাবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে শক্তভাবে মাঠে টিকে থাকতে পারেনি দলটি। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর, মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি ফিরে এসেছে। কিন্তু কেন্দ্র থেকে কঠোর নির্দেশনা থাকার পরও দেশের কিছু এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের চাঁদাবজি, দখল ও বিরোধীদের দমনের অভিযোগে এখন প্রশ্নবিদ্ধ দলের নেতৃত্ব।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে কোনো একটি সরকার পরিবর্তনের পর ব্যক্তির বদল ঘটলেও দুর্নীতি, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি কিংবা দখলের যে পুরনো ব্যবস্থা, সেটার পরিবর্তন খুব একটা হয় না। এবার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও কমবেশি একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, প্রভাব খাটানো এমনকি দখলের মতো অভিযোগ উঠছে, বিশেষত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। আওয়ামী শাসনের ‘ভিকটিম’ হিসেবে বিএনপি এখন জনগণের দল। বিএনপিকে দেখাতে হবে যে তারা আওয়ামী লীগের মতো হবে না। তা হলে তাদের এজেন্ডা কী, ফারাক কোথায়, সেটা পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিতে হবে। নেতা-কর্মীদের সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা থাকতে হবে। সর্বোপরি দলকে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠনের বিষয়টিও দেখতে হবে। দলের শৃঙ্খলা আনতে ব্যর্থ হলে জনগণের আস্থা হারাবে বিএনপি। এতে রাজনীতির নতুন কোনো শক্তি বিএনপিকে পেছনে ফেলে দিতে পারে।

যদিও দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের একটি বিএনপি। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার ভাঙনের মুখে পড়েছে দলটি। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলটি ছন্নছাড়া হতে গিয়েছিল। ১৯৮৩ সালে ভাইস চেয়ারপারসন ও ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন হয়ে দলের হাল ধরেছিলেন খালেদা জিয়া। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি একজন ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান। বলা যায়, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি টেকসই হতে পেরেছে তাঁর হাত ধরে। বিএনপির আগে ও পরে জন্ম নেওয়া অনেক দল খণ্ডবিখণ্ড হয়ে গেছে। তাদের রীতিমতো অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজতে হয়। কিন্তু বিএনপি টিকে গেছে। তবে দলের কিছু নেতা-কর্মীর অপতৎরতায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে।

সম্প্রতি দেশে একটা অভূতপূর্ব গণবিদ্রোহ হয়েছে। তার অনুঘটক হলেন ছাত্ররা। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আবরণে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে দেশের সব স্তরের মানুষ পথে নেমে এসেছিল। ফলে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা হাসিনা সরকারের পতন হয়। এখান থেকেও কি রাজনীতিবিদরা শিক্ষা নেননি। দৃশ্যপটে আপাতত আওয়ামী লীগ নেই। দলের অনেকে গ্রেপ্তার হচ্ছেন, অনেকেই পালাচ্ছেন। বাকিরা গণপিটুনির ভয়ে গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। তবে অনেক দিন ধরেই জনগণ দাবি করছে রাষ্ট্র সংস্কারের। কিন্তু দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি জনগণের সে দাবির প্রতিফলন দেখাতে পারেনি। বরং আওয়ামী লীগ পতনের পর একই কায়দায় দলের নেতা-কর্মীদের ঢাকার বাইরে যেমন দখল, চাঁদাবাজির চিত্র আছে তেমনই একই অভিযোগ আছে ঢাকার ভেতরেও। যদিও বিএনপি সূত্র জানায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর নানা অভিযোগে এখন পর্যন্ত শতাধিক নেতাকে বহিষ্কার এবং পদ স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু দলের কঠোর অবস্থানের পরেও কমেনি নেতা-কর্মীদের অপতৎপরতা।

বাংলাদেশে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে যে পালাবদল ঘটে তার মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি এবং দখলের খবর উঠে আসে গণমাধ্যমগুলোতে। মূলত আওয়ামী লীগের অবর্তমানে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ। সরকার পতনের রাতেই বরিশাল শহরে পুকুর ভরাট করে দখলের অভিযোগ ওঠে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীনের বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে গত ১১ আগস্ট বিলকিস জাহান শিরীনের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, বরিশালের রুপাতলী ও নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল দখলে নিয়েছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে রুপাতলী বাস টার্মিনালের তিন বছরমেয়াদি কমিটি বাদ দিয়ে নিজেই কমিটি গঠন করেছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার। এরপর থেকে মালিক সমিতির ১০১টি বাস থেকে দিনে ২০-২২ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে বলে শ্রমিকদের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালেও মালিক গ্রুপের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। সভাপতি যুবলীগ নেতা ওয়াসীম দেওয়ান এবং কিশোর কুমারকে সরিয়ে নতুন দুই বিএনপিকর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বরিশালের মতোই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকলে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে দখল কিংবা আধিপত্য বিস্তারসহ যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

সরজমিন অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ঢাকা শহরে সবখানেই যে চাঁদা তোলা হচ্ছে এমনটা নয়। মূলত ফুটপাতের হকার, রাস্তার পাশের দোকান, পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব খাতে চাঁদাবাজির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৎস্য ভবন এলাকায় কয়েকজন টং দোকানি জানিয়েছেন তাদের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, গত কয়েক দিনে দুটি গ্রুপ এসে চাঁদা দিতে হবে বলে জানিয়ে গেছে। “গতকালকে একজন আইসা বইলা গ্যাছে, চাঁদা দেওয়া লাগবো। পরে আবার বিকালে আরেক গ্রুপ আইছে। বলছে ট্যাকা এখন থেইকা আমরা উঠামু, অন্য কাউরে দিবা না। আমি পরে কইছি, আপনারা আগে মিটিং কইরা ঠিক করেন কারে দিমু।”

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক মাস্টার ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে কচ্ছপিয়া লঞ্চঘাট, যাত্রী পারাপার সেবাসহ কয়েকটি স্পিডবোট ও যাত্রীবাহী ট্রলার দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ২৯ আগস্ট রাতে লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো. মনির হোসেনের দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হাসিনা সরকারের পতনের পর বাগেরহাটে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দখলে থাকা খাল-নদী হাতবদল হয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের দখলে চলে গেছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন ও হারি (ভাড়া) নিয়ে করা মাছ চাষ করা কয়েক হাজার ঘেরে এমন লুট, দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির নামধারী কিছু ব্যক্তিসহ এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি এসব দখলে জড়িত।
পাবনার ঈশ^রদীতে একটি হাট ইজারার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর হাট থেকে ইজারাদারসহ তার লোকজনকে মারধর করে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেদিন থেকেই হাটের ইজারা তুলছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির নেতা মিলন ইসলামের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কার্যালয় দখল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রেজাউর রহমান ও তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে ২৫ আগস্ট বিএনপি ও কৃষক দলের তিন নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ময়লা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষ হয়েছে। ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার মৌচাক এলাকায় এ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, মৌচাক বাজার সমিতির সভাপতি মাসুদ পারভেজ কয়েক বছর ধরে মৌচাক শিল্পাঞ্চলের প্রতিটি বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহসিন সরকারের ভাই। মাসুদ পারভেজ তার কর্মচারী খাইরুল ইসলামকে দিয়ে ময়লা-বাণিজ্য সামলাতেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ওই ময়লা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন মৌচাক ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি উমর আলী ফারুক। উমর আলী ফারুকের পক্ষের লোকজন খাইরুলের কাজে বাধা দিলে মাসুদ পারভেজ ও তার ভাই মোহসিন সরকার এগিয়ে আসেন।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে ভ্যানচালকের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি হিন্দু পরিবারকে হুমকি দিয়ে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম মোতালেব হোসেন। তিনি তিল্লী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ভুক্তভোগীরা কেউ দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন।

মুন্সীগঞ্জ লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ফেরিঘাট, মাছঘাট ও ট্রলারঘাট দখলে নিয়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তারা বৈধ ইজারাদারের লোকজনকে মারধর করে ঘাট থেকে বের করে দিয়ে সেখান থেকে টাকা তুলছেন। উপজেলার কুমারভোগ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাউসার তালুকদারের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা এ কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা রেডক্রিসেন্টের সাত শতক জায়গা দখল করে সেখানে ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ আগস্ট লোকজন নিয়ে তিনি ওই জায়গা দখল করেন।

চট্টগ্রাম নগরের ঘাটগুলো থেকে গত ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের লোকজন টাকা আদায় করতেন, এখন করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. ওসমান ও তার লোকজন চারটি, বিএনপি সমর্থিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইল ও তার লোকজন দুটি ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। সদরঘাটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন বিএনপি সমর্থক মোহাম্মদ নাছির। নগরের পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাটের দায়িত্ব বুঝে পেয়েছেন পুরনো ইজারাদার। ৭ নম্বর রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি-সংলগ্ন ঘাটের মাঝির কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, এক সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অনেকটাই নাজুক হয়ে পড়েছে। আর এ অবস্থার জন্য দলটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতাই দায়ী। তারেক জিয়া লন্ডন থেকে একটা নির্দেশ দিচ্ছেন, দেশে রিজভী এক ধরনের নির্দেশ দিচ্ছেন, আবার দেখা যাচ্ছে, দলের মহাসচিব আরেক রকম নির্দেশ দিচ্ছেন। এই যে তাদের মধ্যে একটা সমন্বয়হীনতা এবং সেখানে সমন্বিত কোনো নির্দেশনা নেই, পলিসি নেই, উদ্দেশ্য নেই। এতে দলের নেতা-কর্মীরা অনেক সময় বুঝতে পারছেন যে, কার কথা শোনা উচিত। এভাবে দলে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়। এখন বিএনপির সামনে অনেক কাজ। দল গোছাতে ও দলের শৃঙ্খলা আনতে অবশ্যই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। আর সেটা ব্যর্থ হলে তৃতীয় কোনো রাজনৈতিক শক্তি বিএনপিকে পেছনে ফেলে জনগণের আস্থার শীর্ষে পৌঁছে যেতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মান্নান বলেন, বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে অমিল যত, মিল তার চেয়েও বেশি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মিলে বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে পরপর পাঁচবার বিশ^ চ্যাম্পিয়ন করে আমাদের লজ্জায় ডুবিয়েছিল। আমরা দূরের অতীত ভুলে যাই, নিকট অতীতকে মনে রাখি বেশি। এখন আওয়ামী লীগ হচ্ছে জনগণের দুশমন।

তিনি বলেন, ৩১ আগস্ট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে মন্তব্য করায় বগুড়া জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম তাজুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটা মোটেও ঠিক হয়নি। তার মতে, সমালোচকের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের ভুল শুধরে নেওয়া উচিত ছিল। এটুকু সমালোচনা সহ্য করতে না পারলে, দেশের কোটি কোটি মানুষের সমালোচনা ও চাহিদা তারা কী করে পূর্ণ করবেন?

এসব বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর হয়েছে বিএনপি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবেন না। দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনি এতটাই কঠোর হয়েছেন যে কে কত বড় নেতা বা তার কতটা ঘনিষ্ঠ, সে বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না তিনি। যত বড় নেতাই হোন, তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।

তিনি জানান, অপরাধী কেউ যেন বিএনপিতে আশ্রয় নিতে না পারে সে ব্যাপারে দল কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশে চাঁদাবাজ, মাস্তান, দখলবাজ ও অস্ত্রবাজদের জায়গা নেই। আমরা চাই শান্তি। আমরা সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাব। তারেক রহমান ৩১ দফার সংস্কারের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, ওই প্রস্তাবের মধ্যে মৌলিক সমস্যার সমাধান আছে। এই সংস্কারের মধ্যে আমাদের সাথে যারা যুগপৎ আন্দোলনে আছেন, সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১