জামালপুরে রেকর্ড করোনা রোগী শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১০৩

ফাইল ছবি

সারা দেশ

জামালপুরে রেকর্ড করোনা রোগী শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১০৩

  • জামালপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৮ মে, ২০২০

জামালপুরে নতুন করে রেকর্ড পরিমাণ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, ২২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেলার ৭ টি উপজেলা থেকে কয়েকদিনের সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় ময়মনসিংহের পিসিআর ল্যাবে ৪ জন ও ঢাকার পিসিআর ল্যাবে ১৮ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ ফলাফল পাওয়া যায়। নতুন শনাক্ত এই ২২ জনের মধ্যে জামালপুর সদরে ৪ জন, মেলান্দহে ৪ জন, ইসলামপুরে ১১ জন, মাদারগঞ্জে ১ ও দেওয়ানগঞ্জে ২ জন।

আক্রান্তদের ২২ জনের মধ্যে জামালপুর সদরের ৪ জন হলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ৩ জন স্টাফ ও একজন বড়পীর হাসপাতালের স্টাফ। মেলান্দহের ৪ জন হলেন— ৩ জন পোশাক শ্রমিক ও একজন মেডিকেল এসিস্টেন্ট। ইসলামপুরে ১১ জন হলেন— উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, নার্সিং সুপারভাইজার, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, দুজন স্টাফ নার্স, দুজন ধাত্রী, একজন ধাত্রীর স্বামী, দুজন পোশাক শ্রমিক ও একজন পোশাক শ্রমিকের ছেলে। মাদারগঞ্জে আক্রান্ত একজন হলেন মেডিকেল অফিসার। দেওয়ানগঞ্জে আক্রান্ত দুজনই হাসপাতালের স্টাফ।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান জানান, জামালপুর সদরে করোনা ভাইরাসে নতুন করে ৪ জন শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩ জনই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারী। এদের বয়স যথাক্রমে ৪৩, ২৯ ও ২৬ বছর। অপরজন ২৫ বছর বয়সী বড়পীর হাসপাতালের স্টাফ।

মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলুল হক জানান, মেলান্দহে নতুন করে আক্রান্ত ৪ জনের একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪২ বছর বয়সী মেডিকেল এসিস্টেন্ট। অপর তিনজনই ঢাকাফেরত পোশাক শ্রমিক। এদের মধ্যে একজন নারী পোশাক শ্রমিকের বয়স ৩০ বছর ও অপরজন তার স্বামী। বয়স ৩৫ বছর। এদের বাড়ি দুরমুঠের সুলতানখালি এলাকায়। এছাড়া দুরমুঠের সুরুলিয়া এলাকার আরও একজন পোশাক শ্রমিকের বয়স ১৯ বছর।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এম আবু তাহের বলেন, ইসলামপুরে কয়েকদিনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন ২৬ বছর বয়সী উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ৩৬ বছর বয়সী একজন নার্সিং সুপারভাইজার, ৩৮ বছর বয়সী কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, ৪৯ ও ২৯ বছর বয়সী দুজন স্টাফ নার্স, ৪০ ও ২৪ বছর বয়সী দুজন ধাত্রী, একজন ধাত্রীর ৩১ বছর বয়সী স্বামী, ৩০ ও ২৫ বছর বয়সী দুজন পোশাক শ্রমিক ও একজন পোশাক শ্রমিকের ১২ বছরের ছেলে। ৩০ বছর বয়সী পোশাক শ্রমিকটির বাড়ি বাদাদুরপুর। ২৫ বছর বয়সী নারী পোশাক শ্রমিকের বাড়ি নোটাকান্দা। তার আক্রান্ত ছেলেটি স্কুলছাত্র। তারা ঢাকার বাসাবো এলাকায় থাকতেন। সম্প্রতি বাড়িতে এসেছেন।

মাদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, মাদারগঞ্জে একজন আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩৫ বছর বয়সী মেডিকেল অফিসার।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া বলেন, এ উপজেলায় আজ দুজন আক্রান্ত হয়েছেন। এরা হাসপাতালের স্টাফ।

জামালপুরে নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস বলেন, ৭ মে পর্যন্ত জামালপুরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০৩ জন। এদের মধ্যে সরিষাবাড়ীতে ৮, মেলান্দহে ৯, মাদারগঞ্জে ১২, বকশীগঞ্জে ৫, দেওয়ানগঞ্জে ৬, ইসলামপুরে ২১ ও জামালপুর সদরে রয়েছেন ৪২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯ জন ও মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। মৃত ৩ জনের দুজনের মৃত্যুপরবর্তী নমুনা সংগ্রহ করে পজেটিভ পাওয়া গিয়েছিল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads