ছবিতে আসফিয়া ইসলাম ও জমি দিতে আগ্রহী মেজবাহ উদ্দীন

সারা দেশ

ভুমিহীন হওয়ায় চাকরি হচ্ছেনা

এবার আসফিয়ার এক খণ্ড নিজস্ব জমি হবে

  • রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর
  • প্রকাশিত ১০ ডিসেম্বর, ২০২১

মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে এমন বির্মষ চেহারা নিয়ে অষ্টাদশী এক নারী পুলিশ হেডকোয়াটারের একটি স্থানে বসে আছে চোখে মুখে অন্ধকার নিয়ে। তার সামনের অন্ধকার গলে কখনো আলো ফোঁটবেনা এমন হতাশায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলনা সে। পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষার সকল বিষয়ে উর্ত্তীন হওয়া আসফিয়া ইসলাম নামে এক নারীর এমনি ছবি সামাজিক মাধ্যমে সামনে আসে। বিমর্ষ এমন একটি ছবি বৃহস্পতিবার দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সব যোগ্যতা অর্জন করার পরও পুলিশে চাকরি হবে না আসফিয়ার এমন অমানবিক বিষয়ও ঘুরছিল সামাজিক মাধ্যমে। তার অযোগ্যতা হলো এ রাষ্ট্রের কোথাও তার পরিবারের এক খণ্ড জমি নাই। এমন একটি অভাবের কারনে মেধাবী আসফিয়া ইসলামের পুলিশে চাকরি আটকে আছে এ বিষয়টি চোখে পড়লে মেধাবী অসহায় আসফিয়া ইসলামের প্রয়োজনীয় এক খণ্ড জমি উপহার নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকার মুদি ব্যবসায়ী মো. মেজবাহ উদ্দীন নামে এক মানবিক মানুষ।

তিনি ওই গ্রামের মৃত কফিল উদ্দীন মেম্বারের ছেলে। আসফিয়া ইসলামের নামে নিজস্ব সম্পত্তি থেকে প্রয়োজনীয় জমি লিখে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে তাকে এ দেশে এক খণ্ড জমির মালিক করে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এ ব্যবসায়ী। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসফিয়া ইসলামকে জমি দিয়ে তার চাকরি নিশ্চিত করতে সকলের সহযোগীতা চান। একটু স্থাবর সম্পত্তি না থাকার জন্য সকল যোগ্যতা থাকার পরও এ রাষ্ট্রের একজন নাগরিক সরকারী চাকরি করতে পারবে না এটা এ সভ্যতার যুগে খুব বেশি বেমানান এমনটি মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। দ্রুত সময়ে এমন নিয়মের শেষটা দেখতে চান বিশিষ্টজনেরা।

জানাযায়, নিজ যোগ্যতার বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগের ৭টি ধাপ পেরিয়ে উত্তীর্ণ হলেও এক খন্ড জমির জন্য চাকরি পাচ্ছে না বরিশাল জেলার সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী আসফিয়া ইসলামের। সে গত বছর এইচএসসি পাস করে কৃতিত্বের সাথে। আসপিয়া ইসলাম বরিশাল জেলার খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের মেয়ে। ছোট থেকেই ওই গ্রামের এক ব্যক্তির দেওয়া আশ্রিত জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে আসফিয়াসহ তার পরিবার। ছোট ভাই পোশাক কারখানার শ্রমিক। সে অল্প আয়েই চলে তাদের সংসার।

আরো জানা গেছে বরিশালে পুলিশ সদস্য (কনস্টেবলের) শূন্য পদে লোক নিতে সেপ্টেম্বরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। অনলাইনে আবেদন করলে গত ১৪, ১৫ ও ১৬ নভেম্বর জেলা পুলিশ লাইনে শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৭ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। ২৩ নভেম্বর প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফলেও উত্তীর্ণ হন। ২৪ নভেম্বর একই স্থানে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় পঞ্চম হন আসপিয়া। ২৬ নভেম্বর জেলা পুলিশ লাইনে চিকিৎসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এতেও উত্তীর্ণ হন। সবশেষ ২৯ নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন হাসপাতালে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। চুড়ান্ত নিয়োগের আগে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আসপিয়া ও তার পরিবারকে ‘ভূমিহীন’ উল্লেখ করা হয়। বুধবার (৮ ডিসেম্বর) জেলা পুলিশ সুপার বরাবর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে ভূমিহীন হওয়ার কারনে (স্থায়ী ঠিকানা না থাকায়) আসপিয়ার চাকরি হবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় ।

ব্যবসায়ি মো. মেজবাহ উদ্দীন জানান, একটু জমির জন্য মেধাবী আসফিয়া ইসলাম নাামে এক নারীর চাকরি হচ্ছে না এমন একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখে পড়ে। এমন একটি খবরে মন খারাপ হয়েছে। রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার পরও শুধু নিজস্ব স্থাপর একটু সম্পত্তি না থাকায় অসহায় মেধাবী মেয়েটির চাকরি হচ্ছে না দেখে তার নামে এক খণ্ড জমি লিখে দিতে চেয়েছি। এতে তার চাকরিটা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ হবে। তিনি বলেন, আমার একটি মেয়ে আছে। পরিবার নিয়ে থাকি।যতটুকু সম্পদ আছে তা থেকে আসফিয়াকে জমি দিয়ে সহযোগিতা করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। তার এমন অসহায়ত্ব আমাকে ব্যথিত করেছে। তাই পরিবারে সঙ্গে কথা বলে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিবারও সম্মতি দিয়েছে। তিনি বলেন গণমাধ্যমের সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আসফিয়া ইসলামকে এ সহযোগিতাটুকু নিশ্চিত করতে চাই। তিনি আরো বলেন দেশে এমন অনেক মেধাবী অসহায় মানুষ আছে যাদের পাশে একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে জীবনটাই পাল্টে যেতে পারে। তাই ধনীরা সাধ্যমত একটু মানবিকতায় এগিয়ে আসলে পৃথিবীটা আরো মানবিক বাসযোগ্য হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads