চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে করোনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী দুজন ভর্তির অল্প সময়ের মধ্যে মারা যাওয়ায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। তবে তাদেরও করোনার উপসর্গ ছিল বলে ডাক্তার নিশ্চিত করেছে।
সদর হাসপাতালের করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল শুক্রবার রাতে মুঠোফোনে জানান, ফরিদগঞ্জের গাজীপুর এলাকার রাজাপুর গ্রামের আঃ রব খান (৬৪) বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর হাসপাতালে আসেন। করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তির পর শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন শাহরাস্তির রাফাই এলাকার আমেনা খাতুন (৭৫)। ভর্তির এক ঘন্টার মধ্যে তিনি সেখানে মারা যান। তিনিও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।
এদিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাস্টার বাজার সংলগ্ন পিংড়া এলাকার সুরমা (৩৬) করোনার উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টা ১২ মিনিটের দিকে সদর হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। ভর্তির ৩ মিনিটের মাথায় তিনি মারা যান। তবে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি।
অন্যদিকে হাজীগঞ্জ উপজেলার উড়পুর গ্রামের শফিউল্লাহ (৭০) করোনার উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে সদর হাসপাতালে আসেন। রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান। তারও নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। ডাক্তার জানান, তাদের করোনা নমুনা সংগ্রহ না হলেও তারা সবাই করোনায় মৃত্যুবরণ করেছে।
চাঁদপুর জেলা দেশের অন্যতম করোনা হস্পট জেলার মধ্যে একটি। শুক্রবার চাঁদপুর জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১৯জনের। জেলার ৮ উপজেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৫জন।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪৪জন, মতলব দক্ষিণের ২জন, হাজীগঞ্জের ৮জন, ফরিদগঞ্জের ৯জন, হাইমচরের ১জন ও কচুয়ার ১জন রয়েছেন।
জেলায় করোনায় শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৮৭৮জন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪০জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে ৫৩৮০জনকে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৩৫৮জন। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ৩১জন। বাকীরা হোম আইসোলেশনে আছেন।





