ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকায় বেশকিছু দিন ধরে একটি বানরকে মানুষের ঘরের আশেপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। ওই বানরটিকে মানুষের বাড়ি আশপাশে থাকা পাকা আদা পাকা নানা প্রকারের ফলমূল খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। তবে খাদ্যের অভাবে লোকলয়ে চলে এসেছে বলে স্থানীয় অভিজ্ঞ লোকজনরা ধারণা করছেন। এদিকে এলাকার বিভিন্ন গাছগাছালি ও বাড়ি ঘরের আশপাশে দেখা মাত্র বানরের পিছনে তারা দৌঁড়াচ্ছেন। বানরও প্রাণ বাঁচাতে এদিক সে দিক ঘুরছেন। আবার অনেকে দেখা মাত্র দুর থেকে ফলমুল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। লোকালয়ে বানর চলে আসায় এলাকায় ছোটবড় সবার যেন কৌতুহলের শেষ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আখাউড়া পৌর এলাকা খুবই ঘনবসতি এলাকা। পৌর এলাকার আশপাশে নেই কোন বন জংগল। ধারণা করা হচ্ছে সীমান্তবর্তী এলাকা ভারত থেকে হয়তো কোন ভাবে এখানে বানর চলে এসেছে।
গত কয়েক দিন ধরে পৌর শহরের তারাগন, দেবগ্রাম, রাধানগর এলাকার মধ্যে ঘরের চালে, গাছের নিচে কিংবা গাছের ওপরে বসে থাকা অবস্থায় চোখে পড়ছে বানরটি। ছোট ছেলে মেয়েরা দেখা মাত্র ছুটে চলছেন বানরের পিছনে পিছনে। এরপর আর বানরটি গাছে বা ঘরের চালের নিচের অংশে দেখা যায় না।
স্থানীয়দের ধারণা খাদ্যের সংকটে থাকায় হয়তো এই বানরটি বন জঙ্গল থেকে লোকালয়ে চলে আসায় এখন পাড়া-মহল্লায় বানরটির আচমকা উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। কখনো সড়কে, কখনো বাড়ির ছাদে, নয়তো ফলফূল থাকা গাছে বসে বসে নিজের আনন্দে ফলমূল খেয়ে নিজের জীবিকা নির্বাহ করেছেন।
আখাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও রাধানগর এলাকার বাসিন্দা দুলাল ঘোষ বলেন, গত দুদিন ধরে একটি বানর এলাকায় দেখা যাচ্ছে। আজ সকালে আমার বাসার ছাদের মধ্যে বসা অবস্থায় দেখে কলাসহ অন্যান্য ফল খেতে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে ক্ষুধার জ্বালায় বানরটি খাবারের খোঁজে বানরটি লোকালয়ে চলে এসেছে। তবে বানরটি সেখানেই যাচ্ছে সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড়ে-ভীত হয়ে আবার অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছে। এখন পযর্ন্ত কারো কোন ক্ষতি করেনি বলে জানা গেছে।
পৌর শহরের তারাগন এলাকার গৃহিণী শিরিন আক্তার বলেন, গত একদিন আগে একটি বানর তার একটি ফল গাছের মধ্যে দেখতে পান। এক পর্যায়ে বানরটি বাসার ছাদের মধ্যে এসে পড়লে লোকজন ছুটে আসায় এখান থেকে চলে যায়। সোহাগ মিয়া নামে এক সিএনজি অটো রিকশা চালক বলেন, দেবগ্রাম এলাকায় একটি গাছের মধ্যে বানর দেখতে পেয়ে দুর থেকে একটি কেক রাস্তার পাশে রাখলে কিছুক্ষণ পড়ে এসে খেয়ে যায়। বানরটি খাবারের আশায় বারবার মাটিতে নেমে এলেও উৎসুক জনতার ভিড়ে-ভীত হয়ে কোনো গাছের ডালে অথবা বাড়ির ছাদে গিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।
লিমা আক্তার তাদের বাড়ির ছাদে বানরটি গেলে সেই ক্ষুধার্ত বানরটিকে কলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল খেতে দিলেও সেই মনের আনন্দে ফলমূল খান। এছাড়াও আশেপাশে থাকা ফলের গাছ থেকে কুড়িয়ে নিয়ে ক্ষুধার্ত বানরটি খাওয়ার খাচ্ছে। পরে পাশের লোকজন বানরটি দেখে চিৎকার করলে ভয়ে বানরটি পালিয়ে যায়। তারাগন এলাকার শিশু মো. ফারুক মিয়া, আলম মিয়া ও দিদার মিয়া জানায়, গত ২ দিন আগে বাড়ি সংলগ্ন একটি পুকুর পাড়ের গাছের মধ্যে একটি বানর তারা দেখতে পান। এরপর পানরটিতে দেখতে পাশের এলাকা দেবগ্রামে চলে যায়। আমাদের সাথে লোকজন বেড়ে গেলে বানরটি এক গাছ থেকে অন্য গাছ দিয়ে এলাকা ঘুরতে থাকে।
আখাউড়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো. কামাল বাশার বলেন, শুনেছি একটি বানর পাড়া মহল্লার বাসা বাড়ির ছাড়ে গাছে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। এখানে যেহেতু বন জঙ্গল নেই তাই লোকালয় থেকে চলে যাবে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাবারের কারণে বানরটি লোকালয়ে চলে এসছে। তিনি আরও বলেন আমাদের এখানে সরকারিভাবে বানরের খাবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার কিছু নেই। তবে এক জায়গায় স্থায়ী ভাবে থাকলে খাবারের ব্যবস্থা করা যেতো।





