ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গরুর বাহারী নামে সরব হয়ে উঠেছে। কাজল, বাহাদুর, রাজাবাবু, কালো মানিক, টাইগার, ভাগ্যরাজ, শান্তসহ বাহারি গরুর নাম দিয়ে ফেসবুকে আপলোড করে চলছে প্রচার প্রচারণা। তাকে কোন গরুর কত মণ ওজন, তার দাম, ছবি, ঠিকানা বা মোবাইল নাম্বার সবই দেওয়া আছে। সেইসাথে গরুর চলন বলন আর স্বভাবের ওপর ভিত্তি করে রাখা হয়েছে এসব পশুর নাম। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পালনকারীরা এসব নাম রেখে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। ঈদ যতই এগিয়ে আসছে ততই ফেসবুবে সরব হচ্ছে।
এদিকে আবার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অনলাইন ‘ফেসবুক’-এর মাধ্যমে পশু কেনাবেচার প্লাটফর্ম গড়ে তুলেন । সেখানে গরুর ছবি, ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার দিয়ে প্রচার প্রচারণা ব্যাপক ভাবে শুরু করা হয়েছে।
তবে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে চলমান কঠোর বিধি-নিষেধে পশু বিক্রি ও ন্যায্য মূল্য নিয়ে অনেকটাই দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে খামারি ও পারিবারিক ভাবে পালনকারী গৃহস্থরা।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৫০৬ টি খামারসহ, পারিবারিক ভাবে কৃষক তাদের বাড়িতে মোটাতাজাকরনসহ মোট ১৩ হাজার ৮৩২ টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়। এরমধ্যে গরু ১১১৫০টি মহিষ ৩৬৩টি ও ছাগল ভেড়া ২৩১৯টি রয়েছে। সেই সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় সদর উপজেলাসহ অন্যান্য স্থান থেকে আরো ২ থেকে সাড়ে ৩ হাজার পশু আসবে বলে আশা করছেন। এ উপজেলায় যে পরিমান পশু কোরবানি করা হবে তা স্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রাণী সম্পদ অফিস জানায়।
উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ঘোলখার গ্রামের কৃষক মো. সোহাগ ভূইয়া বলেন তার খামারে ফ্রিজিয়ানসহ ৮টি গরু রয়েছে। এরমধ্যে একটি ষাঁড়(গরুর) নাম রেখেছেন তিনি কালো বাহাদুর। এই গরুটি প্রায় ৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও উচ্চতা ৫ ফুট। বয়স তার ৪ বছর। গরুটির রয়েছে ওজন ১হাজার কেজি বা ২৫ মণ। হাঁটা চলার সময় গম্ভীর ভাব নিয়ে পা ফেলে ধীরে ধীরে। সময়ের সাথে তার আকৃতি বেড়ে উঠলেও রয়েছে খুবই শান্ত স্বভাবের। তাই নাম রাখা হয়েছে আখাউড়ার কালো বাহাদুর। এটির দাম হাঁকিয়েছেন সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের ধাতুর পহেলা গ্রামের প্রবাসী মো. রফিক সরকার (মিন্টু মিয়া) তার খামারে অতি যত্ন করে ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় (গরু) লালন পালন করছেন। আদর করে ওই ষাঁড়টির (গরু) নাম রেখেছেন আখাউড়ার টাইগার। কোরবানির ঈদে এই ষাঁড়টি বিক্রি করতে দাম হাঁকিয়েছেন ১০ লাখ টাকা।
ষাঁড়টি শান্ত প্রকৃতির কালো সাদা ঝকঝকে তার শরীর। সময়ের সাথে তার আকৃতি বেড়ে উঠা স্বভাবও যেন টাইগারের মতই। টাইগারের ওজন ২৭ মণ। লম্বা রয়েছে প্রায় ৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও উচ্চতা ৫ ফুট। ষাঁড়টির বয়স ৪ বছর। তার খামারে আরো প্রায় ৪০টি গরু রয়েছে। খামারী আজাদ বলেন, ভাগ্যরাজ নামে একটি গরু ১৫ মণ ওজনের রয়েছে। তিনি দাম হাঁকাচ্ছেন ৭ লাখ টাকা।
খামারীরা জানায়, তাদের খামারে থাকা সব চেয়ে বড় পশু নাম রাখা হলে দ্রুত পরিচয় ও প্রচার ছড়িয়ে পড়ে যায়। কোন গরুর কি বৈশিষ্ট্য তা সহজে জানা যায়।
এমনভাবে পৌর শহরের তারাগন, উপজেলার হীরাপুর, ধাতুরপহেলা, ঘাঘুটিয়া, হারকোট, মিনারকোট, ধরখার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা পশুর খামারে ও গৃহস্থের লালন পালন করা বড় সাইজের গরুর ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নাম রেখে ফেসবুকে প্রচার প্রচারনা চলছে।
এসব বাহারি নামের গরু দেখতে খামারগুলোতে ভিড় করছেন নানান বয়সের মানুষ। দূর দূরান্ত থেকে ছুটে যাচ্ছেন ক্রেতারা। এরমধ্যে কোনটির দাম উঠছে ১২ লাখ , কোন টির দাম ১০ লাখ আবার কোনটি দাম ৭ লাখ, ৫লাখ । আকার ভেদে এসব দাম নির্ধারণ করছে খামারিরা।
এদিকে করোনার কারণে গত সপ্তাহে সাপ্তাহিক পশুর হাট বন্ধ রাখা হয়। খামারীরা আশাবাদি ঈদকে কেন্দ্র করে সামনে পশুর হাট বসবে। পশুর হাট বসলে তারা ন্যায্য দামে তাদের পশু বিক্রি করতে পারবেন। তা না হলে এবছর তাদের অর্ধেকেরও বেশি পশু অবিক্রীত থেকে যাবে। ফলে তাদের বিরাট লোকসান গুনতে হবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাধ্য হয়ে বেশী ভাগ খামরি এ ব্যবসা ছেড়ে দিবে বলে জানায়। খামারিা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সরকার যদি লাকডাইন শিথিল করে এবং সরকারি নির্দেশ মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজারের অনুমতি দেন তাহলে পশু বিক্রি নিয়ে কোন প্রকার সমস্যা তৈরি হবে না।
আখাউড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. কামাল বাশার বলেন, অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও কোরবানির জন্য এ উপজেলায় খামারি ও পারিবারিকভাবে পালনকারী গৃহস্থরা সন্তোষজনক ভাবে পশু প্রস্তুতি রেখেছেন। তাছাড়া
কোরবানির পশু বিক্রি করতে আখাউড়া অনলাইন কোরবানির ‘পশুর হাট নামের ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছে। খামারি ও গৃহস্থরা নিজ আগ্রহে তাদের গরুর ছবি মোবাইল নাম্বার দিয়ে যুক্ত হচ্ছেন। এই প্রচারের মাধ্যমে অনেকেই বিক্রিতে ভালো সারা পাচ্ছেন। এ উপজেলার কৃষক ও খামারিরা দেশীয় পদ্ধতিতে যত্ননিয়ে গরু লালন পালন করছে। চাহিদা অনুযায়ী পশু বেশী রয়েছে। স্থানীয়দের উৎপাদিত পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানো যাবে।





