পীরগঞ্জে প্রভাবশালীদের বালু উত্তোলন : প্রশাসন নীরব

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

পীরগঞ্জে প্রভাবশালীদের বালু উত্তোলন : প্রশাসন নীরব

  • পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ মার্চ, ২০২০

রংপুরের পীরগঞ্জে করতোয়া নদী ঘেষা বিভিন্ন ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামসহ অর্ধশতাধিক স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা।

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধে মাইকিং করলেও সংঘবদ্ধ কয়েকটি চক্র বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। প্রতিদিন করতোয়া নদী থেকে শত শত মাহিন্দ্র ট্রলি ও ভারী যানবাহনে উত্তোলিত বালু বিক্রি করছে।

গত কয়েক মাস ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি হলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনকে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। দিন রাত বিরতিহীনভাবে ওই বালু পরিবহন করায় ভাঙে পড়ছে কৃষি জমি, পুকুর পাড়, রাস্তা-ঘাট, অপরদিকে ধুলোবালিতে দুষিত হচ্ছে পরিবেশ।

এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বর্ষা মওসুমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময়ের খরস্রোতা করতোয়া নদী বর্তমানে শুকিয়ে গেছে। চতরা, বড় আলমপুর কাবিলপুর ও টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের অর্ধশতাধিক স্থানে এবং নদীর ওপারে দিনাজপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে জোটবদ্ধ হয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। চতরা ইউনিয়নের কুয়েতপুর হামিদপুরের নেংড়ার ঘাটে ৫টি স্থানে শামিম, সুজন, আবু তাহের, বাবু, মজিদ, নজরুল, ছকমল, আব্দুল মজিদ সহ ১৬ জন বালু সন্ত্রাসী জোটবদ্ধ হয়ে একাধিক বোমা মেশিন দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রলি বালু বিক্রি করছে।

ওই স্থানে শামীম মিয়ার (৩৬) নেতৃত্বে বালু সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। বদনাপাড়ার টোংরার দহ সাবু মেম্বার বালু উত্তোলন করছে। এছাড়াও চক ভেকা, নুনদহ ঘাট, কুমারপুরে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখা গেছে। টুকুরিয়া ইউনিয়নে জয়ন্তীপুর ঘাট, সুজারকুটি, মোনাইল, কাঁচদহঘাটে সুলতান মাহামুদ, মাহমুদ, আব্দুস সবুর, গোলাম রব্বানী, সোহরাব, রবিউল বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছে।

এছাড়াও বড় আলমপুরের বাঁশপুকুরিয়ায় পৃথক ১০টি স্থানে মিজানুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে, কাবিলপুর ইউনিয়নের নিজ কাবিলপুর গ্রামের ৫টি স্থানে ইউপি সদস্য স্বপন, জুয়েল, হাসান আলী, আদিল ও বিপু দিনরাত বালু উত্তোলন করছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তহসীলদারদের সাথে বালু উত্তোলনকারীদের বিশেষ চুক্তি রয়েছে। প্রতিমাসে কর্মকর্তারা বালু উত্তোলনকারীদের কাছে চুক্তির টাকা নেয়। এজন্য বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা ভুমি অফিস থেকে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম এ মমিন বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই পদক্ষেপ নেয়া হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি আফতাবুজ্জামান আল ইমরান জানান আমি সদ্য যোগদান করেছি।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান মুঠোফোনে জানান, বালু উত্তোলনে মাইকিং করা সহ মোবাইল কোর্ট ও নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। দ্রুত আরও আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ইনশাআল্লাহ করতোয়া থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে।

এদিকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলী জমি স্থাপনা ধ্বসে নষ্ট হয়ে যাওয়া ছাড়াও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads