ফেরিতে উঠতে গিয়ে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পদ্মায় পড়ে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন এক গৃহবধু ও তার ৪ বছরের শিশু সন্তান। জীবনের ঝুকি নিয়ে মনির হোসেন নামের এক ফেরির অস্থায়ী স্টাফ শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে গৃহবধুকেও উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পাওয়া ওই গৃহবধুর নাম রোকসানা ইয়াসমিন (২৯)। তিনি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার কুশাইসাপুর গ্রামের হাসানুজ্জামানের স্ত্রী। তার শিশু সন্তানের নাম সোহরাব হোসেন (৪)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই গৃহবধু শুক্রবার সকল ৯টার দিকে স্বামীর সাথে দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে নদী পারি দিয়ে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে আমানত শাহ ফেরিতে উঠছিলেন। তার স্বামী ফেরিতে উঠে গেলেই তিনি একটু পেছনে পড়ে যান। এসময় ফেরি থেকে হানিফ পরিবহনের একটি বাস নামছিল। বাসটি নামার সময় তাদেরকে চাপ দিলে জীবন রক্ষায় ওই গৃহবধু পাশে যেতে গিয়ে তার শিশু সন্তানসহ পদ্মায় পড়ে যান। পদ্মার তীব্র স্রোত তাদেরকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় সেখানে কর্মরত ফেরির স্টাফ মনির হোসেন জীবনের ঝুকি নিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করতে লাফিয়ে পড়েন। তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারলেও ওই গৃহবধু ভেসে যাচ্ছিল। বিষয়টি দেখে ফেরিতে থাকা ওই গৃহবধুর স্বামী ফেরি থেকে নদীতে ঝাপ দিয়ে অন্যান্যদের সহযোগিতায় তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। এসময় ফেরিঘাট এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
গৃহবধুর স্বামী হাসানুজ্জামান জানান, তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানি চাকরী করেন। তার স্ত্রী সন্তান রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুরে বাবার বাড়িতে ছিল। তাদের নিয়ে শুক্রবার ঢাকায় যাচ্ছিলেন। এসময় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
ফেরির অস্থায়ী স্টাফ মনির হোসেন জানান, তিনি পন্টুনে ফেরির টিকিট পরীক্ষা করছিলেন। এসময় হঠাৎ ওই গৃহবধু ও শিশুটিকে নদীতে পড়ে যেতে দেখে তাদের উদ্ধার করতে তিনিও নদীথে ঝাপ দেন। কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারলেও গ্রহবধু ভেসে যায়। পরবর্তীতে তাকেও উদ্ধার করা হয়।





