পুঁজি নাই, তাই ব্যবসা করতে পারছেন না। জমি নাই, তাই হতে পারছেন না উদ্যোক্তা। এমন হতাশা নিয়ে বেকারত্ব জীবন বহন করছেন অনেকে। কিন্তু সেই হতাশাকে জয় করে নবাবগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর বাসিন্দা সেকেন্দার বাদশা। তিনি নিজের জমি না থাকার পরেও অন্যের জমি লিজ নিয়ে ফলজ, ওষুধি ও কাঠ জাতীয় গাছের চারা উৎপাদন করে হয়েছেন একজন সফল উদ্যোক্তা। পাঁচ শতক জমি দিয়ে শুরু করে এখন তিনি সাত বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন তার নার্সারি। চারা উৎপাদন করে মাসে তিনি আয় করছেন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়জন শ্রমিক তার নার্সারিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সেকেন্দার বাদশা জানান, ২০ বছর আগে তিনি বেকার জীবন যাপন করছিলেন। পরিবার পরিজন নিয়ে টানাপোড়েনের হতাশায় কাটছিল দিন। প্রকৃতির প্রতি ভালবাসার টানে নিজের জমি না থাকার পরেও বাড়ির পাশে মাত্র পাঁচ শতক অন্যের জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন ফলজ, ওষুধি ও কাঠ জাতীয় গাছের চারা উৎপাদন শুরু করেন। চারার গুণগত মান ভালো থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে তার নার্সারির চারার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আস্তে আস্তে নার্সারির পরিধিও বৃদ্ধি করতে থাকেন। নার্সারির আয়ে এক ছেলে ও এক মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। চারা উৎপাদনে সেরা নার্সারি পুরস্কার পেয়েছেন একাধিকবার। তার নার্সারির চারা এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হয়। বিভিন্ন ওষুধি, আম, লিচু, আনার, মাল্টা, চায়না কমলা, লিবু ও কাঠ জাতীয় গাছের চারাসহ মোট ৩০ প্রজাতির চারা উৎপাদন হয় তার নার্সারিতে।
সামাজিক বন বিভাগের নবাবগঞ্জ বিট কর্মকর্তা খাইরুল আলম বলেন, সেকেন্দার বাদশা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনায়ন কার্যক্রমে বিশেষ ভুমিকা পালন করে আসছেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে সকল প্রকার পরামর্শ দেওয়া হয়।





