জাতীয়

এখনো মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

চলতি বছরের শুরুতে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতিতে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। ১০ জানুয়ারি হওয়া এই বিধিনিষেধ প্রায় দেড় মাস পরে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এখনো মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মানায় বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই ‘বিধিনিষেধ ‍উঠে গেছে’ কথায় সাধারণ মানুষের কাছে ফের ভুল বার্তা যাচ্ছে। যাতে করে সংক্রমণের এই নিম্নগতির স্থায়িত্ব নিয়ে আবার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

ওমিক্রনে দেশে মহামারিকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে অবশেষে নিম্নমুখী ধারায় ফিরেছে দৈনিক রোগী শনাক্তের হার। কয়েকদিন ধরেই ওমিক্রনের তাণ্ডব কমতে শুরু করেছে। নিম্নমুখিতার শুরুর দিকে দৈনিক শনাক্ত ও শনাক্তের হার কমলেও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল বেশি।

এদিকে করোনা পরিস্থিতির উন্নতির মধ্যেই দেশে গত একদিনে করোনাভাইরাসে শনাক্ত রোগী ও মৃত্যু বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত একদিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৫১৬ জনের। এর আগের দিন করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ২৯৮ জনের। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫১ জনের। করোনায় মৃত্যুও বেড়েছে। নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। এর আগের দিন এই সময়ে পাঁচজনের মৃত্যু তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫ জনের। নতুন নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৩৪টি। এর মধ্যে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশের মধ্যে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা গত ৭ জানুয়ারির পর সর্বনিম্ন।

করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার কয়েক মাস পর সেদিন প্রথমবারের মতো শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে হয় ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এরপর টানা বাড়তে বাড়তে ২০ জানুয়ারি করোনার তৃতীয় ঢেউ নিশ্চিত হয়ে যায়। এদিকে গত ২১ ফেব্রুয়ারিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগের সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় দৈনিক শনাক্ত রোগী ও মৃত্যু-দুটোই কমেছে। অধিদপ্তর সেদিন জানায়, গত সপ্তাহে (১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি) করোনাতে নতুন শনাক্ত ও মৃত্যু তার আগের সপ্তাহের তুলনায় শনাক্ত কমেছে ৫০ শতাংশ আর মৃত্যু কমেছে ৩৬ শতাংশ।

‘করোনার সংক্রমণ এখন নিম্নগামী, কমে যাচ্ছে’ একথা উল্লেখ করেই সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বর্তমান উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, যা করা হয়েছে সেটা চলতে পারে। কিন্তু বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হলো এই কথাটা ভুল বার্তা বহন করবে। মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক বলেন, ব্যক্তিগত এবং সামাজিকভাবে নিয়মকানুন মানতে হবে। স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হলো— সেগুলো জানানো ঠিক আছে, কিন্তু বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হলো এটা বলা ঠিক হয়নি। মহামারি শেষ হয়ে গেছে, তাতো নয়- মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিধিনিষেধের মধ্যেতো মাস্ক পরা রয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বিষয় রয়েছে, এগুলোতো বিধিনিষেধই। কিন্তু বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হলো বার্তায় সংক্রমণ আবারো বাড়তে পারে। মহামারি যতদিন প্রত্যাহার না হয়, ততোদিন বিধিনিষেধ থাকবে- উল্লেখ করে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার বিষয়টি এমনভাবে প্রচার হয়েছে, যেন আর কিছুই করতে হবে না। বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হলো এই তথ্যটা ভুল বার্তা দিচ্ছে মানুষকে।

একই মতো কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলামের। তার কথায়, এর মাধ্যমে একটা নেগেটিভ ম্যাসেজ যাচ্ছে, এটা (বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া) ঠিক হয়নি।

বিধিনিষেধ কখনো কার্যকর ছিল কিনা সে প্রশ্নও করা যায়, মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে বা যাবে। এমনিতেই মানুষ কোনো নিষেধ মানেনি, এরপর সেটা তুলে দেওয়া মানে মানুষকে মুক্ত করে দেওয়া। টেলিভিশনের করোনা বিষয়ক খবরগুলোতে দেখা যায়, হাট-বাজারে কেবল সাংবাদিক ছাড়া কারও মুখে মাস্ক নেই। বিধিনিষেধ থাকার কারণে মানুষের মনের মধ্যে কিছুটা হলেও সংকোচ ছিল, কিন্তু এখন সেটাও নেই। একে বলা হয় রিলিজ ফেনোমেনা এটাই হবে এখন।

এমন সিদ্ধান্তের ফলে ফের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে হুঁশিয়ারি দিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, যেহেতু এখনো মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সরকারকে এ বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করতে হবে। সরকারকে শক্ত অবস্থানে যেতে হবে, মানুষকে বোঝাতে হবে জীবন ও জীবিকার তাগিদে অন্যান্য বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হলেও মাস্ক পরতেই হবে, স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে; এর কোনো ব্যত্যয় নেই।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads