গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

  • গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা জুড়ে ফসলী জমি থেকে অবৈধভাবে মিনি ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করে জমজমাট বাণিজ্য করে আসছে একটি প্রভাবমালী মহল। এতে আশেপাশের জমি ও সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানেই ফসলী জমি থেকে মিনি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। প্রতিদিনই শতাধিক অবৈধ ড্রেজার দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবাদি জমি গর্ত করে বালু উত্তোলন করে আসছে প্রভাবশালী মহল। এতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওই প্রভাবশালী মহল। সুযোগ পেলেই তারা বালু ও মাটি উত্তোলন শুরু করে। ওই প্রভাবশালী মহল কোন লোকের কথায় কর্ণপাত করে না। এই বালু খেকোরা দিনের পর দিন উপজেলার বিভিন্ন সরকারি রাস্তার খালসহ খাল,বিল, নদী-নালা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে পাকা রাস্তা ও রাস্তার আশে পাশের বাড়ি-ঘর হুমকির মুখে পড়ছে। কয়েক দফায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রথীন্দ্র নাথ রায় সরকারি খাল ও নদীতে ড্রেজার বসানো খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে তিনি তাদের তুলে দিয়েছেন। তারপরও অবাধে বালু উত্তোলন করছে তারা।

একাবাবাসী জানায়, ফসলী জমি থেকে বালু উত্তোলন করলে আসে পাশের জমিতে গর্ত ও সুড়ঙ্গ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আবাদী জমি নষ্ট হচ্ছে। হুমকীর মধ্যে পড়ছে কৃষি। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন। ফসলী জমি থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হলেও এটি ঠেকাতে কোন প্রকার উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। এভাবে বালু উত্তোলন করা হলে এবং দ্রুত এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা না নিলে এক সময়ে কাশিয়ানীতে আবাদী জমি খুজেঁ পাওয়া যাবে না। বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এই উপজেলায় দেখা দিতে পারে খাদ্য ঘাটতি।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলায় শাতাধিক ড্রেজার নিয়মিত প্রতিদিনই বালু ও মাটি উত্তোলন করে আসছে। এরা এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশারীদের ছত্রছায়ায় ফুলে ফেপে উঠছে। এরা প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়ায় থাকায় এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারিদের মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়। তাদের বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি মামলার করা হুমকি দেয় ফলে কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। ফলে প্রতিদিন তারা ফসলী জমি ধ্বংস করে চলেছে। এসব বালু ব্যবসায়ী বালু উত্তোনের জন্য উপজেলা ও জেলা প্রসাশনের কোন প্রকার অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা পর্যন্ত করে না। বছরের পর বছর তারা অবৈধভাবে ফসলী জমি থেকে বালু উত্তোলন করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থাই নেওয়া হয় না। ফলে তারা আইনের তোয়াক্কা না করে অবাধে ফসলী জমি ধ্বংস করে চলছে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে উপজেলার নিন্মাঞ্চল সিংগা, হাতিয়াড়া, নিজামকান্দি, পুইসুর, বেথুড়ী, ওড়াকান্দি, মাহমুদপুর,পারুলিয়া ইউনিয়নের সকল মাঠ পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। এলাকা প্লাবিত হয়ে যাওার সাথে সাথে বেপরোয়া উঠে এসব বালু ববসায়ীরা। তারা ইচ্ছা মত ফসলী জমি থেকে বালু উত্তোলন করে। ফলে এ উপজেলার প্রতিদিনই কৃষি জমি কমছে। ফলে সামনের দিনগুলিতে দেখা দিতে পারে খাদ্য ঘাটতি। এলাকার সচেতন মহলের দাবী দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা না হলে এই উপজেলায় চরম বির্পযয় দেখা দিতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, ইতি পূর্বে বালুর ড্রেজার উচ্ছেদ করতে অভিযান চালানো হয়েছে। আবারও জোরেসোরে ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads