নীলফামারী প্রতিনিধি:
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে নীলফামারীর সদরে ১৫ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় শান্তি পূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে।
বুধবার (২৯ মে) সকাল ৮টা থেকে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম ছিল। ভোটের আমেজ নেই কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। অলস সময় কাটাচ্ছেন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ।
কেন্দ্রের বাইরেও সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি একদমেই নেই। সদরের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে কোথাও ভোটারের দীর্ঘ লাইন পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণ পরপর দু-একজন করে ভোটার আসছেন কেন্দ্রে। ফলে নিরিবিলি পরিবেশে ভোট গ্রহন চলছে কেন্দ্রগুলোতে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে অলস সময় পার করছেন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও স্থানীয় ভোটাররা জানান, এখন পুরোদমে ধান কাটার মৌসুম চলছে। নারী-পুরুষ ভোটাররা সমানতালে ধান কাটা, ধান শুকানো, ভূট্টা মাড়াই খড় ও ডাটা শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এজন্য কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবেই কম। তবে তারা জানান, দুপুরের পর নারী ও পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ায় ভোট সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে অন্যাণ্য প্রার্থীরা।
উপজেলার পৌর শহরের উত্তর হাড়োয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ১০ টা পর্যন্দ ভোট পড়েছে ৯৯টা। এ কেন্দ্রের মোট ভোটার ১৮৬২ জন। এখানে সব ভোটারেই পুরুষ।
ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মাসুদার রহমান বলেন, সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এ কেন্দ্রে এক হাজার ৮৬২ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৯৯ ভোট পড়েছে। মানুষ এখন ধান কাটা ও ভূট্টা মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত। একারণে এখন পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি খুবই কম।
এ কেন্দ্রের ভোটার শারীরিক প্রতিবন্ধী পলাশ হোসেন (ভোটার নং-১৮৬২) বলেন, জীবনে এবারসহ তিনবার ভোট দিলাম। আমার নিজস্ব টেলা গাড়িতে করে ছোট ভাইয়ের সহযোগিকায় ভোট কেন্দ্রে এসেছি। তিনি বলেন, ভোট একটি নাগরিক অধিকার আমার ভোট পছন্দের প্রার্থীকে দিতে পেরে খুবেই খুশি।
এদিকে, সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের কালিতলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায়, ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে (এক ঘণ্টায়) ভোট পড়েছে মাত্র ৪০টি। তবে প্রার্থীদের সমর্থক ও ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা কমল কুমার বর্মণ বলেন, বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে।
তিনি বলেন, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার রয়েছে দুই হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক হাজার ৩৯৯ ও নারী ভোটার এক হাজার ৩৩৫ জন। সকালে ভোটার উপস্থিতি খুবেই কম ছিল। বিকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে।
ওই কেন্দ্রের নারী ভোটার মানোদা রায় (৬৫) জানান, বিয়ার পর থেকে ভোট দিয়ে আসছি। স্বামী মরার ২০ বছর হলো কোন ভোটেই বাদ দিয়নি। তিনি বলেন, ভোট নষ্ট করা ঠিক নয়। একটা ভোটের দাম অনেক। একটা ভোটের জন্য একজন হারি যাইতেও পারে আবার জিতিবারও পারে।
সদর উপজেলার ১নং রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আকতারুজ্জামান বলেন, এই কেন্দ্রের নারী ভোটার দুই হাজার ৪৬৫ জন। সকাল ১০টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি খুবেই কম। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ২৫ টি। এতে শতকরা হার দাঁড়ায় ১%।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, সকাল ৮টা থেকে ব্যালটের মাধ্যমে জেলার সদরের ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় শান্তি পুর্ণ ভোট ভোট গ্র্হণ চলছে। স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটের মাঠে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, সদর উপজেলার ১৪১টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ১৩৪জন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লক্ষ ৬৩ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লক্ষ ৮১ হাজার ১৫৬জন ও পুরুষ ভোটার এক লক্ষ ৮২ হাজার ৫৭৮জন।
উপজেলায় মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী চারজন, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পাঁচজন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী চারজন ভোটের মাঠে লড়ছে। মোট ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ বলেন, ভোট গ্রহণকালে নিয়ম বহির্ভূত কর্মকান্ডে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট গ্রহন সম্পন্ন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ জেলা প্রশাসন। এ ব্যাপারে ভোট গ্রহন ও ভোট পরবর্তী তিনদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে।





