এক মাসে ১১৪ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীসহ গ্রেপ্তার ১৭২

ফাইল ছবি

সারা দেশ

এক মাসে ১১৪ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীসহ গ্রেপ্তার ১৭২

  • কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩ নভেম্বর, ২০২১

গত এক মাসে কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১৪ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীসহ ১৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

এপিবিএন জানায়, মাদক ব্যবসা, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় আরো ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, চার রাউন্ড কার্তুজ, দুই রাউন্ড রাইফেলের গুলি ও ১৪টি রামদা উদ্ধার করা হয়। ১১ হাজার ২৯৪ পিস ইয়াবা, ৪০ গ্রাম গাঁজা, অবৈধভাবে মজুত করা ৬০০ কেজি চাল ও ৮৯ লিটার তেল জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নাইমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীসহ ১৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান চলছে। কাউকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পাঁচটি, ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত পাঁচটি, মাদকের ১৩টিসহ ২৫টি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ৫৯টি মামলা ও ৫৩ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হত্যাকাণ্ড ও অস্থিরতার জন্য নিহতের স্বজনরা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে (আরসা) দায়ী করলেও সরকারি মুখপাত্ররা বলে আসছেন, দেশে আরসার অস্তিত্ব নেই।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) মুখপাত্র রশিদ উল্লাহ বলেন, ক্যাম্পগুলোতে আরসার অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি সরকার এখনো বিশ্বাস না করায় আমরা হতাশ। এই অবিশ্বাসের কারণে একের পর হত্যাকাণ্ড ঘটছে।

মুহিবুল্লাহ এবং বালুখালীর ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদরাসায় আরো ছয়জনকে হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে আরসা সক্রিয় উল্লেখ করে রশিদ বলেন, ক্যাম্পে পুলিশের তৎপরতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা খুশি।

বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মো. রফিক বলেন, সন্ত্রাসীরা এখনো গভীর রাতে এসে ক্যাম্পের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখায়। যে কারণে রোহিঙ্গাদের আতঙ্ক কাটছে না।

আমার ক্যাম্পে ছয়জন নিহত হওয়ার পর লোকজন রাতে ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকে অন্য ক্যাম্পে অবস্থানকারী স্বজনদের কাছে চলে গেছেন। মুহিবুল্লাহর স্ত্রী-সন্তানসহ ১৭টি পরিবারের ৭৩ সদস্যকে ইতোমধ্যে ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে দাবি করে বাংলাদেশি মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন বলেন, বর্তমানে রোহিঙ্গাদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা ও ভয় বিরাজমান।

মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় তার ছোট ভাই হাবিব উল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মাদরাসায় নিহত আজিজুল হকের বাবা নুরুল ইসলাম ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২৫০ জনের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা করেন।

দুই মামলায় ২৪ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে মুহিবুল্লাহ হত্যায় ১০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান নাইমুল হক। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গতি আনতে তিনটি নতুন পুলিশ ক্যাম্প ভবন স্থাপন করে দিচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। এসপি নাইমুলের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পগুলো লম্বাশিয়া, নৌকার মাঠ ও অক্সফামে (ক্যাম্প-৪) স্থাপন করা হবে।

এর মধ্যে লম্বাশিয়া ও নৌকার মাঠ পুলিশ ক্যাম্পের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে উল্লেখ করে এসপি নাইমুল বলেন, ক্যাম্প ভবনগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হলে কর্তব্যরত পুলিশের আবাসন সমস্যার সমাধান হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads