কেরানীগঞ্জের গণটিকা কেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা কেন্দ্রে আজ শনিবার প্রথম ডোজ টিকা প্রত্যাশীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। প্রতিটি কেন্দ্রে ও কেন্দ্রের সামনে সৃষ্ট জটলা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
চুনকুটিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে অতিরিক্ত মানুষের চাপে পড়ে পদদলিত হয়ে কয়েকজন আহত হয়েছে। এ সময় ভিড় সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিপেটা করতে দেখা গেছে। টিকা না পেয়ে ফিরে গেছেন হাজার হাজার মানুষ।
শনিবার দেশব্যাপী এক কোটি মানুষকে গনটিকা দেয়ার কার্যক্রম হাতে নেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের ১২টি ইউনিয়নে স্থাপিত ১২টি গণটিকা কেন্দ্রে ২৪ হাজার টিকা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা কেন্দ্র থেকে ১৫ হাজার টিকা দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, মানুষের মাঝে একটা বিভ্রান্তি ছিল হয়তো আজকে (২৬ ফেব্রুয়ারী) টিকা প্রথম ডোজ প্রদান কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে। এ কারণে টিকা কেন্দ্রগুলোতে মানুষের অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি বলেন, প্রথম ডোজ বন্ধ হবে না। টিকা দিতে ইচ্ছুক একজন মানুষ থাকলেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দুপুরে শুভাঢ্যা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্র থেকে শুরু হয়ে হাজার হাজার নারী পুরুষের দুই লাইন ছাড়িয়ে দেড় দুই কিলোমিটার। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনেও রয়েছে হাজারো মানুষের ভিড়। একই অবস্থা দেখা গেছে আগানগর ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে।
আগানগর এলাকার বাসিন্দা আমেনা বেগম (৮৫) বলেন, সারাদিন লাইনে দাড়িয়েও টিকা পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে চলে যাচ্ছি।
ইমামবাড়ির বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন বলেন, এভাবে সারা দিন দাাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অনেকেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারী ও বয়োবৃদ্ধ লোকজনের কষ্ট হচ্ছে বেশি।
আগানগর ইউপি মেম্বার কামাল আলী বলেন, আমাদের এই কেন্দ্রে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে ২ হাজার টিকা। কিন্তু টিকা প্রত্যাশী অনেক গুন বেশি। যার কারনে অনেকেই টিকা পাননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান জানান, গণটিকা কার্যক্রমের শুরুতে সামান্য ঝামেলা হলেও সুন্দরভাবে কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তবে যে বিভ্রান্তি ছিল সেটা ঠিক না। প্রথম ডোজ প্রদান কার্যক্রম চলমান থাকবে। যারা আজকে টিকা পায়নি, তারাও টিকা পাবে।





