করোনার টিকাদান কেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

করোনার টিকাদান কেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে

  • ঝিনাইদহ/রূপগঞ্জ প্রতিনিধি 
  • প্রকাশিত ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

করোনাভাইরাস রোগ ও তা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ায় ঝিনাইদহের করোনা টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। ভয়ভীতি কাটিয়ে জেলাসদরসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নিতে আসছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে প্রত্যন্ত গ্রামের তুলনায় পৌর এলাকা ও সন্নিহিত গ্রামগুলোর মানুষ টিকাদান কেন্দ্রে আসছেন বেশি। তারা সকাল থেকেই এসে কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন।

গতকাল সোমবার সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেবাগ্রহীতারা জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর নিয়ে রেজিস্ট্রেশন বুথে যাচ্ছেন। সেখানে স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের নাম রেজিস্ট্রেশন করে টিকার কার্ড সরবরাহ করছেন। সেখান থেকে একটি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিয়ে টিকা গ্রহণ করছেন। টিকা গ্রহণ শেষে সেবাগ্রহীতাদের ৩০ মিনিট সেখানে অবস্থান করছেন তারা।

শহরের হামদহ এলাকার মনিরা পারভীন ও কলাবাগানের সাবিত্রী দাস জানালেন, তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে টিকা নিতে এসেছেন। টিকা নিতে কোনো সমস্যা হয়নি। সবাইকে টিকা নিতে আহ্বান জানান তিনি।

সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, এখন শুধুুমাত্র চল্লিশোর্ধ ব্যক্তিদেরই করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। গত রোববার পর্যন্ত জেলায় ২১ হাজার ২শ ৯৭জনকে করেনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে আর টিকা নিতে নাম রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন ২৯ হাজার ৫৬৩ জন। দিনদিন টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে বলে সিভিল সার্জন জানান।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে করোনার টিকা গ্রহণে মানুষের মধ্যে আগ্রহ বেড়েই চলছে। গণটিকাদান কর্মসূচির শুরুর দিকে টিকাকেন্দ্রে ভিড় কম ছিল। টিকাদানে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না হওয়ায় দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকা গ্রহণের মানুষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুরুষের পাশাপাশি মহিলা টিকা গ্রহীতার সংখ্যাও কম নয়। ৪০ বছর কিংবা তার ঊর্ধ্বে বয়স নির্ধারণ করে দেওয়ায় অনেকেই টিকা গ্রহণ করতে পারছে না। তাতে হতাশাও বাড়ছে। নিবন্ধনের তালিকা বাড়ায় টিকা গ্রহণের তারিখ পেতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। টিকা গ্রহণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চারটি বুথে টিকা প্রদান করছে। রূপগঞ্জে ১১ হাজার মানুষের জন্য টিকার ডোজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৬ হাজার মানুষের মধ্যে টিকা পুশ করা হয়েছে। নিবন্ধন করেছেন ৯ হাজার মানুষ। প্রতিদিন ৭-৮ শত মানুষ টিকা গ্রহণ করছেন। এ হারে টিকা প্রদান করা হলে আগামী ৫-৬ দিন পর তা শেষ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে জরুরিভিত্তিতে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা ডোজ বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।

জানা গেছে, টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে মৃদু জ্বর ও ব্যথা ছাড়া কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। তাতে লোকজনের ভয় কাটছে। নিবন্ধন বাড়ছে। টিকা কেন্দ্রে লোক সমাগমের কমতি নেই। চাপও বাড়ছে। হাসপাতাল ভবনের কক্ষগুলোতে টিকা গ্রহীতাদের ভিড়। হাসপাতাল চত্বরে-মাঠেও ভিড়। সিরিয়ালে টিকা দেওয়া হচ্ছে। নিবন্ধনের কাগজ, মোবাইলের ক্ষুদে বার্তা নিশ্চিত করে টিকা নেওয়ার জন্য বুথে পাঠানো হচ্ছে। ভীতি কেটে গেছে। উৎসাহ উদ্দীপনা বাড়ছেই। আগে দিনে ৪০-৫০ জন টিকা গ্রহণ করতেন। মানুষ এলাকা ও সংগঠন ভিত্তিক দলবেঁধে এসে টিকা গ্রহণ করছেন। এখন প্রতিদিন ৭-৮ শত মানুষ টিকা গ্রহণ করছেন। এক বুথে ১৫০-২০০ জন টিকা প্রদানের কথা থাকলেও তা মানা যাচ্ছে না। বুথ আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরজাহান আরা খাতুন বলেন, টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণের ৮ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করলে শরীর এন্ট্রিবডি তৈরি করে। তাতে ৫৫ ভাগ সফলতা আসে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads