অধিগ্রহনকৃত জমির মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে হয়রানির অভিযোগ

বামে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলাম, আবু বকর, আক্কাস সরদার। ডানে অভিযুক্ত সোহেল মল্লিক

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

অধিগ্রহনকৃত জমির মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে হয়রানির অভিযোগ

  • দোলন ঢালী, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিত ১৯ অক্টোবর, ২০২১

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বানাতি মৌজায় নৌবাহিনী কর্তৃক অধিগ্রহনকৃত জমির বসতঘরের মূল্য সরকারের ধার্যকৃত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুন করে দেয়ার কথা বলে ব্লাঙ্ক চেক ও তিনশত টাকার স্ট্যাম্প নিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে নৌবাহিনীর কর্মরত সোহেল মল্লিকের বিরুদ্ধে। ভূক্তভোগি প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলাম, আবুবকর, আক্কাস সরদার ও রফিক হাওলাদার এ অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বানাতি মৌজায় নৌবাহিনীর কর্তৃক অধিগ্রহনকৃত জমির বসতঘরের মূল্য সরকারের ধার্যকৃত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুন করে দিবেন বলে ভূক্তভোগিদের কাছ থেকে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা সোহেল মল্লিক ব্লাঙ্ক চেক ও তিনশত টাকার স্ট্যাম্প নেয়। ভূক্তভোগিরা সংবাদকর্মীদের জানান, নৌবাহিনীর কর্মকর্তা সোহেল মল্লিক তাদেরকে বলেন, তার বোন খুশি বেগম পটুয়াখালী এলএ অফিসে কর্মরত তার মাধ্যমে ঘরের মূল্যে বাড়িয়ে দিবে বলে তিনি জানান। ঘরের টাকা দ্বিগুন করে দেওয়ার শর্তে নগদ টাকা না দিতে পারায় ব্লাঙ্ক চেক ও তিনশত টাকার স্ট্যাম্প দিতে বললে আমরা বিশ্বাস করে তাকে ব্লাঙ্ক চেক ও তিনশত টাকার স্ট্যাম্প দেই।

প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলাম জানান, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড এর আমার ব্লাঙ্ক চেক নং এসএ ৩৭৭৪৯৭৪ নম্বরে গত ১৫ অক্টোবর মোসা.খুশি বেগম ষোল লক্ষ টাকার চেক ডিজঅনার করে। এখন আমি চেক ও স্ট্যাম্প দিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছি। কবে জানি আমার জমিও লিখে নেয়। 
প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলাম’র স্ত্রী কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,আমার স্বামী সহজ সরল প্রতিবন্ধী তাকে কি বুঝিয়ে ব্লাঙ্ক চেক ও তিনশত টাকার স্ট্যাম্প নিয়ে গেছে নৌবাহিনীর সোহেল মল্লিক। 

মো.আবু বকর জানান, নৌবাহিনীতে চাকুরি করার সুবাধে সোহেল মল্লিক আমার কাছ থেকে ব্লাঙ্ক চেক ও তিনশত টাকার স্ট্যাম্প নিয়েছে। 

ভূক্তভোগি আক্কাস সরদার ও রফিক হাওলাদার জানান,সোহেল মল্লিক খুলনাতে নৌবাহিনীতে চাকুরি করে,অধিগ্রহনকৃত ঘরের সরকারের মূল্যের চেয়ে দ্বিগুন করে দিবে বলে আমাদের কাছ থেকে ব্লাঙ্ক চেক ও তিনশত টাকার স্ট্যাম্প নেয়। 

তারা আরো বলেন,তার বোন খুশি বেগম পটুয়াখালী এলএ অফিসে চাকরি করে সেসব করে দিবে। এখন আমরা প্রতারনার ফাদে পরে গেছি এখন কি করবো কোথায় যাব কিছু বুঝতে পারছিনা। 

স্থানীয় নান্নু সরদার জানান,নৌবাহিনীতে চাকুরি করে সোহেল মল্লিক এবং তার বোন খুশি বেগম পটুয়াখালী এলএ অফিসে চাকুরি করে এ কথা বলে এলাকার অনেক মানুষের কাছ থেকে ব্লাঙ্ক চেক ও স্ট্যাম্প নেয়।

মোসা.খুশি বেগম’র সাথে তার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি তার সাথে সরাসরি দেখা করার কথা বলে, ফোনে বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

এব্যাপারে সোহেল মল্লিক বলেন,আমার বোনের কাছ থেকে জমি বিক্রির কথা বলে টাকা নিয়েছে। দলিল না দেওয়ার কারনে তাদের বিরুদ্ধে আমার বোন ষোল লক্ষ টাকার মামলা করছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads