কাল আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ 

প্রতীকী ছবি

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

কাল আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ 

  • রবিউল হক
  • প্রকাশিত ২৫ মে, ২০২১

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ আগামীকাল বুধবার ভোরে উত্তর উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের খুলনা উপকূলীয় এলাকায় প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে আঘাত হানতে পারে। এতে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও বরগুনা জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে। তবে ইয়াসের গতিপথ পরিবর্তন করায় এসব এলাকার ওপর দিয়ে সরাসরি আঘাতের সম্ভাবনা কম থাকলেও দমকা হাওয়াসহ প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ঘূর্ণিঝড়টি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন জানান, বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের কোনো প্রভাব এখনো পড়তে শুরু করেনি। আমরা ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বলতে যেটা বুঝি সেটা আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হবে এবং সারা রাত বাতাসসহ বৃষ্টি পড়তে থাকবে। এরপর বুধবার সকাল থেকে ভারি বর্ষণ শুরু হবে এবং বাতাসের গতিবেগ আরো বাড়তে থাকবে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় দেশের উপকূলীয় অঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হতে পারে। বিশেষ করে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে নিম্নাঞ্চলগুলো। জোয়ারটা হতে পারে পূর্ণিমার কারণে। পূর্ণিমার সময় এমনি জোয়ারের পানি বেশি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের কারণে সেটা আরো স্ফীত হতে পারে। তিনি জানান, ইয়াসের কারণে সাতক্ষীরা, খুলনা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী উপকূল জোয়ারের পানিতে বেশি প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল সোমবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে পরিণত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। সোমবার ভোরে পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের। ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার। তবে এটি আগের অবস্থান থেকে সামান্য সরে গেছে। এজন্য এখন বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে ঝড়টি আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর। যদি আবারো ঘূর্ণিঝড়টি দিক পরিবর্তন করে তাহলে বাংলাদেশের উপকূলের দিকেও আসতে পারে। এক্ষেত্রে ঝড়টি বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও বরগুনা জেলায় আঘাত করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এবং এর আশপাশ এলাকায় সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ইয়াস গতকাল দুপুর পর্যন্ত প্রায় একই এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। কক্সবাজার থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এগিয়েছে। কিন্তু মোংলা ও পায়রা থেকে একই দূরত্বে আছে এখনো। মোংলা বন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা বন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এতে আরো বলা হয়, এখন ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ৬২ কিলোমিটার। এই গতিবেগ দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছের সাগর বিক্ষুব্ধ অবস্থায় আছে। দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে ২ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ভারতের আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ৬০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থান করছে। একইভাবে উড়িষ্যার প্যারাদ্বীপ থেকে ৫৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্বে, বালাসোর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্বে এবং পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব দীঘা থেকে ৬৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। তারা বলছে, এটি খুব সম্ভবত উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হবে। এরপর আরো শক্তিশালী হয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এটি যত উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকবে, তত তীব্র হবে। এটি উত্তর উড়িষ্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে পারে এবং কাল সকালেই উত্তর উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ প্যারাদ্বীপ অতিক্রম কর‍তে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলার গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এক প্রস্তুতি সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান জানান, নতুন করে দিক পরিবর্তন না করলে বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী বাংলাদেশে উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর প্রভাব বাংলাদেশে তেমন পড়বে না বলে আশা করা হচ্ছে। সভায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় নিয়ে পূর্বাভাসের চেয়ে এখন এটি মনিটরিং করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, এখনই মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরানোর প্রয়োজন নেই। নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় দুই নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। সভায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি জানান, দুর্গত এলাকায় অপারেশন রুম অ্যাকটিভ এবং ছোট ছোট উদ্ধার টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে কৃষি অধিদপ্তর বলছে, বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে ২৫ থেকে ২৭ মে বাংলাদেশের ৩০টি জেলায় ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য ফসলের ক্ষতি রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। মাছ ও পশুপাখির জন্য পরামর্শে বলা হয়েছে, পুকুরের চারপাশ জাল দিয়ে ঘিরে দিতে হবে যেন ভারি বৃষ্টিপাতের পানিতে মাছ ভেসে না যায়। আর গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি শুকনো ও নিরাপদ জায়গায় রাখতে বলা হয়েছে।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads