ঢাকার ধামরাইয়ে যাদবপুর বি.এম স্কুল এন্ড কলেজ এর গভর্নিংবডি নির্বাচনে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে উঠেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং আহবায়ক কমিটির সভাপতির কৌশগত অনিয়মতাত্রিকভাবে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছেন। মনগড়া ত্রুটিপূর্ণ এ ভোটার তালিকা দিয়েই নতুন গভর্নিং বডির কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে একাধিত অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী যাদবপুর বি.এম স্কুল এন্ড কলেজে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক আলী হায়দারের একাত্মতায় নতুন গভর্নিংবডি কমিটি গত বছরের ১৮ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক আহবায়ক কমিটির অনুমোদিত হয়।
কমিটি গঠনের পর পরই সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধান মিলিত হয়ে নতুন গভর্নিংবডি কমিটি গঠন করার লক্ষে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করেন। কিন্তু নতুন এ ভোটার তালিকায় বিভিন্ন অনিয়ম করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এ ভোটার তালিকায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে খণ্ডকালীন শিক্ষক এবং কলেজ শিক্ষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।
অপরদিকে দেখা গেছে, অভিভাবক ভোটার তালিকায় ভোটার নম্বরে ভোটারের নাম নাই। কিন্তু ভোটার তালিকায় ভোটার বেশি দেখানো হয়েছে। এমন কি বর্তমান সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক সদস্য শিল্পী আক্তারকে অবৈধভাবে ভোটার করে সদস্য করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে।
বিষয়টি এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম, এরশাদ, আয়নাল হোসেন,মাসুম হোসেনসহ অত্র প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা আক্তারও প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিলেও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে শিল্পী আক্তারকে সদস্য করা হয়। চুড়ান্ত ভোটার তালিকার যে পৃষ্ঠায় শিল্পী আক্তারকে ভোটার দেখানো হয়েছে সেই পৃষ্ঠায় সহকারী প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা আক্তারের স্বাক্ষর ছিল না।
বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক আলী হায়দারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তার দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে তার পছন্দের সভাপতিকে পূনরায় স্কুলের গভর্নিংবডির সভাপতি করতে মরিয়া হয়ে উঠে আলী হায়দার।
এমনকি বিদেশে থাকা অভিভাবকদের পরিবর্তে ওই শিক্ষার্থীদের মায়েদের ভোটার করার কথা থাকলেও তা করা হয় নি। অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগ করলেও ভোটার তালিকায় তাদের নাম উঠেনি। কলেজ শাখায় দু'জন সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে তারা প্রতিষ্ঠান প্রধান আলী হায়দারের কাছের লোক বলে জানা যায়। তার প্রতিদ্বন্দ্বিদের মনোনয়ন পত্র ক্রয় করতেও বাঁধা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।।যাতে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাশ করতে পারে।
৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতির বাবা মা দু'জনই ভোটার হয়েছেন।কিভাবে তা সম্ভব। মা স্কুল শাখায় আর বাবা কলেজ শাখায়। অথচ একজনের ভোটার হওয়ার কথা। এখানেও রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম।
সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শিল্পী আক্তারের ছেলে শাওন স্কুলে পড়ে আর মেয়ে কলেজে। সকল ক্ষেত্রেই বাবা এমারত অভিভাবক। চুড়ান্ত তালিকায় মাকে অভিভাবক বানিয়ে ভোটার করা হয়েছে। এ নিয়ে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।কিন্তু কোন লাভ হয় নি।
কলেজ শিক্ষক কহিনুর রহমান একজন খন্ডকালীন শিক্ষক হওয়া সত্বেও তিনি ভোটার হয়েছেন।অথচ কলেজে তার নিয়োগও বিধি সম্মত নন। তবে তিনি নিজের নিয়োগ সঠিক বলে দাবী করেন।
অপরদিকে খসড়া ভোটরি তালিকায় ৫৭৬ থেকে ৬৭৬ পর্যন্ত নামের তালিকা নাই।ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়া সেই নামের তালিকা কোথায় গেল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব প্রাপ্ত কেউ বলতে পারেননি।
এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আল জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য। আমাদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। কিভাবে একটি প্রতিষ্ঠান ভালো ভাবে চলবে সে বিষয়ে মতামত নেয়া হয়নি।
কুশুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমান যাদবপুর বি এম স্কুল এন্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি ও বর্তমান স্কুলের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামানকে স্কুলের গভর্নিংবডি কমিটির নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।
যাদবপুর বি এম স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার বলেন,নিয়মনীতি মেনে ভোটার তালিকা করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্প‚র্ণ করতে।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আইরিন সুলতানা বলেন, আমরা ভোটার তালিকা দেখে ভোট গ্রহন করেছি।কোন প্রকার ঝামেলা হয় নি। যদি কোন সমস্যা থাকে এটি তাদের প্রতিষ্ঠানের বিষয়।
বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, যাদবপুর বি এম স্কুল এন্ড কলেজের মনোনীত ও নির্বাচিত সদস্যদের ৯ জনের মধ্যে ৬ জনই আমাকে সমর্থন দিয়ে প্রস্তাব পাঠালে ও বর্তমান সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান প্রধান শিক্ষককে চাপ দিয়ে তা করতে দেয়নি। সদস্যরা ভোট দিতে চাইলেও ভোট দিতে দেয়নি।কারণ বিধিতে নাকি ভোট দেওয়ার বিধান নাই।
প্রসঙ্গত, উপজেলার যাদবপুর বি এম স্কুল এন্ড কলেজে ২৮ ডিসেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার গভর্নিংবডি কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার মোট ভোটার ছিল ১৩৫০ জন, ভোট পড়েছে ৭০০ এর মতো।





